চট্টগ্রামের অপরূপ সৌন্দর্য: প্রকৃতি নিয়ে ধারাবাহিক-এর প্রথম পর্ব

চট্টগ্রামে ফটিকছড়ি হাজারিখিল অভয়ারণ্য বন।

লেখা : এস. এম. কাশেম

তৎকালীন ব্রিটিশ গবেষণা ইনস্টিটিউট থেকে ব্রিটিশ গবেষকরা বাংলায় এসে প্রথম যে বন গবেষণা চালিয়েছেন, আমরা তিন বন্ধু – আমি,  নাছির আর আওয়াল সেই বনে।

বাইক নিয়ে প্রকৃতির মাঝে প্রবেশ করি যার শহর থেকে হাটহাজারী হয়ে ফটিকছড়ির গভীর গ্রামের ভিতর হাজারিখিল অভয়ারণ্য বন নামে পরিচিত। যে বন স্বাধীনতার পূর্বে অভয়ারণ্য বন হিসাবে স্বীকৃতি দেওয়ার কথা থাকলেও ২০১০ সালে ঘোষণা দেওয়া হয়।

আরো পড়ুন – ফুলবাড়ীয়ায় আকাশ থেকে পড়লো বিশাল আকৃতির ‘কালো পাথর’

স্থানীয়দের কথা অনুযায়ী এই বনে রয়েছে গরু-ছাগল সহ বিভিন্ন প্রজাতির প্রাণী ১১৭৭ হেক্টর জমি নিয়ে অভয়ারণ্য বন্যপ্রাণটি গঠিত। যাতে আমরা দেখি প্রবেশমুখে চা বাগান। বনের গেটের ভিতরে হোটেলে চা নাস্তা খেয়ে দুপুরের খাবারের অর্ডার দেয়া যায়। আলু ভর্তা ডাল আর মুরগির প্যাকেজটি ১৩০ টাকা। ও হ্যাঁ সাদা ভাত কিন্তু আনলিমিটেড।

আমাদের প্রথম যাত্রা হলেও ব্রিটিশ গবেষকরা দেখেছেন, প্রায় দেড়শ বছর আগে তবে এই বনের গবেষণার কোনো তথ্য নেই বললেই চলে। অথচ এই বনে রয়েছে শত শত পশু পাখির বিচরন।

আগের যুগে হিন্দু সম্প্রদায়ের যে সিঁদুর প্রাকৃতিক গাছ দিয়ে দিত তা এই বনের লাল টুকটুকে সুন্দরী গাছের ফল। যা বানিজ্যিকভাবে উৎপাদন হতো। ফলটি রোগের বহুমুখী ব্যবহার উপযোগী। পাখিদের কিচিরমিচির আগন্তুকদের স্বাগতম জানান দেয়।

এই বনটি হতে পারে বাংলাদেশের গবেষণার আঁতুড়ঘর। নিজের মতো করে গবেষণা করছেন অধ্যাপক ড. কামাল হোসেন ওনার মতে “এখানে কিছু গাছ আছে মেডিসিনের জন্য ভালো আাবার কিছু গাছ আছে বন্যপ্রাণীর খাবার। এই বনে ১০-১২ প্রজাতির ডুমুর ফল দেখেছি।”

আমরা হাঁটতে হাঁটতে হরেক রকমের ফুল দেখি যা ক্যামেরা বন্দি না করে পারলাম না। যদিও বন্ধু আওয়াল ক্যামেরা বন্দি করতে দিচ্ছে না। কারণ সময় ব্যয় না করে লক্ষবস্তু ঝর্ণাতে পৌঁছাতে পাড়ি দিতে হবে অনেক দূর। তাই দায়িত্ব ভাগ করে নিয়েছি পথ খুঁজবে সামনে থেকে প্রয়োজনে কাঁটা পরিষ্কার করবে। আমি যা যা অনুভব করবো নাসির তা ক্যামেরাবন্দি করবে। কথানুযায়ী কাজ, মাঝে মাঝে দুষ্টামী।

প্রকৃতির সাথে ভালোবাসা পুরানো হলেও নতুন নতুন স্বপ্ন জাগে, ইস যদি পারতাম সবুজ ঘেরা বনের মাঝে একটা ছোট গাছ,পাতা আর বৃষ্টির আওয়াজ শোনার জন্য ঘর বানাতাম…।

আমরা যখন ১০০০ ফুট উপরে তখন সাগরের শামুক যেন হাতছানি দিয়ে বলছে এখন তোমরা সমতলে অবস্থান করছো।

ক্লান্তি থাকলেও আমরা স্থির হয়ে স্বস্তি পেলাম। সেই শামুককে কোলে নিতে নাছিরের ক্যামেরাবন্দি। দুইটা শামুককে মনে হলে স্বামী-স্ত্রী; পরস্পর মুখোমুখি যেন সাগরের রোমাঞ্চ পেরিয়ে জমিনের পেরাক পাহাড়ের চুড়ায় প্রকৃতির সাথে রোমান্টিক আদান-প্রদান। এই যুগলকে কোলে করে ঝর্ণার উদ্দেশ্যে রওয়ানা। এবার বেয়ে উটার না, নিছে নামার পালা। তাই মহান স্রষ্টার নামে খাড়া পাহাড় দিয়ে নিছে নামতে হচ্ছে।

গাছ ধরে ধরে নামার সুযোগ নেই বললে চলে। ছোট ছোট বাচ্ছা গাছ তা শুকনাও বটে।

নীচে পানির ছড়ায় ছড়ায় সরুপথ ছোট-বড় রোমাঞ্চকর আর ভেঙ্গে পড়া গাছ, লতা যেন বারবার বাধার সম্মুখীন।

তিনজনের হাতে বাঁশ বা গাছের লাঠিতে ভর দিয়ে জমিনের পেরাকের মাঝখানে দুই পা দুই পাহাড়ে দিয়ে সাবধানে পাড়ি দিয়ে গন্তব্য স্থানে পৌঁছতে সক্ষম হলাম।

ঝর্ণাতে গোসল, আর ইচ্ছেমতো ক্যাপশনে যদিও ইতিমধ্যে সবার মোবাইল বা ক্যামেরাতে পানি বসবাস করছে।

ও হ্যাঁ যাওয়ার সময় আমার দেখা সেরা অদ্ভুত পাথর যার চোখ আছে, তবে তার চোখে পিঠ-পেট উভয় দিখে দেখা যায়। সেই পাথরের চোখে চোখ রাখতে ভুলিনি। দারুন টান টান উত্তেজনা ভাবনা সারা বছর মনে থাকবে।