ষষ্ঠ শ্রেণীর ছাত্রীর মরদেহ উদ্ধার, পরিবারের দাবি হত্যা: সম্ভাব্য হত্যাকারীর সাথে পুলিশের যোগসাজশ

২ অক্টোবর বুধবার রাতে চট্টগ্রাম বন্দর থানার দক্ষিণ-মধ্যম হালিশহরের কুড়িপুকুর পাড় এলাকার খান টাওয়ারের নিচতলার একটি বাসা থেকে ষষ্ঠ শ্রেণীতে পড়ুয়া ১২ বছর বয়সী এক ছাত্রীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

প্রাথমিকভাবে এটি আত্মহত্যা বলে জানিয়েছে পুলিশ, তবে পরিবারের পক্ষ থেকে দাবী তুলেছেন তাকে হত্যা করে মরদেহ ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে।

ষষ্ঠ শ্রেণীর ছাত্রী পলি। ছবি: সংগৃহীত

নিহত ছাত্রীর নাম রেবেকা সুলতানা পলি। সে খাগড়াছড়ি জেলার গুইমারা উপজেলার মালয়েশিয়া প্রবাসী ফিরোজ খানের মেয়ে। কুড়িপুকুর পাড় এলাকার তার পোশাক শ্রমিক মা ও কলেজ পড়ুয়া ভাইকে নিয়ে খান টাওয়ারের নিচতলার একটি ভাড়া বাসায় বসবাস করত। এ সুবাধে সিটি করপোরেশন পরিচালিত স্থানীয় একটি বিদ্যালয়ে ষষ্ঠ শ্রেণীতে পড়াশুনা করতো বলে স্থানীয়দের কাছ থেকে জানা গেছে।

লাশ উদ্ধারের তথ্যটি নিশ্চিত করে বন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সুকান্ত চক্রবর্তী বলেন, স্থানীয়দের কাছ থেকে জানতে পেরে বুধবার রাতে ঘটনাস্থলে পৌছে ঘরের দরজা ভেঙ্গে লাশটি উদ্ধার করা হয়।

তিনি বলেন. গলায় ওড়না প্যাঁচানো ফ্যানের হুকের সাথে ঝুলন্ত অবস্থায় ছিল নিহত স্কুল ছাত্রী পলি। প্রাথমিক ভাবে ঘটনাস্থল থেকে পাওয়া আলামতে আত্মহত্যা মনে হলেও পরিবারের পক্ষ থেকে খুনের অভিযোগ উঠেছে।

তিনি বলেন, লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। রিপোর্ট হাতে পেলে সঠিকভাবে জানা যাবে এটি হত্যা নাকি আত্মহত্যা।

তবে মেয়েটির ভাই এন্ড্রু রাসেল তার ফেসবুক পোস্টে এ ঘটনাকে হত্যা বলে অবিহিত করেন এবং একই সাথে হত্যাকারীর সাথে পুলিশের যোগসাজশ আছে বলে দাবি করেছেন। 

তার ফেসবুক পোস্টটি- ০২-১০-২০১৯ আমার বোন রেবেকা সুলতানা পলি হত্যা হওয়ার পর। পুলিশ প্রশাসন ৮ঃ৩০ এর দিকে আসে এবং লাশ নামিয়ে সুরতহাল রিপোর্ট তৈরি করে।তখন আমার বোনের পিঠে আঘাতের চিহ্ন, ঠোঁটে কামড়ের দাগ, গলার নখের দাগ, মুখে হাতের ছাপ, হাতের কব্জি ভাঙ্গা এবং তালুতে আঘাতের চিহ্ন থাকলেও সুরতহালে তা উল্লেখ করা হয়নি।

তবে আসামি আবুল কাশেম খান কে গ্রেফতার করে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। থানায় যাওয়ার পর আসামীপক্ষ পুলিশ প্রশাসনকে টাকা দিতে আমরা স্বচক্ষে দেখি।তখন এই ঘটনাকে সামনে এগিয়ে না নেওয়ার জন্য পুলিশ পক্ষ থেকে আমাদেরকে ১৪ লক্ষ টাকার প্রস্তাব দেওয়া হলে।আমরা তা নাকচ করি।

আবুল কাশেম। ছবি: সংগৃহীত

পরবর্তীতে লাশ মর্গে নিয়ে যাওয়া হয় এবং আমরা আসামীর বিরুদ্ধে মামলা করতে চাইলে প্রশাসন  মামলা নিতে অস্বীকৃতি জানায়।আমরা অভিযোগ দায়ের করতে চাইলে অভিযোগ নিতেও অস্বীকৃতি জানায়।তখন আমরা মিডিয়ার শরনাপন্ন হলে তারপর তারা মামলা নেয়।তবে আমরা মামলায়  আবুল কাশেম খানকে আসামি করতে চাইলে পুলিশ তা না করে আসামি অজ্ঞাত রেখে মামলা করে।আসামীর অর্থবিত্ত ও প্রভাব প্রতিপত্তি থাকায় এবং পুলিশ প্রশাসনের এমন ভূমিকায় আমরা এখন ন্যায়বিচার নিয়ে শংকায় আছি।