আমেরিকার সঙ্গে তুরস্কের নতুন উত্তেজনা

তুরস্কের এক জাতীয়বাদী নেতা শিগগিরই মারা যাবেন বলে করা টুইটারের একটি পোস্টে লাইক দিয়ে ফের তুর্কি সরকারের ক্ষোভের কারণ হয়েছে সেখানকার মার্কিন দূতাবাস।

ওই টুইটে শনিবার বলা হয়েছে, ডেভলেট বাহসেলিকে ছাড়াই তুরস্কের রাজনৈতিক বাস্তবতার প্রস্তুতি নিতে হবে। দেশটির ডানপন্থী জাতীয়তাবাদী আন্দোলনের (এমএইচপি) এই নেতা প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোগানেরও মিত্র।

ডেভলেট বাহসেলি সম্প্রতি অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। সীমান্ত থেকে মার্কিন সমর্থিত কুর্দি যোদ্ধাদের বিতাড়িত করতে সিরিয়ার একটি অংশে হানা দেয়ার হুমকি দিয়েছে তুরস্ক।

এই নিয়ে দুই ন্যাটো মিত্রের মধ্যে টানাপোড়েন চলছে। সেই বিতর্ককে নতুন করে উসকে দিয়েছে নতুন এই টুইটার লাইক।

এছাড়া সাইপ্রাস উপকূলে তেল ও গ্যাসের জন্য মহড়া না দিতে তুরস্ককে হুশিয়ারি করে দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। শনিবার সেই সেই সতর্কবার্তা পাঠানো হয়েছে আংকারাকে।

তবে বাহসেলিকে নিয়ে পোস্টটি এমন এক ব্যক্তি লিখেছেন, গুলেন নেটওয়ার্কের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট হওয়ায় তাকে খোঁজা হচ্ছে বলে ক্ষমতাসীন জাস্টিস অ্যান্ড ডেভলপমেন্ট পার্টি (একেপি) দাবি করেছে।

২০১৬ সালে এরদোগানের বিরুদ্ধে ব্যর্থ অভ্যুত্থানের জন্য গুলেন নেটওয়ার্ককে দায়ী করা হচ্ছে।

যদিও শনিবার রাতে মার্কিন দূতাবাস থেকে দুঃখ প্রকাশ করা হয়েছে। কিন্তু একে পার্টির মুখপাত্র ওমর সেলিক বলেন, এ ক্ষেত্রে দুঃখ প্রকাশই যথেষ্ট হবে না। মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও কূটনৈতিক মিশনকে তদন্ত করা উচিত ছিল।

এক টুইট পোস্টে তিনি বলেন, দুই দেশের মধ্যে সম্পর্ককে ক্ষতিগ্রস্ত করতে বিশেষভাবে চেষ্টা করছে দূতাবাসে নিয়োগ দেয়া কিছু লোকজন।

তিনি আরও দাবি করেন, সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর সঙ্গে যোগসাজশ আছে এমন লোকদের দিয়ে তুরস্ককে বোঝা উচিত হবে না যুক্তরাষ্ট্রের, কিন্তু এমন লোকদের দিয়ে বুঝতে হবে, যারা সঠিক বিশ্লেষণ করতে পারেন।

এমএইচ পার্টির উপপ্রধান সেমিহ ইয়ালসিন বলেন, বাহসিলি অসুস্থতা থেকে সেরে উঠেছেন। আসছে সপ্তাহে তিনি কর্মস্থলে যোগ দেবেন।

বেশ কয়েকটি ইস্যুতে আংকারা ও ওয়াশিংটনের মধ্যে তোলপাড় চলছে। ইতিমধ্যে রাশিয়া থেকে এস-৪০০ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ক্রয় করেছে তুরস্ক। যাতে দেশটির প্রতি নাখোশ হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।