বন উজাড় করে কয়লাখনির বিরুদ্ধে আদিবাসী সমাজ

বিশ্ব যখন ভয়াবহ পরিবেশ বি`পর্যয়ের মুখোমুখি। বিজ্ঞানীরা যখন ২০২২ কে “টাইম অব নো রিটার্ণ ” বেঁধে দিয়েছেন, অর্থাৎ ২০২২ সালকে এবং কোন কোন বিজ্ঞানীর মতে ২০৩০ এর পর পৃথিবীকে বাঁ`চানোর কোন পথ খোলা থাকবে না। ট্রিলিয়ন ট্রিলিয়ন গাছ লাগাতে হবে এই সময়ের মধ্যে। তখন বাংলাদেশে সুন্দরবন ধ্বং`স করে হচ্ছে বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র, পাহাড় ও জীববৈচিত্র ধ্বং`স করে বাঁশখালি বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র, মহেশখালিতে পাহাড় ও বন ধ্বং`স করে হচ্ছে উন্নয়ন। তেমনি ভারতের বীরভূমে বনভুমি কে`টে কয়লা উত্তোলনের প্রস্তুতি চলছে।  সাধারণ মানুষ এভাবে বৃক্ষ নি`ধন কিছুতেই মেনে নেয়নি। আমাজনের আদিবাসীদের মত বীরভূমের আদিবাসীরাও এর বিরুদ্ধে জেগে উঠেছে।  

ভারতের বীরভূমের গঙ্গারামপুর এলাকায় এক বিশাল বনভূমি আছে। এই এলাকায় নতুন খোলামুখ কয়লার খনির জন্য ২৫০ একর জমি চিহ্নিত করা হয়েছে। সেখানকার বনভূমি কা`টার অনুমতি দেয়া হয়েছে। সেখানে বসবাসরত আদিবাসীদের স্থানান্তর করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। এখানে দু’টো ভুল সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। বনভূমি কাটা এবং আদিবাসী বিতাড়ন। 

বীরভূমের এই জায়গাটিতে রয়েছে বেশ ভাল পরিমাণ ঘন জঙ্গল। শাল, সেগুন, পলাশ, মহুয়া, বহেরা, হরিতকী, আমলকি ইত্যাদি গাছ রয়েছে। নানারকম ভেষজ ওষুধ রয়েছে জঙ্গলে। তেতো স্বাদের এক প্রকার বুনো আলু পাওয়া যায় এই অঞ্চলে। প্রাণীর মধ্যে বুনো শুয়োর দেখতে পাওয়া যায় বেশি। এছাড়া সজারু আছে; খরগোশ, শিয়াল তো আছেই। মোবাইলে প্যাঙ্গোলিনের (পিপীলিকাভুক) ছবি দেখালে জঙ্গলের মধ্যে প্যাঙ্গোলিন দেখেছেন এমন জানান অঞ্চলের সাধারণ আদিবাসী মানুষজন। নানারকমের সাপও রয়েছে প্রচুর।

গ্রামবাসীদের অধিকাংশই জঙ্গল থেকে বহেরা, হরিতকী, পিয়াল ফল, মধু সংগ্রহ করে বাজারে বেচে সামান্য রোজগার করে কোনোমতে চালান। জঙ্গল থেকে শালপাতা সংগ্রহ করে সেলাই করে বিক্রি করেন। পশুপালনের জন্যও তাদের নির্ভর করতে হয় জঙ্গলের ওপরেই। “জঙ্গল চলে গেলে গরু চরানোর জন্য ঘাসও পাওয়া যাবেনা। আর জঙ্গল না থাকলে জঙ্গলের প্রাণীরাই বা কোথায় যাবে? আমরাই বা কোথা থেকে কেন্দু, শালপাতা পাব!”– প্রশ্ন ছুঁড়ে দেন তারা।

দ্বিতীয় যে সমস্যা তা হলো সেখানকার আদিবাসীরা। যেকোন পাহাড় বা জঙ্গলের আসল সুরক্ষা করে এই আদিবাসী জনগোষ্ঠি। পাহাড় জঙ্গল তাদের নিকট দেবতার মত। কারণ এই পাহাড় জঙ্গল তাদের আশ্রয় দেয়, খাবার দেয়। তারা জানে কীভাবে পাহাড় জঙ্গল রক্ষা করতে হয়। 

আমাজনের আদিবাসীরা আন্দোলন করে কর্পোরেট দুনিয়াকে হারিয়ে দিয়েছে। তারা আমাজনে তেল অনুসন্ধান করতে দেয়নি। বীরভূমের আদিবাসীরাও নেমেছে জঙ্গল রক্ষা আন্দোলনে। এবং তাদের সাথে যোগ দিয়েছে সাধারণ মানুষ। 

গত ১৮ জুলাই গ্রামবাসীরা একসাথে জড়ো হয়ে জঙ্গল থেকে আদিবাসীদের তাড়ানোর এই মা`রাত্মক সিদ্ধান্তের তীব্র প্র`তিবাদ করেন।  স্থানীয় মানুষেরা তাদের দাবি ছাড়ছেন না। এটি তাদের জীবন, জীবিকা, বাসস্থান, পরিবেশের সমস্তভাবে ক্ষতি করবে, তাই তাদের পক্ষে এই প্রকল্প মেনে নেওয়া সম্ভব নয়। আগামী ২৫ জুলাই তারা জড়ো হবেন আগামী আন্দোলনের প্রস্তুতি নিতে। অন্যান্য জেলার আদিবাসীসহ সাধারণ মানুষ এসে দাঁড়াচ্ছেন তাদের পাশে, প্রাণ-প্রকৃতির সমর্থনে।