বিবিধ সাহা’র সন্নিকটে | আফসারা মীমের ডায়েরি

বিবিধ সাহা’র সন্নিকটে
২৭’ফেব্রুয়ারি (বসন্তের বর্ষাবরণ)/১৮

[su_dropcap size=”5″]যে[/su_dropcap] স্বাতন্ত্রবোধের প্রকাশ সেদিন শব্দ সংকটে ভুগছিলো, সে বোধটাই বৈচিত্র অনুভূতি নিয়ে উপচে পড়ছে অক্ষরে, কথায়, কবিতা আর নির্দিষ্ট কয়েকটা গানের লিরিক্সে! বলেছিলেন বাঁচতে হবে, বাঁচতে বাঁচতে যখন টের পাচ্ছি খুব দ্রুত সে বাঁচার বেলা ফুরিয়ে এসেছে তখন প্রেমিকের হাতে খুন হবার প্রকট ইচ্ছে গাঢ় হয়ে ধরা পড়ছে আমার ঝাপসা কাচের জানালায়। দেখুন কী বিবর্ণ! কী অনিশ্চয়তার ভেতর বয়ে চলেছি আমরা, বয়ে বেড়াচ্ছি আপাদমস্তক মেরামতহীন কামরা! যে কামরা জুড়ে নৈরাজ্যবাদী আর অবিশ্বাসী দুটো মানুষ (অথচ বিশ্বাস করতে থাকি একটি মানুষ) নকশা আঁকছে সময়ের। ভূত অদ্ভুত আমার জীবনে, বিশ্বাস নেই অথচ ভয়ে শিথিল থাকি, ওয়ান কাইন্ড অফ অ্যাফিনিটি রাইট? আপনি যখন হন্য হয়ে তুমি খুঁজছেন এবং কাপ্তানবাজারে না পেয়ে কদর করছেন টাকার ঘোরতর আত্মবিশ্বাস নিয়ে যে হোলি কিংসে পেয়ে যাবেন, সেটাও এক অর্থে ভূত ভয় পাবার মতো বিষয় বিশ্বাস করুন। [su_pullquote align=”right”]ঈশ্বর পৃথিবী সৃষ্টি কেনো করেছেন বা আদৌ করেছেন কিনা সেসব প্রশ্ন এবং উত্তর উভয়ই আসছে আমাদের ভেতর থেকে। আমরা নিজেরা নিজেদের প্রশ্ন করছি, উত্তর দিচ্ছি, শুনছি, ভাবাচ্ছি।[/su_pullquote]বিশ্বাস করুন আমার কথা; আমাদের প্রত্যেকের মরে যেতে ইচ্ছে করে সময়ে অসময়ে। আরো বিশ্বাস করুন, আমরা তুমি আপনিতে আটকে আছি, আটকে আছি ভ্যাপসা বা স্যাঁতসেঁতে গন্ধে। ঈশ্বর পৃথিবী সৃষ্টি কেনো করেছেন বা আদৌ করেছেন কিনা সেসব প্রশ্ন এবং উত্তর উভয়ই আসছে আমাদের ভেতর থেকে। আমরা নিজেরা নিজেদের প্রশ্ন করছি, উত্তর দিচ্ছি, শুনছি, ভাবাচ্ছি। আমরা নির্ভরশীল হতে চাইছি নিজেদের সাথে পারছি না, অভিনয় করছি পারার আবার একই সাথে চাইছি না পারতে। আমাদের মরে যেতে ইচ্ছে করে, এটি জন্মানোর সাথেই সম্পৃক্ত। আমরা বাঁচার কথা বলি কারণ আমরা পরিপূর্ণ স্বাধীন হতে পারিনি নিজেদের মনের কাছে যে মনের কথা আপনি বলেন আর যেই মনের কাছেই আপনার দায়বদ্ধতা সবচে’ বেশি। সবকিছু ফাঁকি দিয়ে এসে হাসা যায় কিন্তু তখন কাঁদতেই হয় যখন দেখি নিজেকে আর ফাঁকি দেওয়া যাচ্ছে না। তাই না?

[su_divider top=”no”]

ছিলো__ বসন্তের ২২ তম দিন
তখন সময় রাত্রি ১১:৫১
অবশ্যই সব বিবিধ সাহার কল্যাণে ও তারই সন্নিকটে

[su_dropcap size=”5″]এ[/su_dropcap]কটা শহর এঁকে বুকে, আমি ঝুকে পরছি আপনার গ্রামে, সদ্য দলামোচড়ানো আপনার শার্টের ভাঁজ বেয়ে। আপনি স্বঘোষিত খ্যাত হাসতে হাসতে বললেও সত্যিই তাই জেনে মিথ্যে হাসুন এবার, আর আমি মুখটা হাত দিয়ে ঢেকে ঠোঁটে কাঁমড় দিয়ে শয়তানি হাসি হাসবো! আমাকে দুর্বোধ্য লাগে নিজের কাছে, মরে যাই যখন সেটাকে বোধ্য করে আচ্ছামতো খেলতে থাকা হয়। খেলে যাচ্ছেন সকাল থেকে সন্ধ্যারাত অবধি, নিষ্ঠুর আঁচড়ে দাগ পড়ে হাতে, ঘাড়ে, মুখের উপর পাহাড় সমান চাপ আপনার আঙুলের! মেরে ফেলবেন? [su_pullquote align=”right”]আপনার খেলার ধরনের প্রেমে পরি, আমি আঘাত ভালোবাসি এটা না জেনে কেউ গভীরভাবে আঘাত করে যায়; তার প্রেমে পড়া অন্যায় কি করে হয়, যখন একই সাথে জানছি আমরা কেউ কারো জন্য না; বা আমরা জন্মেইছি কেবলমাত্র আমাদের জন্য![/su_pullquote]আপনার খেলার ধরনের প্রেমে পরি, আমি আঘাত ভালোবাসি এটা না জেনে কেউ গভীরভাবে আঘাত করে যায়; তার প্রেমে পড়া অন্যায় কি করে হয়, যখন একই সাথে জানছি আমরা কেউ কারো জন্য না; বা আমরা জন্মেইছি কেবলমাত্র আমাদের জন্য!

সব কল্পনা মনে করে শুয়ে থাকছি দিনরাত একটা স্বপ্নের ভেতর। দু’কাপ চায়ের অভ্যাস আমার ম্যালা পুরানো, যখন আমার বয়স সবে চৌদ্দ কি পনেরো। আপনি কি তখনো ছিলেন? আজকাল কোনোকিছুতে আর বিতৃষ্ণা লাগে না, কেবল তৃষ্ণা জাগে প্রতিনিয়ত একটা আঙুলের যেটা একটা নদী ছুঁয়ে যায়, স্রোতের উপর দিয়ে, জলের কোলঘেষে। এ তৃষ্ণার জন্ম বহু পুরানো তবে নতুন মোড়কের মতো চকচকে।

আমারো হৃদয়ের কোলঘেষে সন্ধ্যা নামে। এ সময়টাতে শহরের সবচে’ বড় অট্টালিকার শীর্ষে তাকালে মনে হয় সূর্যটা আটকে গেছে ওখানে। আমি মুখস্ত করে চলি আপনাকে যখন, তখন আমার দিকে তাকালে আপনিও আটকে যাবেন!