কবি নজরুল অসাম্প্রদায়িক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন দেখেছিলেন:তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ

সন্দেশ২৪ প্রতিনিধি:: তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, কবি কাজী নজরুল ইসলামের সৃষ্টিকম আমাদের জাতীয় সম্পদ। তাঁর লেখনিতে বাংলাদেশের জয়গান ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে দ্রোহের উচ্চারিত হয়েছিল। তিনি বিশ্বমানবতা ও সাম্য প্রতিষ্ঠা করার জন্য আমৃত্যু লড়াই করেছেন তাঁর ক্ষুরধার লেখনির মাধ্যমে।জাতির পিতা ও কাজী নজরুলের চিন্ত-দশর্নের মধ্যে অনেকটা মিল রয়েছে। তাঁরা দু’জনেই বাংলাদেশ নামের একটি আলাদা ভূখণ্ড ও অসাম্প্রদায়িক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন দেখেছিলেন।

গতকাল বুধবার (৪ সেপ্টেম্বর) জেলা শিল্পকলা মিলনায়তনে চট্টগ্রাম নজরুল একাডেমি আয়োজিত জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ৪৩তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে ‘বাংলাদেশ ও ভারত নজরুল সম্মেলন ২০১৯’ এর ৭ দিনব্যাপী নজরুল সম্মেলনের উদ্বোধনকালে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তথ্যমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
নজরুল একাডেমি, ঢাকার সাধারণ সম্পাদক মিন্টু রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আয়োজনে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে কথামালায় অংশ নেন জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য প্রফেসর ড. মোহীত উল আলম, নজরুল ইনষ্টিটিউটের উপ পরিচালক কবি রেজাউদ্দিন স্টালিন, বাংলাদেশ টেলিভিশন চট্টগ্রাম কেন্দ্রের জেনারেল ম্যানেজার নিতাই কুমার ভট্টাচার্য , নজরুল একাডেমি চট্টগ্রামের সাধারণ সম্পাদক ফাহমিদা রহমান, প্রমুখ।

মন্ত্রী বলেন, নজরুল ইসলাম অন্যায়ের সাথে কখনো আপোষ করেননি, বরং সারাজীবন অবিচার, অনাচার, কূপমণ্ডুকতা ও অধরমের বিরুদ্ধে সোচ্চার ছিলেন।তিনি সেনাবাহিনীতে যোগ দিয়ে দেশকে ব্রিটিশদের হাত থেকে রক্ষার প্রশিক্ষণ নিতে চেয়েছেন। তাঁর বিদ্রোহী কবিতায় ভারতবর্ষের সকল মানুষ উজ্জীবিত হয়েছিলেন। মন্ত্রী বলেন, দেশে সংস্কৃতি চর্চা কমে গেছে স্যোসাল মিডিয়ার জন্য। সাহিত্য ও সংস্কৃতি চর্চায় মানুষের মননের বিকাশ ঘটে। মানবিক ও অসাম্প্রদায়িক রাষ্ট্র গঠনে সংস্কৃতি চর্চার কোনো বিকল্প নেই বলে ড. হাছান মাহমুদ মন্তব্য করেন।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ড. মোহীত উল আলম বিভিন্ন গবেষকের উদ্ধৃতি দিয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাংলাদেশে নজরুলকে নিয়ে আসার গুরুত্ব তুলে ধরেন। তিনি আরও বলেন, বঙ্গবন্ধু এবং কাজী নজরুল উভয়ই বাংলার শোষিত বঞ্চিত সাধারণ মানুষের মনোদেনা বুঝতে পেরেছিলেন এবং ওই দুখি মানুষের মুখে হাসি ফুটানোর জন্য আজীবন কাজ করেছেন।
কথামালা শেষে মঞ্চে বসে নজরুল সংগীতের নান্দনিক আয়োজন। প্রথমেই ‘চেয়ো না সুনয়না’ শিরোনামে গান পরিবেশন করেন শিল্পী ইয়াসির তাহা, ফাহমিদা রহমান পরিবেশন করেন ‘এসো প্রিয় মন রাঙায়ে’। এর মঞ্চে আসেন দেশবরেণ্য নজরুল সংগীত শিল্পী ফেরদৌসী আরা তার কণ্ঠে ‘শাওনে রাতে যদি’ শিরোনামে গানসহ অন্যান্য পরিবেশনায় দর্শক মুগ্ধ করে রাখেন। এরপর একে একে গান পরিবেশন করেন কলকাতা থেকে আগত মণ্জুষা চক্রবর্তী, তুহিন পাল ও নজরুল একাডেমি চট্টগ্রামের সদস্য শিল্পী শমিলা বড়ুয়া, নরেন চক্রবর্, এ্যানি দে, সুফিয়া বেগম।
অনুষ্ঠানে শুরুতেই তথ্যমন্ত্রী হাছান মাহমুদ বেলুন উড়িয়ে অনুষ্ঠানের শুভ উদ্বোধন করেন। এরপর অতিথিদের ফুল দিয়ে বরণ করে নেন নজুরল একাডেমি সদস্য আলী প্রয়াস, তসলিম মুহাম্মদ, উমেসিং মারমা ঊমি, তানিম চৌধুরী। পুরো অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন সুমন হায়াত।