মাহবুব উল আলম ছিলেন মুক্তচিন্তার জীবনবাদী চারণসাহিত্যিক

সুহৃদ রহমান:: মাহবুব উল আলম ছিলেন একজন জীবনবাদী কালজয়ী চারণসাহিত্যিক। জীবনব্যাপী তাঁর সাহিত্য সাধনার মূল লক্ষ্য ছিল মানবমুক্তি। বাঙালি মুসলমানের মানস গঠনে ও প্রগতির শিক্ষায় মাহবুব উল আলম ছিলেন অনুকরণীয় আদর্শের নাম। বাংলা সাহিত্য ও ইতিহাস গবেষণায় তাই তাঁর অবদান অনস্বীকার্য।

গতকাল সাহিত্যিক মাহবুব-উল-আলম এর ৩৮তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে নগরীর নাসিবাদ হাউজিং সোসাইটির ২নং রোডে কবি ও কথাসাহিত্যিক মোহীত উল আলম এর বাসভবনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বক্তারা একথা বলেন।

সাহিত্যিক মাহবুব উল আলমের উপর আলোচনা করেন কথাসাহিত্যিক মোহীত উল আলম

একান্ত ঘরোয়াভাবে অনুষ্ঠিত এ আয়োজনের শুরুতে মাহবুব উল আলমের উপর মূল প্রবন্ধ পাঠ করেন কবি ও প্রবন্ধিক আলী প্রয়াস।এরপর সাহিত্যিক মাহবুব উল আলমের জীবন ও সাহিত্য কর্মের উপর আলোচনায় অংশ নেন জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য, কথাসাহিত্যিক মোহীত উল আলম, সমাজচিন্তক অধ্যাপক ড. গাজী সালেহ উদ্দিন, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা ও মানবিদ্যা অনুষদের ডিন, ইতিহাসবিদ অধ্যাপক ড. সেকান্দর চৌধুরী, অধ্যাপক ড. শাহ আলম, আলোকচিত্রী মউদুদ উল আলম, অধ্যাপক মুজিবুর রহমান, অধ্যাপক মইনুল হক, অধ্যাপক রুমানা চৌধুরী, কবি ও গবেষক শামসুল আরেফিন, প্রাবন্ধিক অধ্যাপক আবু সৈয়দ ও আব্দুল্লাহ হায়দার প্রমুখ।

আলোচনায় বক্তরা এই চারণ সাহিত্যিকের জীবন ও কর্মের নানা দিক তুলে ধরে বলেন, অন্তর্ভেদী জীবনজিজ্ঞাসায়, উদার মানবিক চেতনায়, ধর্মীয় ভেদবুদ্ধির বিপরীতে মানব ধর্মের, মানব মুক্তির, মুক্তচিন্তা ও মুক্তবুদ্ধির অন্যতম কথাকার, বিশ শতকের মুসলিম সমাজের সাহসী প্রতিনিধি ছিলেন সাহিত্যিক-সাংবাদিক মাহবুব -উল -আলম। এই জীবনশিল্পীর প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করে বক্তরা আরও বলেন, বাংলায় মুসলিম সমাজের উন্মেষপর্বে এই প্রগতিশীল সমাজ চিন্তক ও অনন্য সাহিত্যিক যে অলোকসামান্য ভূমিকা পালন করেছিলেন আজ তা প্রবাদপ্রতিম। আমাদের সমাজ ও সংস্কৃতির ইতিহাসে মাহবুব-উল- আলম আজ তাই প্রাতঃস্মরণীয়। এই মহাত্মার প্রতি আমাদের ঋণ অপরিশোধ্য।

চট্টগ্রামের বিশিষ্ট আলম পরিবারের সাথে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের গভীর সখ্যতা ছিল এবং মাহবুব উল আলম ও কবি নজরুল একেসাথে প্রথম বিশ্বযুদ্ধে অংশগ্রহণ করার কথা সবিশেষ উল্লেখ করে বক্তরা বলেন- প্রকৃত অর্থে মাহবুব উল আলমই প্রথম বাঙালি মুসলমান সৈনিক-লেখক।

অনুষ্ঠানে বর্ণাঢ্য কর্মজীবনের অভিজ্ঞতায় সমৃদ্ধ, সংবেদী জীবনবাদী কথাশিল্পী, নিভৃতচারী, ও প্রচারবিমুখ জীবনশিল্পী মাহবুব উল আলম এর সৃষ্টিকর্ম নিয়ে আরও বেশি গবেষণা করার প্রতি গুরত্বারোপ করে বলেন, তাঁর অমর সৃষ্টি মফিজনের পাশাপাশি মেধার প্রাখর্যে দেদীপ্যমান এই শতভাগ বাঙালী স্বাধীনতার ইতিহাস তথা মুক্তিযুদ্ধের উপর তাঁর লেখা অনবদ্য গ্রন্থ ‘রক্ত-আগুন অশ্রুজল : স্বাথীনতা’ গ্রন্থটি বাঙালি জাতির অনন্য দলিল হিসেবে অমর হয়ে থাকবে।শিল্প-সাহিত্য-সংস্কৃতি ও সাংবাদিকতা চর্চায় মাহবুব উল আলম আলম তথা আলম পরিবারের অবদান চট্টগ্রাম তথা বাংলা ভাষা ও সাহিত্যে বিশেষ স্থান দখল করে আছে।

অধ্যাপক সুমন হায়াতের নান্দনিক উপস্থানার সান্ধ্যকালীন এই মহতী অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন অধ্যাপক গাজী শাহাদত হোসেন, ব্যাংকার মোদাচ্ছের হোসেন, নাজিম উদ্দিন শৈবাল।