রক্তে ইউরিক অ্যাসিড নিয়ন্ত্রণে করণীয়

সামনে ঈদ। উৎসবে পরে যাবে গরু কিংবা খাসির মাংস খাওয়ার ধুম। কিন্তু যারা নানারকম শারীরিক জটিলতায় ভুগছেন, তাদের খাওয়ার ব্যাপারে একটু সচেতন হওয়া জরুরি। ইউরিক অ্যাসিড নিয়ন্ত্রণে রাখতে কি করণীয় তাই নিয়ে আজকের আয়োজন।

সাধারণত আমাদের শরীরের ইউরিক অ্যাসিড (বর্জ্য) কিডনি ও প্রসাবের মাধ্যমে বের হয়ে যায়। যদি কোনো কারণে কিডনির ছাঁকন প্রক্রিয়া ব্যাহত হয় বা খাবারে অতিরিক্ত পিউরিন গ্রহণ করা হয়, তাহলে ইউরিক অ্যাসিডের লেভেল বেড়ে যায়। ফলে নানা জয়েন্টে ব্যথা অনুভূত হয়।

সকালে ঘুম থেকে উঠে অনেকেই পায়ের পাতা, গোড়ালি বা বৃদ্ধা আঙুলে ব্যথা বা ফুলে যাওয়া সমস্যায় ভোগেন। রক্তে ইউরিক অ্যাসিডের মাত্রা বেড়ে গেলে এমনটা হতে পারে। এসব ক্ষেত্রে চিকিৎসকরা রক্তের ইউরিক অ্যাসিডের মাত্রা পরীক্ষা করার পরামর্শ দেন। শরীরে নানা কারণে ইউরিক অ্যাসিডের মাত্রা বেড়ে যেতে পারে। কিডনির ছাঁকন প্রক্রিয়া ব্যাহত হলে এমন হয়। ডায়াবেটিস, থাইরয়েড, কিডনি রোগ, অতিরিক্ত পিউরিনসমৃদ্ধ খাবার, ওজন, স্ট্রেস, অনিয়মতান্ত্রিক জীবনযাপন, কম ঘুম বা বংশগত কারণে ইউরিক অ্যাসিডের মাত্রা বেড়ে গিয়ে গাট আর্থ্রাইটিস হতে পারে। সুনির্দিষ্ট মাত্রার চেয়ে রক্তের ইউরিক অ্যাসিড বেশি পাওয়া গেলেই প্রয়োজন হয় খাবারের নিয়ন্ত্রণ করা। ইউরিক অ্যাসিডের মাত্রার ওপর ভিত্তি করে চিকিৎসকরা ওষুধ দেন।।

ওষুধ দিয়ে ইউরিক অ্যাসিড কমলেও খাবারের নিয়ম না মানলে তা আবার বেড়ে যেতে পারে।

সাধারণত রক্তের ইউরিক অ্যাসিড বেড়ে গেলে পিউরিনযুক্ত খাবার ও অতিরিক্ত প্রোটিন গ্রহণের ক্ষেত্রে নিয়ন্ত্রণের প্রয়োজন হয়। দ্বিতীয় শ্রেণীর প্রোটিন, বিশেষ করে ডাল ও বিচিজাতীয় খাবার যেমন শিম, বরবটি, মটরশুঁটি ইত্যাদি এড়িয়ে চলা ভালো।

রক্তের ইউরিক অ্যাসিড বেশি বেড়ে গেলে ডিমের কুসুমও কিছুদিন বাদ দেয়া ভালো। সামুদ্রিক মাছও কিছুদিন না খেলে খুব ভালো হবে। তবে প্রোটিনের চাহিদা পূরণে মিঠাপানির মাছ, ডিমের সাদা অংশ, দুধ খাওয়া উচিত। মুরগির মাংস পরিমিত পরিমাণে খাওয়া যাবে। কবুতরের মাংস, লাল মাংস, কলিজা, মগজ এড়িয়ে চলতে হবে। শাকসবজি শরীরের জন্য অনেক উপকারী হলেও বেশকিছু শাকসবজি, বিশেষ করে পিচ্ছিল সবজি ও লাল রঙের সবজি যেমন বিট, টমেটো, গাজর, কচুরমুখি, ঢেঁড়স, পুঁইশাক, পালংশাক ইত্যাদি এড়িয়ে চলতে হবে।

সবুজপানীয় সবজি খাওয়া ভালো। যেমন লাউ, পেঁপে, ঝিঙা ইত্যদি।

মদ্যপান বা অ্যালকোহল, নিকোটিন, ক্যাফেইনজাতীয় বেভারেজ একদম এড়িয়ে চলতে হবে। যেমন চা, কফি, কোমলপানীয়, সিগারেট ইত্যাদি। রক্তের ইউরিক অ্যাসিড বেড়ে গেলে যেকোনো ফল পরিমিত পরিমাণে খাওয়া যাবে।

ওজন বেশি না থাকলে কার্বোহাইড্রেট-জাতীয় খাবার খাওয়া যাবে। কারণ ভাত, আলু, সাদা আটার রুটি, নুডলস ইত্যাদি তেমন ক্ষতিকর নয়। তবে ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে।
পানি ইউরিক অ্যাসিড কমাতে ওষুধের মতো কাজ করে। তাই কিডনিতে কোনো সমস্যা না থাকলে পানি একটু বেশি পান করলে ভালো। ওষুধ, ডায়েট ও নিয়মিত ব্যায়াম ইউরিক অ্যাসিড কমাতে সম্মিলিতভাবে কাজ করে।

তবে রক্তের ইউরিক অ্যাসিড অল্প বাড়লে শুধু খাবার নিয়ন্ত্রণ এবং ব্যায়াম করে কমানো সম্ভব। তাই রক্তের ইউরিক অ্যাসিডের মাত্রা বেড়ে গেলে ওষুধের পাশাপাশি নিয়মিত হাঁটতে হবে এবং খাবার নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। গবেষণা অনুযায়ী, সুস্থ ও ভালো থাকার জন্য সপ্তাহে নিয়মিত ১৫০ মিনিট হাঁটা এবং অন্তত ৬ থেকে ৮ ঘণ্টা পর্যাপ্ত ঘুম প্রয়োজন। ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য প্রতিদিন ৩০ মিনিট হাঁটা, জগিং, সাঁতারকাটা, সাইক্লিং, ইয়োগা করা যেতে পারে