স্বেচ্ছাসেবক লীগ সভাপতির পদ থেকে বাদ পড়লেন মোল্লা কাওসার

স্বেচ্ছাসেবক লীগ সভাপতি অ্যাডভোকেট মোল্লা মোহাম্মদ আবু কাওসারকে সংগঠন থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। সাংগঠনিক নেত্রী, আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে তাঁকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।

আজ বুধবার (২৩ অক্টোবর) দুপুরে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের রাজধানীর ধানমন্ডিতে এক অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের এ কথা জানান।

ক্যাসিনোকাণ্ডে অনেকের মতো সমালোচিত হন মোল্লা মো. আবু কাওছারও। তাঁর ব্যাংক হিসাবে লেনদেন স্থগিত করা হয়েছে।

ঢাকা ওয়ান্ডারার্সের ক্লাবে চলতো অবৈধ ক্যাসিনো ও মদ, জুয়ার আসর।

গত ১৮ সেপ্টেম্বর মতিঝিলের আরামবাগে ঢাকা ওয়ান্ডারার্স ক্লাবের ক্যাসিনোতে অভিযান চালায় র‌্যাব। অভিযানে প্রচুর মাদকদ্রব্য, ২০ হাজার ৫০০ টাকার জাল নোট, ১০ লাখ ২৭ হাজার টাকা ও ক্যাসিনোর সরঞ্জাম জব্দ করা হয়।

অভিযানে ঢাকা ওয়ান্ডারার্স ক্লাবের মালিকানা হিসেবে মোল্লা মো. আবু কাওছারের নাম ওঠে আসে। অভিযোগ ওঠেছে, ক্লাবটির মালিকানার পাশাপাশি সভাপতিও তিনি। তার ঘনিষ্টরাও ক্যাসিনো ব্যবসায় জড়িত। তবে সভাপতি হলেও মালিকানার অভিযোগটি অস্বীকার করে বিবৃতি দিয়েছে স্বেচ্ছাসেবক লীগ।

২০১৫ সালে কাউন্সিলর নির্বাচিত হওয়ার পর আরামবাগের ওয়ান্ডারার্স ক্লাবে ক্যাসিনো চালু করেন যুবলীগ ঢাকা মহানগর দক্ষিণের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মমিনুল হক ওরফে সাঈদ। তার আগে থেকেই এ ক্লাবের সভাপতির দায়িত্বে আছেন স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি মোল্লা মো. আবু কাওসার।

গ্রেফতার হওয়া যুবলীগ নেতা ও ঠিকাদার জি কে শামীমের সঙ্গেও মোল্লা কাওসারের ঘনিষ্ঠতার খবর জানা গেছে একাধিক সূত্রে।

একচেটিয়া গণপূর্ত বিভাগের কাজের দরপত্র নিয়ন্ত্রণে জি কে শামীমকে সহযোগিতা করার অভিযোগ আছে মোল্লা কাওসারের বিরুদ্ধে।

অস্ত্র ও মানি লন্ডারিং আইনের মামলায় রিমান্ড শুনানির জন্য ২ অক্টোবর দ্বিতীয় দফায় আদালতে নেয়া হলে মোল্লা কাওসারের খোঁজ করেন জি কে শামীম। তার আইনজীবীদের কাছে তিনি জিজ্ঞেস করেন, ‘মোল্লা কাওসার কোথায়? সে আসেন নাই?’ ওই সময় একজন উত্তর দেন, ‘উনি তো নিজেই দৌড়ের ওপরে আছেন। উনি কী করে আসবেন!’