গণমাধ্যম থেকে দূরে কেমন আছেন সাবেক রাষ্ট্রপতি ও প্রধান বিচারপতি সাহাবুদ্দীন আহমদ?

সাবেক রাষ্ট্রপতি ও প্রধান বিচারপতি সাহাবুদ্দীন আহমদ আগামী ১ ফেব্রুয়ারি মাসে নব্বই বছরে পা রাখবেন। স্বাভাবিকভাবেই বয়সের ভারে ন্যুব্জ তিনি। বাইরের  গণমাধ্যম থেকেও থাকছেন দূরে। গুলশান-২-এ ‘গ্র্যান্ড প্রেসিডেন্ট কনকর্ডে’ একটি ফ্ল্যাটে নীরবে-নিভৃতে সময় কাটছে তাঁর। 

রাষ্ট্রপতির একজন নিকটাত্মীয় জানান, ‘২০১৩ সাল থেকে গ্র্যান্ড প্রেসিডেন্ট কনকর্ডে ছোট ছেলে সোহেল আহমেদের সঙ্গে বসবাস করছেন তিনি। সহধর্মিণী আনোয়ারা আহমেদ গত বছর ১৮ জানুয়ারি ঢাকা সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মা`রা যান। তাঁর বয়স হয়েছিল ৮০ বছর। 

আরও পড়ুন: ২০ মিনিটে ফিলিপাইনে দু’বার ভূমিকম্পে নি`হত ৭, আ`হত ৬০

ছেলে-মেয়েদের মধ্যে বড় মেয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিকতা বিভাগের সাবেক অধ্যাপক ড. সিতারা পারভিন ২০০৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগোতে এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় মা`রা যান। ওই দুর্ঘটনায় তাঁর দ্বিতীয় মেয়ে শাহানা স্মিথের স্বামী গুরুতর আ`হত হয়ে পরের বছর মারা যান। 

শাহানা বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রেই রয়েছেন। ছোট মেয়ে সামিয়া পারভীন একজন স্থপতি। তিনি বাস করেন যুক্তরাজ্যে। বড় ছেলে শিবলী আহমেদ একজন পরিবেশ প্রকৌশলী। তিনি যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী। ’

তিনি আরো জানান, শিবলী আহমেদ মাস দুয়েক আগে দেশে এসেছিলেন। সে সময় তিনি জানান, আগামী অক্টোবরের দিকে স্থায়ীভাবে দেশে চলে আসবেন। 

সাহাবুদ্দীন আহমদের শারীরিক অবস্থাও ক্রমে অবনতির দিকে। বার্ধক্যজনিত নানা রোগে ভুগছেন তিনি। বেশি অসুস্থ বোধ করলে কখনো হাসপাতালে নেওয়া হয়, আবার কখনো বাসায়ই আসেন চিকিৎসকরা। সাধারণত সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালের চিকিৎসকরা আসেন বাসায়।

গ্র্যান্ড প্রেসিডেন্ট কনকর্ডের নিরাপত্তাকর্মী মিরাজুল জানান, দুই সপ্তাহ আগে একবার তাঁকে অ্যাম্বুল্যান্সে করে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছিল।

এ ছাড়া জানা যায়, ২০১৭ সালের ৩০ ডিসেম্বর থেকে ২০১৮ সালের ১২ জানুয়ারি পর্যন্ত সাহাবুদ্দীন আহমদ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন।

উল্লেখ্য, সাহাবুদ্দীন আহমদ ১৯৬৭ সালে তিনি ঢাকা হাইকোর্টের রেজিস্ট্রার নিযুক্ত হন। ১৯৭২ সালের ২০ জানুয়ারি তাঁকে বাংলাদেশ হাইকোর্টের বিচারক পদে উন্নীত করা হয়।

১৯৮০ সালের ৭ ফেব্রুয়ারি সাহাবুদ্দীন আহমদকে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের বিচারক নিয়োগ করা হয়। ১৯৭৮ সালের আগস্ট থেকে ১৯৮২ সালের এপ্রিল পর্যন্ত তিনি বাংলাদেশ রেড ক্রস সোসাইটির চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

১৯৯০ সালের ১৪ জানুয়ারি তাঁকে বাংলাদেশের প্রধান বিচারপতি নিয়োগ করা হয়। সাহাবুদ্দীন আহমদের চাহিদা অনুসারে দেশের সংবিধানের এগারোতম সংশোধনীটি আনা হয়। এর ফলে অস্থায়ী রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালনের পরও তিনি ১৯৯১ সালের ১০ অক্টোবর প্রধান বিচারপতির দায়িত্বে সুপ্রিম কোর্টে ফিরে যান এবং ১৯৯৫ সালের ১ ফেব্রুয়ারি প্রধান বিচারপতির পদ থেকে অবসর গ্রহণ করেন।

আরও পড়ুন: গত ২৬ দিনে ডেঙ্গুতে হাসপাতালে ভর্তি ৭ হাজার ৫১৩ জন, বেসরকারি হিসাবে মৃ`ত্যু ৩০

সাহাবুদ্দীন আহমদ আবারও রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় আসেন ১৯৯৬ সালে। দীর্ঘ ২১ বছর পর আওয়ামী লীগ ওই বছর ক্ষমতায় এসে সবার কাছে গ্রহণযোগ্য ব্যক্তি হিসেবে বিচারপতি সাহাবুদ্দীন আহমদকে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত করে। 

১৯৯৬ সালের ৯ অক্টোবর তিনি নির্বাচিত রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন এবং ২০০১ সালের ১৪ নভেম্বর তিনি রাষ্ট্রপতির পদ থেকে অবসর গ্রহণ করেন।