নারীদের হয়রানি বিষয়ে মিসরের জামিয়া আল আযহারের ফতোয়া

নারীদের হয়রানি করার ব্যাপারে মিশরের খ্যাতনামা প্রাচীন বিশ্ববিদ্যালয় আল আযহার ইউনিভার্সিটি গত ২৭ আগস্ট গুরুত্বপূর্ণ এক ফতোয়া প্রদান করেছে।

ফতোয়ায় বলা হয়েছেঃ

“ইশারা ইঙ্গিতে-মৌখিকভাবে-কিংবা সরাসরি কাউকে হয়রানি করা এক‌টি নিন্দিত ও নিষিদ্ধ আচরণ। শরীয়তে এটা গুনাহগারী কাজ।
এ ধরনের কর্ম মানুষের সাধারন আত্মাকে বিকৃত করে; তাই এধরনের দূর্বৃত্তকে প্রত্যাখ্যান করুন। আইন কানুনের মাধ্যমের এর শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।

আল্লাহ তায়ালা কুরআনে ইরশাদ করেনঃ

‘যারা মুমিন নরনারীদের অন্যায়ভাবে কষ্ট দেয় তারা স্পষ্ট অপরাধী বলে গণ্য হবে।’ – আহযাব ৫৮
(যারা মুমিন নরনারীদের অন্যায়ভাবে কষ্ট দিবে না; নিশ্চিতভাবে তারা কাউকেই কষ্ট দিবে না।)

ফতোয়ায় আরো বলা হয়েছেঃ

“কাউকে হয়রানি করা অবশ্যই শর্তহীন অপরাধ বলে বিবেচিত হবে এবং এ ব্যাপারে কোনো অজুহাত গ্রহণযোগ্য নয়। নারীর পোশাক বা কোনো আচরণের ভিত্তিতে এটাকে বৈধতা দেয়ার সুযোগ নেই। কারণ এতে নারীর ব্যক্তিত্ব, স্বাধীনতা, সম্মান নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি সামাজিক নিরাপত্তা বিঘ্নিত হয়।”

“এক‌টি জাতি ও সমাজের উন্নতি অগ্রগতি বুঝা যায় সেই সমাজে নারীর সম্মান ও নিরাপত্তার নিশ্চয়তা থেকেই।

রাসুলুল্লাহ -সল্লি আলাইহি- ইসলামের বিস্তৃতি ও মুসলিম সভ্যতার পূর্ণতার উদাহরণ দিতে গিয়ে বলেছেনঃ

‘হীরা অঞ্চলের এক নারী সফর করে বাইতুল্লাহ তাওয়াফের উদ্দেশ্যে মক্কা আসবে, (এই দীর্ঘ পথে) আল্লাহ ছাড়া কাউকে ভয় পাবে না।’ “

সাম্প্রতিক সময়ে মিশরে ব্যাপকভাবে যৌন হয়রানির ঘটনা ঘটছে। সে প্রেক্ষিতেই মুসলমানদের সুন্নি স্কুলের খ্যাতনামা প্রতিষ্ঠান আল আযহার কর্তৃপক্ষ উপরোক্ত বিবৃ‌তি প্রদান করেন। বিবৃতিতে যৌন হয়রানি প্রতিরোধে সরকারের প্রতি কঠোর আইন প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন এবং ধর্মীয় সামাজিক প্রতিষ্ঠানের প্রতি এই মহামারি রোধে কল্যাণমুখী কার্যকর ভূমিকা পালনের আহবান জানানো হয়।

সূত্রঃ
– আল আযহার টুইটারঃ
Twitter link:


– আল আযহার ওয়েবসাইটঃ
https://goo.gl/GK63sf