সিসিকে ক্ষমতা থেকে অপসারণের দাবিতে বিক্ষোভে উত্তাল মিসর

মিসরীয় একনায়ক প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসিকে ক্ষমতা থেকে অপসারণের দাবিতে দেশজুড়ে বিক্ষোভ আরও জোরালো হচ্ছে। শনিবার দ্বিতীয় দিনের মতো দেশটির বিভিন্ন এলাকায় বিক্ষোভ হয়েছে।

শনিবার রাতে দেশটির বন্দরনগরী সুয়েজে নিরাপত্তাবাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এসময় গ্রেফতার হয়েছে কয়েক ডজন বিক্ষোভকারীকে। এর আগে শুক্রবারের বিক্ষোভ দমনেও কোথাও কোথাও পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ব্যবহার করেছে।

নিরাপত্তা বাহিনীর প্রচণ্ড বাধা উপেক্ষা করে দ্বিতীয় দিনের মতো সুয়েজ শহরে শত শত বিক্ষোভকারী জেনারেল সিসির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ সমাবেশে অংশ নেন।

শুক্রবার থেকে বিক্ষোভ শুরু হওয়ার পর মিসরজুড়ে পুলিশের চেক পয়েন্ট বসানো হলে শনিবার রাস্তায় গাড়ি চলাচল বিঘ্নিত হয়। বিক্ষোভের কেন্দ্রস্থল তাহরিয়ার স্কয়ারে শুক্রবার প্রতিবাদ-বিক্ষোভের পর শত শত সশস্ত্র সেনা ও পুলিশ অফিসারদের টহল দিতে দেখা যায়।

এদিকে মিসরের বিভিন্ন এলাকায় সিসিবিরোধী বিক্ষোভ হলেও দেশটির মিডিয়ায় তা প্রকাশে বাধা দিচ্ছে সিসি প্রশাসন। গত দুইদিনে মূলধারার কোন দৈনিক পত্রিকাতেই বিক্ষোভের সংবাদ ছাপানো হয়নি। টিভি চ্যানেলগুলোও ছিল অনেকটা নির্লিপ্ত।

এক রিপোর্টার তাহরিরর স্কয়ারের অন্যপাশে ক্যামেরা ঘুরিয়ে বলছেন, ‘যেমনটি আমরা দেখতে পাচ্ছি, তাহরির স্কয়ারে ঠিকঠাক গাড়ি চলাচল করছে। রাস্তায় কোন মানুষ নেই। ইখওয়ানের সন্ত্রাসীরা মানুষকে রাজপথে নেমে আসার কথা বলে ধোকা দিচ্ছে।’

এক টিভি উপস্থাপক বললেন, ‘ত্রিশ চল্লিশ জন মানুষ তাহরিরে জমা হল। দুই মিনিট কথা বললো। ছবি তুললো। আর ভিডিও করে আপলোড দিল। এটাও নাকি কোন বিক্ষোভ!’

এমন একসময় এই বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়েছে, যখন জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে যোগ দিতে নিউইয়র্কে রয়েছেন মিসরীয় প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসি।

টুইটারে গণতন্ত্রপন্থী তৎপরতাকারী আইয়াদ আল-বাগদাদী বলেন, হেই, ডোনাল্ড ট্রাম্প, আপনার প্রিয় একনায়ক এখন নিউইয়র্কের পথে। তাকে সেখানেই রাখেন। তিনি ফিরে আসুক, মিসরীয়রা সেটি চান না।

চলমান বিক্ষোভের সঙ্গে সংহতি জানিয়ে অনেক সামাজিকমাধ্যম ব্যবহারকারী তাদের প্রফাইলে পুরাদস্তুর লাল ছবি আপলোড করেছেন।

মিসরের প্রথম গণতান্ত্রিক প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মুরসিকে অভ্যত্থানের মাধ্যমে হটিয়ে ক্ষমতা দখল করেন তখনকার সেনাপ্রধান আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসি।

এরপর সব ধরনের বিরোধীদের প্রতি তিনি দমনাভিযান চালিয়েছেন। ষাট হাজার ভিন্নমতাবলম্বীকে তিনি কারাগারে ঢুকিয়েছেন। অনেকের বিচার চলছে।

গত ১৭ জুন বিচার চলাকালে আদালত কক্ষে আকস্মিক পড়ে গিয়ে মৃত্যুবরণ করেন মোহাম্মদ মুরসি। তার মৃত্যুকে সম্পূর্ণ হত্যাকাণ্ড বলে আখ্যায়িত করেছে মুসলিম ব্রাদারহুড।

মানবাধিকারকর্মীরা বলেন, কারাগারে তাকে ধীরে ধীরে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেয়া হয়েছে।

সূত্র: আল-জাজিরা, টিআরটি ও ভয়েস অব আমেরিকা