প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাৎ ও যৌন হয়রানীর অভিযোগ

স্টাফ রিপোর্টার:: কুমিল্লার লাকসাম উপজেলার লাকসাম পাইলট হাইস্কুলের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মাহবুবুর রহমানের বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাৎ ও স্কুলের নারী ঝাড়ুদারকে যৌন হয়রানীর অভিযোগ উঠেছে।

এক লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ওই স্কুলের অর্ধবার্ষিকী পরীক্ষার পর স্কুল বন্ধ থাকাকালীন সময়ে স্কুলের নাইট গার্ড কামালের মারফত ওই নারীকে স্কুলের খাতা ভাঁজ করার কথা বলে ডেকে পাঠান তিনি। এক পর্যায়ে নাইট গার্ড কামাল ওই মহিলাকে দোতলার অফিস কক্ষে পৌঁছে দিয়ে চলে গেলে অভিযুক্ত শিক্ষক ওই মহিলাকে টানাহেঁচড়া করে এবং শরীরের বিভিন্ন স্পর্শকাতর জায়গায় হাত দেয়।

এ সময় ওই নারী তাকে অনেক অনুনয়বিনয় করলেও অভিযুক্ত শিক্ষক তাকে জোরাজুরি করেন। এক পর্যায়ে তিনি জোরপূর্বক অফিস থেকে বের হয়ে যান।

এ বিষয়ে অভিযোগকারী নারী জানান, ‘স্যার আমার শ্লীলতাহানির চেষ্টা করেন এবং শরীরের বিভিন্ন স্পর্শকাতর জায়গায় হাত দেন। পরে আমি মান-সম্মানের ভয়ে কয়েকদিন স্কুলেও যাইনি। এই ফাঁকে তিনি আমার জায়গায় অন্য একজনকে নিয়োগ দেন। আমি এই ঘটনার বিচার চাই।

এ বিষয়ে কথা বলার জন্য অভিযুক্ত শিক্ষক মাহবুবুর রহমানের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করলে তিনি অভিযোগ অস্বীকার করে ফোন বন্ধ করে দেন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, লাকসাম পাইলট হাই স্কুলের সাবেক প্রধান শিক্ষক শাহজাহান মোল্লার বিদায়ের পর ২০১৮ সালের ডিসেম্বর মাসে দায়িত্ব নেন মাহবুবুর রহমান। এর পর থেকেই তার বিরুদ্ধে স্কুলের ফান্ড থেকে ভুয়া ভাউচারের মাধ্যমে প্রায় দেড় লক্ষ টাকা আত্মসাৎসহ নারী কেলেংকারির অভিযোগ ওঠে।

এ ঘটনায় লাকসাম পাইলট হাইস্কুলের সাবেক কয়েকজন শিক্ষার্থী অভিযোগ করে বলেন, ‘পাইলট হাই স্কুল লাকসামের মধ্যে একটি নাম করা প্রতিষ্ঠান। মোল্লা স্যার (শাহজাহান মোল্লা) ভালই ছিলেন। যদি মাহবুব স্যারের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হয়, তাহলে তার বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তি নেয়া হোক।

এ বিষয়ে কথা বলার জন্য স্কুল ম্যানেজিং কমিটির সাথে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।