দু’লাখ টাকার ত্রাণ বিতরণে আড়াই লাখ টাকায় হেলিকপ্টার ভাড়া করলেন জিএম কাদের

শনিবার (৩ আগস্ট) সাকুল্যে দুই লাখ টাকার ত্রাণ বিতরণে জিএম কাদের আড়াই লাখ টাকারও বেশি ভাড়ায় হেলিকপ্টার নিয়ে বন্যাকবলিত এলাকায় যান।

এদিন দুপুর ১টায় লালমনিরহাট সদর উপজেলার কাজিচওড়া দ্বিমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ে পৌঁছায় কাদেরকে বহনকারী হেলিকপ্টার। সেখানে ত্রাণ বিতরণ শেষে বিকেল সোয়া ৩টায় ঢাকার উদ্দেশ্যে আবার হেলিকপ্টারযোগে রওয়ানা হন কাদের। হেলিকপ্টার অবতরণ ও উড্ডয়নের জন্য মোতায়েন করা হয় পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের দল। 

প্রসঙ্গত, ১০ জুলাই থেকে প্রায় ১২-১৫ দিন বন্যায় পানিবন্দি ছিল লালমনিরহাট সদর উপজেলার ৫টি ইউনিয়নের তিস্তা ও ধরলা পাড়ের কয়েক হাজার পরিবার। তখন থেকেই বন্যার্তদের মধ্যে সরকারি-বেসরকারিভাবে ত্রাণ বিতরণ চলছিল। এতদিন নিজের নির্বাচনী এলাকায় না এলেও শনিবার আসেন স্থানীয় সংসদ সদস্য কাদের। যদিও বন্যার পানি নেমে যাওয়ায় দুই সপ্তাহ আগেই দুর্গতরা ঘরে ফিরে গেছেন।

এ সময় জিএম কাদের সেখানে ৫০০ পরিবারের মাঝে ১০ কেজি করে চাল বিতরণ করেন কাদের। যদিও সেই চাল পরিমাপ করে অনেকেই ৮-৯ কেজি করে পেয়েছেন বলে দাবি করেছেন। একইভাবে চাল দেওয়া হয়েছে কুড়িগ্রামের ৫০০ বন্যার্ত পরিবারের মাঝেও।

তিস্তা চরাঞ্চল রাজপুর ইউনিয়নের চেংড়ার চরের এনামুল হক (৫২) ও ফারুক মিয়া (৪৮) বলেন,  ‘১৫-১৬ দিন বানের পানিত ভাসলেও এমপির দেখা পাই নাই। পানি নামি যাওয়ার ১৫ দিন পর উড়োজাহাজোত (হেলিকপ্টার) চরি (চড়ে) এমপি আসিল। ভাবচিনো অনেক তেরান পামো (ভাবলাম অনেক ত্রাণ পাবো)। ১৫০ টাকা নৌকা আর ভ্যান ভাড়া দিয়ে আসিয়া তেরান পাইনো ২৫০ টাকার চাউল। এর চেয়া কামলা (দিনমজুরি) দিলে সাড়ে তিনশ’ টাকা পাইনো হয়। হামার দুঃখ কায়ো বুঝে না বাহে।’

একই এলাকার চরখলাই ঘাটের হযরত আলী (৫৫) বলেন, ‘এমরা আইসে মানুষোক দেকপার (লোক দেখানো)। ২৫০ টাকার চাউল নিবার জন্য খরচ হইলো ২০০ টাকা। খাজনার চেয়া বাজনা বেশি বাহে।’