বাচ্চার ঘন ঘন পেট খারাপ হলে যা করবেন

হজমে সমস্যা হলেই বাচ্চাদের একসঙ্গে অনেক অসুবিধা হয়। পেটে ব্যথা, বমি, গ্যাসট্রাইটিস সব হয় হজমের সমস্যা থেকে। জন্মের ছয় মাস পর থেকেই যদি বাচ্চার খাবার অভ্যাস সঠিকভাবে গড়ে তোলা যায় তাহলেই সুস্থ আর হাসিখুশি থাকবে আপনার সন্তান।

হজমে সমস্যার কারণ

১। এখন দু-তিন বছরের বাচ্চারাও জাঙ্কফুড খাচ্ছে। অতিরিক্ত জাঙ্কফুড এবং বাইরের খাবার খাওয়ার কারণে বাচ্চাদের মধ্যে গ্যাস্ট্রোইসোফেগাল রিফ্লেক্স ডিজিজের সমস্যা দেখা যায়। দুই বছরের বাচ্চা থেকে বড় বাচ্চাদের মধ্যেও তাই হজমের সমস্যা দেখা দিতে পারে। টিফিনে চিপস, ফ্রায়েড স্ন্যাক্স হজমের গোলমাল তৈরি করে সেই সঙ্গে বাচ্চাদের পেটে ব্যথা ও বমি হয়। কিন্তু এতো ছোট বাচ্চাদের হজমের সমস্যা হচ্ছে, সেটা অনেক মা-বাবাই বুঝতে চান না।

২। ঠিকসময় না খেলে এমনকি অধিক সময় খালি পেটে থাকলেও হজমের সমস্যা দেখা দিতে পারে। সকালে নাশতা খেয়ে বাচ্চা স্কুলে গেল। তারপর টিফিন খেলই না। স্কুল থেকে বাড়ি ফিরে ভাত খেল। এই দীর্ঘ গ্যাপের ফলে এসিড সিক্রেশন বাড়ছে এবং গ্যাসট্রাইটিস ডেভেলপ করছে। জাঙ্কফুড থেকে অনেক সময় পেটে ইনফেকশনও হচ্ছে। এ থেকে ডায়রিয়া হতে পারে। বারবার ইনফেকশন হলে বাচ্চার হজম ক্ষমতা কমে যা

৩। কৃমি থেকে পেট ব্যথা হওয়া বোধ হয় বাচ্চাদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি দেখা যায়। আপনার বাচ্চা যা খাচ্ছে তার ওপর কৃমি বেঁচে থাকে এবং বড় হয়। অন্ত্রে থাকাকালীনই কৃমি ডিম পাড়ে এবং সেখান থেকে নতুন কৃমির জন্ম হয়। এভাবেই কৃমির বংশ বৃদ্ধি হতে থাকে। স্টুল টেস্ট করে বোঝা যায় কৃমি হয়েছে কি না।

৪। জিয়ার্ডিয়া এক ধরনের ডাইজেস্টিভ ট্র্যাক্ট ইনফেকশন। যদি কোনোভাবে জিয়ার্ডিয়া লাম্বলিয়া (এক ধরনের প্যারাসাইট) ক্ষুদ্রান্ত্রের ওপরের অংশে বাসা বেঁধে, তখন পেট ব্যথা, পেট খারাপ, বমি হতে পারে। স্টুল টেস্ট করে জিয়ার্ডিয়া নির্ণয় করা হয়। পাঁচ-সাত দিন অ্যান্টিবায়োটিক ওষুধ খাওয়া জরুরি।

প্রতিরোধের উপায়

১। ছয় মাসের পর বাচ্চা প্রথম সলিড ফুড খেতে শুরু করে। ৯ মাস পর্যন্ত দিনে তিনবার সেমি সলিড খাবার খাওয়া জরুরি। ৯ মাসের পর দিনে চারবার সেমি সলিড খাবার খাওয়া উচিত। বাচ্চা সলিড খাবার না খেলে শুধু দুধ খাইয়ে রেখে দেওয়া ঠিক নয়। এতে হয়তো ওজন বাড়বে, কিন্তু বাচ্চার হজম ক্ষমতা গড়ে উঠবে না। পরবর্তীকালে বাচ্চাদের হজমের ক্ষমতা কমে যায়। ছয় মাসে প্রথম সেমি সলিড ডায়েট শুরু করা যায়। হজম হলে তারপর আবার আর সলিড খাবার শুরু করা যায়। এভাবে নতুন খাবার শুরু করবেন। একসঙ্গে সব খাবার শুরু করবেন না। ছয় মাস থেকে দুই বছর পর্যন্ত খাবারটায় আস্তে আস্তে অভ্যস্ত করতে হবে। দুই বছর পর থেকে প্রপার ডায়েটে যেতে হবে।

২ বাচ্চাদের ফুড হ্যাবিটও অনেক সময় হজমের সমস্যা ঘটায়। অনেক মা-বাবাই ভাবেন যে বেশি খেলেই বোধ হয় ভালো। বেশি খাওয়া নয়। ব্যালান্সড ডায়েটটা জরুরি। ভাজাভুজি, তেল-মসলাদার খাবার দিয়ে সারা দিনের খাবারটা সেরে ফেলছি। ঠিকমতো ব্রেকফাস্ট, লাঞ্চ ও ডিনার করাটা খুব জরুরি।

৩। বাচ্চাকে খাওয়ার আগে হাত সাবান দিয়ে ধোয়া, নোংরা হাত মুখে না দেওয়া, হাত-পা ধুয়ে নেওয়া ইত্যাদি ছোট থেকেই শেখানোর চেষ্টা করুন।

৪। কৃমি থাকলে বাচ্চাদের তিন মাস অন্তর কৃমির ওষুধ খাওয়ানো জরুরি।

চিকিৎসা

বাচ্চার স্বাভাবিক হজম ক্ষমতা বজায় রাখার চেষ্টা করা হয়। কিন্তু অনেক সময় ওষুধ দিতেই হয়। ওষুধে এসিড সিক্রেশন কমে যায়। ঠিকসময়ে ওষুধ না খাওয়ানো হলে গ্যাসট্রাইটিস বা গ্যাসট্রিক আলসার ডেভেলপ হতে পারে। বাচ্চাদের খাবারে প্রোটিন, কার্বোহাইড্রেট, ফ্যাট যেন যথাযথ পরিমাণে থাকে। সবজি, ফল যথেষ্ট পরিমাণে রাখুন।