‘ক্রসিং দা লাইন’: কতটা অপমানজনক বাংলাদেশ ক্রিকেট টিমের জন্য!

গেইডন হেইগের ‘ক্রসিং দা লাইন’। ছবি: ইন্টারনেট

গস্টে ২ টেস্টের একটি সিরিজ খেলতে বাংলাদেশে এসেছিল অস্ট্রেলিয়া। সেই সিরিজে প্রথম ম্যাচেই টাইগারদের কাছে হেরে যায় অস্ট্রেলিয়া। ২৭ থেকে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত হওয়ার ম্যাচটা টাইগাররা নিজেদের করে নিয়েছিল চারদিনেই। জিতেছিল ২০ রানের ব্যবধানে।

ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার টিম পারফরম্যান্সের প্রধান প্যাট হাওয়ার্ড বলেন, ২০১৭ সালের ৩০ আগস্ট অস্ট্রেলিয়া বাংলাদেশের যে দলটির কাছে হার মেনেছিল, সেই দলের অধিকাংশ খেলোয়াড় নাকি অস্ট্রেলিয়ার ঘরোয়া প্রতিযোগিতা শেফিল্ড শিল্ডে কোনো একটি রাজ্য দলের হয়ে অংশগ্রহণেরই যোগ্য না!

সে ম্যাচে টসে জিতে আগে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছিল বাংলাদেশ অধিনায়ক মুশফিক। ব্যাটিং বিপর্যয় থেকে সাকিব-তামিমের ব্যাটিং দৃঢ়তায় ২৬০ রানের ভদ্রস্থ পুঁজি পায় বাংলাদেশ। সাকিব করেন সর্বোচ্চ ৮৪ রান, আর ৭১ রান আসে তামিমের ব্যাট থেকে। জবাবে ব্যাট করতে নেমে নিজেদের প্রথম ইনিংসে মাত্র সাকিব-মিরাজের ঘূর্ণিতে মাত্র ২১৭ রানেই থেমে যায় অজিরা। সাকিব পাঁচ উইকেট তুলে নেন, পাশাপাশি মিরাজ তার ঝুলিতে পোরেন তিনটি উইকেট। অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে ম্যাট রেনশ ৪৫ রান করলেও, অর্ধশতকের দেখা পাননি তার দলের কেউই। 

সেই ম্যাচের ম্যান অব দ্যা ম্যাচ হন সাকিব আল হাসান। ছবি: ইন্টারনেট

দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে বাংলাদেশের অবস্থাও তথৈবচ। তামিমের মূল্যবান ৭৮ রান এবং মুশফিকের ৪১ রানের উপর ভর ক’রে বাংলাদেশের সংগ্রহ দাঁড়ায় ২২১ রান। অস্ট্রেলিয়ার সামনে জয়ের লক্ষ্য ২৬৫ রান। আগের ইনিংসের ব্যর্থতা ভুলে ঘুরে দাঁড়ান ডেভিড ওয়ার্নার। ১১২ রানের অনবদ্য এক ইনিংস খেলেন তিনি। মাত্র ২৮ রানে দুই উইকেট পড়ে গেলেও, তৃতীয় উইকেটে অধিনায়ক স্টিভেন স্মিথের সাথে জুটি গড়ে দলের সংগ্রহ নিয়ে যান ১৫৮ পর্যন্ত। এক পর্যায়ে জয় সফরকারীদের জন্য সময়ের ব্যাপার মাত্র। কিন্তু না। ওয়ার্নারের বিদায়ের পর তাসের ঘরের মত ভেঙে পড়ে অজিদের ইনিংস। আর তা সম্ভব হয় আবারও সেই বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার সাকিব-এর কল্যাণেই। ফের পাঁচ উইকেট তুলে নেন তিনি। তাইজুল নেয় তিন উইকেট, আর মিরাজের ভাগ্যে জোটে দুইটি উইকেট। সেই সুবাদে শেষ মুহূর্তের যাবতীয় স্নায়ুচাপকে জয় করে, ধ্রুপদী এক ম্যাচ নিজেদের করে নেয় বাংলাদেশ।সেই হার যে অজিদের দম্ভে কতটা আঘাত দিয়েছিল, তখন বোঝা যায়নি। যদিও পরের ম্যাচ জিতে সিরিজে সমতা এনেছিল সফরকারীরা। 

গেইডন হেইগের ‘ক্রসিং দা লাইন’ বই থেকে জানা গিয়েছে সে মেইলের ব্যাপারে। বইটি আগামী মাসে প্রকাশিত হবে। হেইগ এর আগেও ২০০৭ সালে অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেটের ইতিহাসের উপর একটি বই লিখেছিলেন, এবং সে সময় থেকে বর্তমান পর্যন্ত ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার পরিচালক পর্ষদের মানসিকতার অধঃপতন, উন্নাসিকতা এবং আক্রমণাত্মক প্রবণতার সব বর্ননা দেয়া রয়েছে বইটিতে।

প্রকাশিতব্য বইটিতে হেইগ উল্লেখ করেন হাওয়ার্ডের লেখা মেইলের কথা। যেখানে হাওয়ার্ড তার ক্রিকেট বোর্ডকে জানিয়েছিলেন বাংলাদেশ দলের খেলোয়াড়দের অস্ট্রেলিয়ার রাজ্য দলের হয়ে খেলার যোগ্যতাও নেই

ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার টিম পারফরম্যান্সের প্রধান প্যাট হাওয়ার্ডলেখেন, ‘আমি ব্যক্তিগতভাবে অত্যন্ত লজ্জিত এবং সমস্ত সমালোচনা মাথা পেতে নিতে রাজি আছি। আপনারা জানেন, এই ফলাফল কতটা লজ্জাজনক। একইসাথে এটাও সত্য, যাদের কাছে আমরা আজ হেরেছি, তারা হয়তো আমাদের রাজ্য দলে সুযোগ পাওয়ার যোগ্যতাটুকুও রাখে না।’

হাওয়ার্ডের এই উদ্ধৃতি নিয়ে ইতিমধ্যেই আলোচনা-সমালোচনার ঝড় উঠেছে গোটা বিশ্বজুড়ে। ক্রিকেট ‘জেন্টলম্যান গেম’ হিসেবে তার পদমর্যাদা হারাচ্ছে।