” হাউ ডেয়ার ইউ!”, রাষ্ট্রসংঘের জলবায়ু সম্মেলনে সুইডিশ কিশোরী গ্রেটা থুনবার্গ

চোখে-মুখে আত্মপ্রত্যয়ের ছাপ স্পষ্ট। সঙ্গে রয়েছে তীব্র ক্ষোভ। মাত্র ১৬ বছর বয়সী গ্রেটা থুনবার্গ ঝড় বইয়ে দিল রাষ্ট্রসংঘের জলবায়ু সম্মেলনে। রাষ্ট্রনায়কদের বিরুদ্ধে উচ্চারণ করেন ঘৃণা মিশ্রিত সাহসী বাক্য, “হাউ ডেয়ার ইউ!”

গ্রিন হাউস গ্যাসের লাগামছাড়া বৃদ্ধির ফলে গলে যাচ্ছে বরফ। ক্রমশ বেড়ে চলেছে সমুদ্রের জল। দূষণের মাত্রা বাড়ছে প্রতিদিন। তাই পরিবেশ বাঁচাতে উদ্যোগ নিয়েছিল এই সুইডিশ তরুণী। শুরুতে একা ছিল গ্রেটা। আজ বিশ্বের দরবারে সে পরিচিত। তার অনুপ্রেরণাতেই গত ২০ সেপ্টেম্বর শুক্রবার, পৃথিবীর ৪০০ শহরে পালিত হয়েছে ‘জলবায়ু ধর্মঘট’ বা ‘ক্লাইমেট স্ট্রাইক’।

সোমবার নিউ ইয়র্কে রাষ্ট্রসংঘের ‘ক্লাইমেট সামিটে’ যোগ দিয়েছিলেন গ্রেটা। সেখানেই সুইডিশ কিশোরীকে একদম অন্যরূপে দেখল বিশ্ববাসী। গ্রিন হাউস গ্যাসের নির্গমন রোধে ব্যর্থতার মধ্য দিয়ে তার প্রজন্মের সঙ্গে যে বিশ্বাসঘাতকতা করা সেই প্রশ্ন আরও একবার তুলে ধরলেন গ্রেটা থুনবার্গ।

প্রশাসনের উদ্দেশে বার্তা দিয়ে গ্রেটা সাফ জানিয়ে দেয়, “আমরা আপনাদের লক্ষ্য করছি।” পড়াশোনা থেকে আপাতত এক বছরের জন্য বিরতি নিয়েছে গ্রেটা। আপ্রাণ চেষ্টা করছে পরিবেশকে বাঁচানোর। তবে এ দিন খানিকটা রেগে গিয়েই গ্রেটা বলেন, “সবকিছু ভুল হচ্ছে। আমার এখানে থাকার কথাই নয়। বরং সাগরের ওপারে নিজের স্কুলে থাকা উচিত।”

এর আগেও পৃথিবীর সমস্ত রাষ্ট্রনায়কদের দিকে আঙুল তুলেছিল গ্রেটা। জোর গলায় সে বলেছিল, “আমরা এখনও অনেকদিন বাঁচব। কিন্তু পৃথিবী বাঁচবে কি? দূষণ আর উষ্ণায়নে পৃথিবীর মৃত্যু ডেকে আনছো তোমরা। তোমাদের মতো ‘পলিসি মেকারদের’ জন্যই এই দুর্গতি আমাদের ছোটদের। আমাদের ভোটে দাঁড়ানোর বয়স হয়নি। তোমরা জিতেছ। তাই তোমাদেরই ব্যবস্থা করতে হবে। করতেই হবে।”

এরপরেই সেই বিস্ফোরক মন্তব্য করে গ্রেটা থুনবার্গ। শান্ত গলায় বলে, “আশা নিয়ে তোমরা আমাদের কাছে আসো। কী সাহস তোমাদের। হাউ ডেয়ার ইউ! তোমাদের ফাঁকা ভাষণ দিয়ে আমাদের শৈশবের সব স্বপন ভেঙে চুরমার করে দাও। মানুষ মারা যাচ্ছে। গোটা পরিবেশ রসাতলে যাচ্ছে।”

পাশাপাশি অবশ্য নিজেকে ভাগ্যবান বলেও দাবি করে গ্রেটা। কারণ সঠিক সময়ে সব ছলচাতুরী বুঝে একটা গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিতে পেরেছে সে। তবে এখানেই শেষ নয়। ক্ষুব্ধ গ্রেটা আরও বলে, “আমরা একটা ব্যাপক ধংসের দিকে এগিয়ে যাচ্ছি। আর তোমরা টাকাপয়সা এবং সুন্দর আর্থিক বৃদ্ধির কথা বলছো, তোমাদের কী সাহস”!

গ্রেটা জানিয়েছে, নেতাদের সঙ্গে আলোচনার সময় তাকে বলা হয়েছিল যুব সমাজের কথা শোনা হবে। কিন্তু বাস্তবে মোটেও তা হচ্ছে না।

গ্রেটার কথায়, “আমি রাগ করি বা আমার খারাপ লাগে এটা আসল বিষয় নয়। তবে আমি এটা মানতে নারাজ, যে আপনারা সত্যিই পরিস্থিতিটা বুঝতে চান বা পারেন, কিন্তু তার পরেও প্রতিরোধ করতে ব্যর্থ হন। এটা আমি বিশ্বাসই করতে পারি না।”

রাষ্ট্রনায়কদের একহাত নিয়ে সুইডিশ কিশোরী গ্রেটা বলে, “আপনারা আমাদের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করছেন। কিন্তু এ বার যুব সমাজ সবটা বুঝতে পারছে। আগামী প্রজন্মের নজর আপনাদের উপরেই রয়েছে। আপনারা আমাদের হতাশ করলে কথা দিচ্ছি আমরা আপনাদের কাউকে রেয়াত করব না।”