কোহলির ওয়েবসাইট হ্যাক করে ব্যানারে লিটন দাসের ছবি!

ভারতের জাতীয় ক্রিকেট দলের অধিনায়ক বিরাট কোহলির অফিসিয়াল ওয়েবসাইট হ্যাক করেছে হ্যাকাররা। বিশ্বের ভয়ংকরতম এই ব্যাটসম্যানের ওয়েবসাইটে এখন‌ ভারতের বিপক্ষে এশিয়া কাপের ফাইনালে লিটন দাসের বিতর্কিত আউটের সেই ছবি ঝুলছে! ভারতীয় গণমাধ্যম দাবি করছে, বাংলাদেশি হ্যাকাররা এই কাণ্ড ঘটিয়েছে।

গত ২৮ সেপ্টেম্বর দুবাইয়ে এশিয়া কাপের ফাইনালে মুখোমুখি হয়েছিল বাংলাদেশ-ভারত। ম্যাচটিতে দুর্দান্ত ব্যাটিং করে ক্যারিয়ারে প্রথম সেঞ্চুরি তুলে নেন বাংলাদেশি ওপেনার লিটন দাস। বাকী ব্যাটসম্যানদের ব্যর্থতায় বাংলাদেশ যখন বিপদে, তখনই লিটনের বিপক্ষে স্টাম্পিংয়ের বিতর্কিত রায় দেন থার্ড আম্পায়ার। এই আউট নিয়ে সারাবিশ্বে তোলপাড় শুরু হয়।

২০১৫ বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালের দুটি বিতর্কিত সিদ্ধান্ত নিয়ে বাংলাদেশ-ভারতের ক্রিকেটপ্রেমীদের সম্পর্ক আদায়-কাঁচকলায় রূপ নিয়েছে। লিটনের ওই ঘটনার পর আবারও যেন ঘুমন্ত আগ্নেয়গিরি যেন জেগে উঠেছে। তাই এশিয়া কাপে কোহলি না খেললেও ‘প্রতিবাদ’ জানাতে তার ওয়েবসাইটটাই বেছে নিল হ্যাকাররা।
গত ২৯ সেপ্টেম্বরের পর থেকে http://www.viratkohli.club/gallery ওয়েবসাইটটি এখন পর্যন্ত হ্যাকারদের দখলে। এতে আইসিসি এবং ভারতীয় ক্রিকেটপ্রেমীদের প্রতি বার্তা দিয়েছে হ্যাকাররা।

‘সাইবার সিকিওরিটি ইন্টেলিজেন্স’ (সিএসআই) নামের একটি হ্যাকার গ্রুপ এই ঘটনার দায় স্বীকার করে ফেসবুকে পো্স্ট দিয়েছে।

ফেসবুক পোস্টে তারা লিখেছে, ‘আমরা সবাই জানি, ক্রিকেট হলো জেন্টেলম্যানদের খেলা! কিন্তু বাংলাদেশ প্রতিবার এমনভাবে পক্ষপাতিত্ব করার জন্য ব্যর্থ হয়!! যার প্রতিবাদ হিসেবে বিরাট কোহলির অফিসিয়াল ওয়েবসাইট হ্যাক করা হলো এবং সামনে আরও অনেক কিছু হবে!’

এদিকে ওয়েসবাইটে আইসিসির প্রতি এক বিবৃতিতে লেখা হয়েছে, ‘প্রিয় আইসিসি, ক্রিকেট কি ভদ্রলোকের খেলা নয়? প্রত্যেক দলের কি ফেয়ার প্লের সুযোগ পাওয়ার অধিকার নেই? দয়া করে ব্যখ্যা করুন তো, এটা কীভাবে আউট হয়? আপনারা যদি এজন্য অফিসিয়ালি ক্ষমা না চান এবং আম্পায়ারদের শাস্তি না দেন, তাহলে প্রতি মুহুর্তে আপনাদের ওয়েবসাইট হ্যাকড হওয়ার জন্য প্রস্তুত থাকুন!’

ভারতীয় ক্রিকেটপ্রেমীদের প্রতি বার্তা দিয়ে লেখা হয়েছে, ‘ভারতীয় ভাই এবং বোনেরা, আমরা আপনাদের অসম্মান করছি না। দয়া করে ভাবুন তো, এমন ঘটনা যদি আপনাদের দলের সঙ্গে হতো তাহলে কেমন লাগত আপনাদের? প্রতিটি জাতীয় দল আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে সমাধিকার পাওয়ার অধিকার রাখে। আমরা এর শেষ দেখে ছাড়ব।’