সঠিক পদ্ধতিতে হাঁটুন, সুস্থ থাকুন

সঠিক নিয়মে হাঁটালে উপকার পাবেনই। নিয়ম না জেনে হাঁটলে উপকারের পরিবর্তে শরীরে বিভিন্ন জটিলতার সৃষ্টি হতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, মেদ ঝরাতে গেলে শুধু হাঁটালেই হবেনা মেনে চলতে হবে নিয়ম। অন্যথায় শরীরে বিভিন্ন জটিলতার দেখা দিতে পারে।

আসুন আজকে আমরা জেনে নেই হাঁটার সঠিক নিয়ম।

হাঁটতে হবে সময় মেনে

সপ্তাহে হাঁটতে হবে অন্তত ২৫০ মিনিট। গড় হিসেবে কম করে ৩৫ মিনিটের একটু বেশি। এটুকু হাঁটা শরীরের শুধু মেদ ঝরাবে তা-ই নয়, এই দীর্ঘক্ষণ হাঁটা হার্টের অসুখ ভাল করে। কোলেস্টেরল কমায়। হাঁটাহাঁটির অভ্যাস না থাকলে প্রথমদিকে এক সেকেন্ডে একটা স্টেপ, এই অঙ্কেই হাঁটতে হবে। তারপর হাঁটার অভ্যাস হলে সেকেন্ডে দুটো স্টেপের হিসেবে হাঁটতে হবে। আর অবশ্যই হাঁটতে হবে একটানা রাস্তা ধরে। বারবার থমকে, ঘনঘন দিক বদলে হাঁটার চেয়ে টানা হাঁটায় উপকার বেশি। তাই বাড়ির ছাদে বা লনে নয়, রস্তা ধরে হাঁটতে হবে।

এছাড়া, এমন কোনও রাস্তা বাছুন, যেখানে ধোঁয়া, যানজট, বড়সড় গাড়ির উপস্থিতি প্রায় নেই। গলিপথগুলো হাঁটার জন্য ভাল। বারবার হাঁটার সময় গাড়িঘোড়ার উপদ্রবে দাঁড়াতে হলে তা হাঁটায় বিঘ্ন ঘটায়। আর যানবাহনের ধোঁয়া শরীরের জন্যও ভাল নয়।

দলবেঁধে হাঁটতে বের হবেন না

অনেকেই এইসময় গল্প করতে করতে হাঁটেন। কথা না বললেও দলছুট হয়ে যাওয়ায় অনেকে হাঁটার গতি শ্লথ করে ফেলেন। এই অভ্যাসগুলো হাঁটার পথে বাধা হতে পারে। আবার মোবাইল ফোনে কথা বলতে বলতেও হাঁটবেন না। এতে হাঁটার গতি শ্লথ হয় ও হাঁপিয়ে গিয়ে বেশি দূর হাঁটা যায় না।

দুশ্চিন্তা বা উদ্বেগ বাড়াবে এমনকিছু ভাবতে ভাবতে হাঁটা চলবে না

বরং সেসব ঠেকাতে ওই সময়টা ইয়ারফোন বা হেডফোনে গান শুনুন। এতে ফিল গুড হরমোনের জোগান যেমন বাড়বে, তেমনই হাঁটার গতি কমবে না। তবে ব্যস্ত রাস্তা, যানজটের পথে হাঁটলে হেডফোন অবশ্যই এড়িয়ে চলুন।

ব্যবহার করুন সঠিক জুতো

হাঁটার সময় কী ধরনের জুতো পরছেন, তার দিকে খেয়াল রাখুন। পায়ের আরাম হয়, এমন জুতো পরুন। অনেকটা রাস্তা হাঁটা যায়, এমন স্পোটস শু বা পাম্পশু পরতে পারলেও ভাল।

বোঝা নিয়ে ও ভরা পেটে হাঁটবেন না

এতে ক্লান্তি বাড়বে, বেশিক্ষণ হাঁটা সম্ভব হবে না। হাঁটার নির্দিষ্ট কোনও সময়ও নেই। সকালে সময় না পেলে বিকেলে বা সন্ধেয় হাঁটুন। রাতে খাওয়াদাওয়ার পরেও হাঁটতে পারেন। তবে খুব ভরাপেটে আবার একেবারে খালিপেটে হাঁটবেন না।

বিশেষক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন

পায়ে বা হাঁটুতে চোট থাকলে বা কোমরের সমস্যায় ভুগলে অবশ্যই হাঁটার আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। দিনে কতটুকু হাঁটলে আপনার হাড় ও স্নায়ু তা সইতে পারবে, তা জেনে তবেই হাঁটাহাঁটি শুরু করুন।