যা হয়েছে মিডিয়া ট্রায়ালের মাধ্যমে হয়েছে: ওমর ফারুক

যুবলীগের পদচ্যুত চেয়ারম্যান ওমর ফারুক তার পদ থেকে অব্যাহতি পাওয়ার জন্য গণমাধ্যমকে দায়ী করেন। তিনি বলেন, আমার বিরুদ্ধে এখনও তেমন কিছু প্রমাণ হয়নি। তবে যা হয়েছে মিডিয়া ট্রায়ালের মাধ্যমে হয়েছে। হোক; গণমাধ্যম আজ স্বাধীন এবং গণমাধ্যম স্বাধীন হওয়াই উচিত।

যুবলীগের চেয়ারম্যানের পদ থেকে অব্যাহতি পাওয়ার দুদিন পর ওমর ফারুক সোমবার গণমাধ্যমকে প্রতিক্রিয়া দেন।

গণমাধ্যমে খবরের কারণে তাকে যুবলীগ থেকে বাদ দেয়া হয়েছে দাবি করে ওমর ফারুক বলেন, মিডিয়া ট্রায়ালেই আমাকে বাদ দেয়া হয়েছে। স্বাধীন গণমাধ্যম অনেক কিছুই লিখেছে। এ কারণে আমাকে সংগঠন থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে।

ওমর ফারুকের ভাষ্য, ‘আপনারা (সাংবাদিক) লেখনীর মাধ্যমে প্রমাণ করে দিয়েছেন যে, আমি আর দল করতে পারব না, রাজনীতি করতে পারব না। মিডিয়া ট্রায়াল শেষ। আমাকে দল থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে। এর মানে ‘ইউ আর নো মোর’। এখন আমি যতই সত্য কথা বলি, তা মিথ্যা ফিকশন হয়ে যাবে। তাই আর কিছু বলতে চাই না।’

ক্যাসিনোকাণ্ডে নাম আসার পর পদচ্যুত হওয়ার আগেই আড়ালে চলে যান ওমর ফারুক। প্রায় এক মাস যাননি দলীয় কার্যালয়ে। এ বিষয়ে ওমর ফারুক চৌধুরী বলেন, গণমাধ্যমে যা লেখা হচ্ছে, তাতে কি আর সানন্দে বাইরে যাওয়া যায়? সে জন্য বাইরে যাই না, ঘরেই থাকি। আমার উচিত সুনির্দিষ্ট প্রক্রিয়ায় নিজেকে স্বচ্ছ প্রমাণ করা, সেই প্রক্রিয়াতেই আছি।

তিনি যোগ করেন, ‘আমি তো শাস্তি পেয়েছি-ই। কয়েক দিন ধরে গৃহবাস এবং রোববার দল থেকে গেট আউট। কষ্ট যা পাওয়ার পেয়েছি। সর্বোচ্চ কষ্ট পেয়েছি। এখন তো আর রাজনীতি করতে পারব না, নতুন যাত্রা শুরু করতে হবে।’

ইসমাইল হোসেন চৌধুরী সম্রাটের কাছ থেকে মাসিক মাসোহারা নেয়ার অভিযোগের বিষয়ে ওমর ফারুক বলেন, ‘সম্রাট রিমান্ডে কী বলেছেন তা আপনি নিজে দেখেছেন বা শুনেছেন কী? উনি (সম্রাট) যা খুশি বলতে পারেন। এসব তথ্য আমলে নিয়ে বিচারপ্রক্রিয়া কেমন হয় তা দেখার অপেক্ষায় আছি।’

প্রথমে ওমর ফারুক চৌধুরী ও তার পরিবারের ব্যাংক হিসাব তলব করা হয়। পরে তা জব্দ করা হয়। এ বিষয়ে জানতে চাইলে ওমর ফারুক বলেন, হ্যাঁ, হয়েছে। প্রক্রিয়া অনুযায়ী আমার ব্যাংক অ্যাকাউন্ট তলব করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। যদি তারা প্রমাণ করতে পারে, আমার অ্যাকাউন্টে অনৈতিক জায়গা থেকে টাকা ঢুকেছে, তা হলে আমার উচিত হবে সেটিকে আইনিভাবে মোকাবেলা করা। সর্বোপরি যদি প্রমাণ করতে পারি আমি নির্দোষ, তা হলে মুক্তি পাব; অন্যথায় দেশের প্রচলিত আইনে যা হওয়ার হবে। আমি আইনিভাবে মোকাবেলা করার জন্য প্রস্তুত আছি।

ক্যাসিনো ব্যবসায় যুবলীগ নেতাদের মদদ দেয়ার অভিযোগ উঠেছে যুবলীগ চেয়ারম্যান ওমর ফারুক চৌধুরীর বিরুদ্ধে। এরই মধ্যে তার দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা দেয়া হয়েছে। তলব করা হয়েছে ব্যাংক হিসাব। এরপরই আড়ালে চলে যান তিনি। সবশেষ তাকে যুবলীগ চেয়ারম্যানের পদ থেকে সরিয়ে দেয়া হয়।