শিশু ধর্ষণ: অভিযুক্ত আ’লীগ নেতা হওয়ায় চার দিনেও মামলা নেয়নি পুলিশ!

গত শনিবার (১৭ আগস্ট) কুড়িগ্রামের রাজীবপুরে তৃতীয় শ্রেণির এক ছাত্রীকে ধর্ষণের ঘটনার পর চার দিন পেরিয়ে গেলেও মামলা নেয়নি পুলিশ। 

অভিযুক্ত ধর্ষণকারী সাখাওয়াত হোসেন (৪০) সরকারি দলের স্থানীয় নেতা হওয়ার কারণে তিনি প্রভাব খাটিয়ে নির্যাতিত পরিবারকে মামলা করতে দিচ্ছেন না বলে জানা গেছে। অন্যদিকে শিশুটির বাবা উপজেলার পাটাধোয়া পাড়া গ্রামের একজন দিনমজুর।

শিশু ধর্ষণের মতো একটি জঘন্য অপরাধ সংঘটিত হওয়ার পর অভিযুক্ত লম্পট প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়ানোর ফলে জনমনে নানা প্রশ্ন ও ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে।

শিশুটির বাবা বলেন, ‘আমরা গরিব মানুষ। আমার অবুঝ মেয়েডার ওপর অমানবিক নির্যাতন করা হইল। থানায় মামলা করতে যামু দেইখ্যা আমার পরিবারের কাউকে বাড়ি থেকে বের হতে দেওয়া হচ্ছে না। মামলা করলে গ্রাম থিকা বের করে দেওয়ার হুমকি দিয়েছে। এ নিয়া বিপদের মদ্দে আছি।’

নির্যাতিত পরিবার ও স্থানীয়দের সূত্র মতে, অভিযুক্ত সাখাওয়াত হোসেন পাটাধোয়া পাড়া ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক। তিনি স্থানীয় এক আওয়ামী লীগ কর্মীকে দিয়ে ঘটনার মীমাংসার জন্য চেষ্টা করছেন। নির্যাতিত পরিবারকে অর্থের লোভ দেখিয়ে চুপ থাকার জন্য হুমকি দেয়া হয়। পরিবারটি যাতে থানায় যেতে না পারে সে জন্য পাহারা বসানো হয়েছে।

এ প্রসঙ্গে অভিযুক্ত সাখাওয়াত হোসেন বলেন, ‘আমি কোনো কথা বলব না। আপনাদের কিছু জানার থাকলে হারুন ভাইয়ের কাছে যান। উনি মীমাংসার জন্য যা দরকার তা করছেন।’ 

তবে হারুন-অর রশীদ অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘আমি মীমাংসার কোনো উদ্যোগ নিইনি। তাছাড়া শিশু ধর্ষণের মতো ঘটনার স্থানীয়ভাবে মীমাংসা করা যায় না।

আরও পড়ুন: কাশ্মীরে নারীদের যৌন হয়রানি করছে ভারতীয় জওয়ানরা

ঢষমারা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. রুহানী বলেন, ‘ঘটনা  জানার পর আমি নির্যাতিত শিশুটির বাড়িতে গিয়েছিলাম এবং তাদেরকে অভিযোগ নিয়ে থানায় আসতে বলেছি। কিন্তু তারা অভিযোগ নিয়ে থানায় আসছেন না।’

সূত্র: কালের কণ্ঠ