রাশিয়ার সাথে ভারতের মিসাইল কেনাবেচায় চুক্তি সই

রাশিয়ার কাছ থেকে এস-৪০০ আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কেনার ঘোষণা দিয়েছে ভারত। এছাড়াও আরো বেশ কয়েকটি বিষয়ে মস্কোর সঙ্গে চুক্তি সইয়ের কথা জানিয়েছে দেশটি। নয়াদিল্লিতে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ও ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির মধ্যকার এক বৈঠকের পরপরই চুক্তিগুলোর ঘোষণা দেয়া হয়।

এ বিষয়ে দুই দেশের পক্ষ থেকে প্রকাশ করা এক যৌথ বিবৃতিতে বলা হয় – ‘ভারতে এস-৪০০ দূরপাল্লার সারফেস টু এয়ার মিসাইল সিস্টেম সরবরাহের চুক্তি সম্পাদনের বিষয়টিকে উভয় পক্ষই স্বাগত জানিয়েছে।’

ভারতীয় এক সূত্র জানায় –

মোট ৫২০ কোটি ডলারের সমমূল্যে এ মিসাইল কিনছে ভারত। এছাড়া রেলওয়ে, সার ও মহাকাশ খাতে সহযোগিতার বিষয়েও দুই দেশের মধ্যে চুক্তি সই হয়েছে। এর মধ্যে মহাকাশ-সংক্রান্ত চুক্তির আওতায় ভারতের প্রথম মনুষ্যবাহী স্পেস মিশনের মহাকাশযাত্রীদের প্রশিক্ষণ দেবে রাশিয়া। ২০২২ সালে মিশনটি মহাকাশের উদ্দেশে রওনা দেয়ার কথা রয়েছে।

রাশিয়ার কাছ থেকে সমরাস্ত্র কেনার ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞাকে উপেক্ষা করেই এ মিসাইল কিনছে ভারত। স্নায়ুযুদ্ধ পরবর্তীকালে রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক এ মুহূর্তেই সবচেয়ে তলানিতে। বিশ্বব্যাপী ঘটে যাওয়া বেশকিছু সাইবার হামলার পেছনে রাশিয়ার হাত রয়েছে বলে পশ্চিমা বেশ কয়েকটি দেশের পক্ষ থেকে গত সপ্তাহেই দাবি করা হয়। দেশগুলোর এ বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে রুশ-মার্কিন সম্পর্ক আরো অবনতির দিকে গড়ায়।

তবে এ মুহূর্তে ভারতকে নিয়ে বেশ কৌশলী অবস্থান নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। বেইজিংয়ের ক্রমবর্ধমান প্রভাবকে খর্ব করতে গিয়ে চীনের প্রতিবেশী দেশটির সঙ্গে সম্পর্ককে আরো মজবুত করে তুলতে চাইছে ওয়াশিংটন। অন্যদিকে চীনের এ ক্রমবর্ধমান প্রভাব এখন ভারতেরও মাথাব্যথার কারণ। ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলোয় ব্যাপক হারে বিনিয়োগ করতে গিয়েও নয়াদিল্লির বিরাগভাজন হয়েছে বেইজিং। এসব বিনিয়োগের মধ্য দিয়ে দেশগুলোর ওপর ভারতের প্রভাবকে খর্ব করে দিয়েছে চীন।

এদিকে ১৯৫০ সাল থেকেই রাশিয়া ও ভারত একে অপরের সঙ্গে মিত্রতাপূর্ণ অবস্থান ধরে রেখেছে। প্রতিবেশী দুই শত্রুভাবাপন্ন দেশ চীন ও পাকিস্তানের কাছ থেকে সম্ভাব্য নিরাপত্তা হুমকি মোকাবেলার জন্য প্রয়োজনীয় অস্ত্র ও সামরিক সরঞ্জামের বিষয়ে মস্কোর উপরে নয়াদিল্লির নির্ভরতা সবচেয়ে বেশি।

এ নিয়ে অবজারভার রিসার্চ ফাউন্ডেশনের বিশেষজ্ঞ মনোজ জোশি বলেন, ‘রাশিয়া যাতে চীন শিবিরের দিকে পুরোপুরি ঝুঁকে না পড়ে, সেজন্য দেশটির সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক রাখা ভারতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। এছাড়া রাশিয়ার আঞ্চলিক স্বার্থ ও ভারতের আঞ্চলিক নীতির মধ্যে অনেকাংশেই মিল রয়েছে, যেটি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে নেই।’

যুক্তরাষ্ট্র ও ভারত গত মাসেই ২০১৯ সালে এক যৌথ সামরিক মহড়া আয়োজনের ঘোষণা দিয়েছে। একই সঙ্গে পরস্পরের মধ্যে সংবেদনশীল সামরিক তথ্যাবলি আদান-প্রদানের বিষয়েও ঐকমত্যে পৌঁছেছে দুই দেশ। ভারতে অস্ত্র সরবরাহকারী দেশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র বর্তমানে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে।

সব মিলিয়ে রাশিয়ার কাছ থেকে অস্ত্র কেনার পরও এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের নমনীয় অবস্থানের প্রত্যাশা করার মতো যথেষ্ট যুক্তি ভারতের হাতে রয়েছে। তবে এ বিষয়ে কোনো ধরনের ছাড় দেয়া হবে না বলে আগেই ঘোষণা দিয়ে রেখেছে যুক্তরাষ্ট্র।