বিগত ৭০ বছরে মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ আর্থিক সঙ্কটে ভারত

ভারতের নীতি আয়োগের ভাইস চেয়ারম্যান রাজীব কুমারের মতে, বর্তমান জিডিপির হার ধরে রাখাই দুঃস্বপ্নের মতো হয়ে দাঁড়িয়েছে ভারতের জন্য। তার অভিযোগ, এই পরিস্থিতিতেও সরকার কার্যত ঘুমিয়ে রয়েছে।

রাজীব কুমার জানিয়েছেন, আর্থিক ক্ষেত্রে গত ৭০ বছরে এমন সঙ্কটজনক পরিস্থিতি আসেনি। এই ‘অভূতপূর্ব’ পরিস্থিতির মোকাবেলায় অবিলম্বে চিরাচরিত প্রথার বাইরে বেরিয়ে কোনও পদক্ষেপ না নিলে অর্থনীতির মেরুদন্ডই ভেঙে পড়বে।

অটোমোবাইল সেক্টর ধুঁকছে। বহু কর্মী ছাঁটাই করে বা ছাঁটাইয়ের পরিকল্পনা করে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছে অধিকাংশ সংস্থা। উৎপাদন ক্ষেত্রে ভাটা। নতুন কোনও শিল্প বা বিনিয়োগের রাস্তা তৈরি করা যাচ্ছে না। 

কিন্তু আদপে তার চেয়েও বেশি সঙ্কট ফিনান্সিয়াল সেক্টরে অর্থাৎ আর্থিক শিল্পক্ষেত্রে। নীতি আয়োগের চেয়ারম্যানের বিশ্লেষণ, ‘সরকারের কাছে এটা এক অভ‚তপ‚র্ব পরিস্থিতি। গত ৭০ বছরে মূলধনের এই রকম পরিস্থিতি (সঙ্কটজনক) হয়নি, যেখানে গোটা আর্থিক ক্ষেত্র প্রচন্ড চাপের মধ্যে পড়েছে।’

কিন্তু এই ডুবন্ত পরিস্থিতির কারণ হিসেবে প্রাজ্ঞ অর্থনীতিবিদ রাজীব কুমার বলেন, ‘গোটা চিত্রটা পাল্টেছে গত চার বছরে। নোটবন্দি, জিএসটি এবং দেউলিয়া বিধি পরিবর্তন। তার আগে পর্যন্ত ১০, ২০, ৩০, ৩৫ শতাংশ নগদ বাজারে লেনদেন চলত। কিন্তু এখন সেই পরিমাণ অনকেটাই কমে গিয়েছে।’

এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘কেউ কাউকে বিশ্বাস করতে পারছে না। এই পরিস্থিতি শুধু সরকার ও বেসরকারি ক্ষেত্রের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। বেসরকারি ক্ষেত্রেই একে অন্যের মধ্যে কেউ কাউকে লোন দিতে চাইছে না।’ 

তিনি আরও বলেন, ‘সরকার নিশ্চয়ই বুঝতে পারছে যে সমস্যাটা আর্থিক ক্ষেত্রে। মূলধন হারিয়ে ধীরে ধীরে দেউলিয়া হয়ে যাচ্ছে। সেটা থামানো দরকার।’

ভয়াবহ এই সঙ্কটের ছাপ পড়েছে গ্রস ডোমেস্টিক প্রোডাক্ট বা জিডিপি-তেও। ৩১ মার্চ শেষ হওয়া গত আর্থিক বছরে জিডিপি বৃদ্ধির হার ছিল ৬.৮ শতাংশ। তার মধ্যে জানুয়ারি থেকে মার্চ শেষ ত্রৈমাসিকে এই হার ছিল ৫.৮ শতাংশ। 

মারাত্মক প্রভাব পড়েছে শেয়ার বাজারেও। আর্থিক সমীক্ষক সংস্থা নমুরা পূর্বাভাস দিয়েছে এপ্রিল-জুন এই ত্রৈমাসিকে জিডিপির এই হার আরও কমে নেমে যেতে পারে ৫.৭ শতাংশে। সূত্র : টিওআই।