রাষ্ট্রপতির কাছে মমতার পদত্যাগের দাবি জানাল বিজেপি

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির অভিযোগে এনে তৃণমূল কংগ্রেসের নেত্রী ও পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পদত্যাগ দাবি করেছে বিজেপি। দলটির পক্ষ থেকে আগামী ১৫ অক্টোবর প্রেসিডেন্টের কাছে সাক্ষাতের সময় চাওয়া হয়েছে।

গতকাল শুক্রবার পশ্চিমবঙ্গের দায়িত্বপ্রাপ্ত কেন্দ্রীয় বিজেপি নেতা কৈলাশ বিজয়বর্গীয় বলেন, ‘গত চারদিনে ৮ জন নিহত হয়েছে তারা সকলেই বিজেপি কর্মী। তৃণমূল আশ্রিত দুর্বৃত্তরা টার্গেট করে ওই ঘটনা ঘটাচ্ছে। আমরা সাহসের সঙ্গে এর মোকাবিলা করব।’

তিনি বলেন, ‘শনিবার কোলকাতায় বিক্ষোভ প্রদর্শন ছাড়াও এ নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও মহামান্য রাষ্ট্রপতির কাছেও সময় চাওয়া হয়েছে। বাংলার পরিস্থিতি তাদেরকে অবগত করানো হবে। আমরা দাবি করছি মমতাজির পদত্যাগ দাবি করছি। এমন সরকারের ক্ষমতায় থাকার কোনো অধিকার নেই।’

বিশ্ব হিন্দু পরিষদের কার্যকরি সভাপতি আলোক কুমার বলেন, পশ্চিমবঙ্গে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বিবেচনা করেই কেন্দ্রীয় সরকারের পশ্চিমবঙ্গে রাষ্ট্রপতি শাসন জারির কথা ভাবা উচিত।

গত মঙ্গলবার মুর্শিদাবাদের জিয়াগঞ্জে নিহত হন বন্ধুগোপাল পাল (৪০) নামে এক শিক্ষক, তার অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী বিউটি পাল (৩০) ও অঙ্গন পাল (৫) নামে তাদের শিশু সন্তান। বাড়ি থেকে তিনজনের মরদেহ উদ্ধার হলে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।

পুলিশ সুপার মুকেশ বলেন, ‘এটি একটি পারিবারিক ঘটনা। রাজনীতির সঙ্গে এর কোনো সম্পর্ক নেই। ইতিমধ্যেই তদন্তকারীদের বিশেষ দল ওই ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। পরিবারের সদস্যসহ স্থানীয়দেরও জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে।’

এদিকে চাঞ্চল্যকর ওই হত্যাকাণ্ডবকে কেন্দ্র করে গতকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় বিবৃতি দিয়ে পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপাল জানিয়েছেন, ‘এসব ঘটনার তীব্রতা এমনই যে, তাতে বিবেক কেঁপে উঠেছে। এই ঘটনা অসহিষ্ণুতা এবং ভয়ঙ্কর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির প্রতিফলন।’

রাজ্যপালের বিবৃতির পর তার জবাব দিয়েছে রাজ্য সরকার। রাজ্যের মন্ত্রী ও ক্ষমতাসীন দল তৃণমূল কংগ্রেসের মহাসচিব পার্থ চট্টোপাধ্যায় বলেন, ‘সাংবিধানিক পদে থেকে রাজনৈতিক মন্তব্য করে রাজ্যপাল নিজের এখতিয়ার লঙ্ঘন করেছেন।’

কংগ্রেস নেতা অধীর রঞ্জন চৌধুরী বলেছেন, পশ্চিমবঙ্গের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি খুব খারাপ। যদি কেন্দ্রীয় সরকার চায় তাহলে সেখানে রাষ্ট্রপতি শাসন জারি করতে পারে। তার অভিযোগ, বিজেপি রাজ্যে রাষ্ট্রপতি শাসন জারির দাবি জানালেও দিল্লিতে তারা তৃণমূলের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ আচরণ করে।