প্রকৃতিকে বাঁচাতে গাছকে বিয়ে করলেন ইংল্যান্ডের এক নারী

সম্প্রতি ইংল্যান্ডের ছোট্ট শহর লিথারল্যান্ডের এক নারী অধিবাসী একটি প্রাচীন বৃক্ষকে বিয়ে করে চমকে দিয়েছেন পুরো বিশ্বকে। এমনকি কেট কানিংগ্রাম নামের ঐ নারী নিজের নামের সাথে গাছটির নামও যোগ করতে যাচ্ছেন তিনি। খবর ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম মিরর।

আর স্বামী এই বিয়েতে শুরু থেকেই উৎসাহ দিয়েছেন তাকে। তিনি জানান, শহর কর্র্তৃপক্ষ পার্কটির ওপর দিয়ে নতুন একটি বাইপাস সড়ক নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে। তাদের এই উদ্যোগ বাস্তবায়ন হলে পার্কের পরিবেশ-প্রতিবেশের ভয়ানক ক্ষতি হবে। এছাড়া আরও অনেক এলাকার গাছও কাটা পড়বে। যার কারণে পুরো শহরের ইকো সিস্টেম হুমকির মুখে পড়তে পারে। সেই প্রতিবাদ জানাতেই এই অভিনব বিয়ের আয়োজন করছেন তিনি। আর মানুষ যেন ঘটনাটি মনে রাখে সেই কারণে নিজের নামও বদল করতে চান তিনি।

এক প্রতিবেদেন বলা হয়েছে, চলতি সপ্তাহেই ওই নারী পরিবারের অন্য সদস্যদের উপস্থিতিতে ধর্মীয় রীতিতে বিয়ে করেন শহরের রিমরোজ ভ্যালি পাকের বর্ষীয়ান এলডার বৃক্ষটিকে।

দুই সন্তানের জননী কেট কানিংগ্রাম বিয়ের অনুষ্ঠানে প্রথা মেনেই ওই নারী পরেছিলেন জলপাই রঙের একটি জমকালো পোশাক। তাতে জুতা থেকে শুরু করে অলংকার সব কিছুতেই ছিল গাছের মতো সবুজের ছোঁয়া। একজন পাদ্রি বিয়ের মন্ত্রও পাঠ করান।

বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা শেষে ওই জননী জানান, নিজের নামের সঙ্গে উদ্ভিদটির নাম জুড়ে দিতে যাচ্ছেন তিনি। ৩৪ বছর বয়সী কেট কানিংগ্রাম নামের ওই নারী এলডার বৃক্ষটির নাম অনুসারে নিজের নতুন নাম নিচ্ছেন, কেট রোজ এলডার।

কেট কানিংগ্রাম জানান, বিষয়টিকে অনেকে পাগলামি হিসেবে দেখলেও তিনি সচেতনভাবেই গাছটিকে বিয়ে করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এ জন্য তার দুই ছেলে প্রথমে মন খারাপ করে। তবে পরে তারা বিষয়টি মেনে নিয়েছে এবং বিয়ের অনুষ্ঠানেও উপস্থিত ছিল।

কেট বলেন, বাইপাস সড়ক হওয়ার বিষয়টি সবাই জানেন। কিন্তু তাতে কারও কোনো ভ্রক্ষেপ নেই। সকলে সচেতন হলেই আমাদের প্রকৃতিকে বাঁচাতে পারব। আর সচেতনতা বাড়ানোর জন্যই প্রিয় গাছটিকে বিয়ে করেছেন।