‘ভারতের সুপ্রীম কোর্টের বাবরি মসজিদ নিয়ে একপেশে রায় মুসলমানদের উপর অবিচার’

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের নায়েবে আমীর মুফতী সৈয়দ মুহাম্মদ ফয়জুল করীম এক বিবৃতিতে বলেন, যারা সন্ত্রাসী কায়দায় বাবরি মসজিদকে ভেঙ্গেছে তাদের বিচার না করে উল্টো মসজিদের জায়গায় রাম মন্দির বানানোর রায় আদালতের প্রতি মানুষের আস্থাকে বিনষ্ট করার নামান্তর। 

তিনি বলেন, আদালতে এভাবে একপেশে রায় দিয়ে পাঁচশত বছরের মসজিদ ভেঙ্গে দেয়ার নজির ইতিহাসে নেই। তিনি বলেন, এ রায় বাস্তবায়ন হলে অন্যান্য ধর্মের স্বার্থও প্রশ্নবিদ্ধ হবে। এই রায়ের বিরুদ্ধে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ধারাবাহিক এবং নিয়মতান্ত্রিক আন্দোলন চালিয়ে যাবে এবং ঐক্যবদ্ধভাবে সকলকে এগিয়ে আসারও আহ্বান জানান। 

তিনি বলেন, কঠোর আন্দোলনের মাধ্যমে বাবরি মসজিদ রক্ষা করা হবে। প্রয়োজনে লংমার্চের মত কঠোর কর্মসূচিও দেয়া হবে। মুফতী ফয়জুল করীম জাতিসংঘসহ বিশ্ব নেতৃবৃন্দকে বাবরি মসজিদ রক্ষায় এগিয়ে আসার আহ্বান জানান এবং প্রয়োজনে বিশ্ব আদালতে ভারতের বিজেপি সরকারের বিরুদ্ধে মামলা করারও আহ্বান জানান।

খেলাফত মজলিসের আমীর মাওলানা মোহাম্মদ ইসহাক বলেছেন, ভারতের সুপ্রীম কোর্ট বাবরি মসজিদ নিয়ে একপেশে রায়ের মাধ্যমে মুসলমানদের উপর অবিচার করেছে। কোন বিবেকবান মানুষের পক্ষে এ অন্যায় রায় মেনে নেয়া সম্ভব নয়। এ রায়ে সারা দুনিয়ার মসলমানরা ব্যথিত ও ক্ষুব্ধ। আমরা এ রায় বাতিলের করে যথাস্থানে বাবরি মসজিদ পুন:স্থাপনের দাবি জানাচ্ছি। খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের বৈঠকে সভাপতির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

তাহফিজে হারামাইন পরিষদ বাংলাদেশ এর সভাপতি মাওলানা সাদেক আহমদ সিদ্দিকী এক বিবৃতিতে বলেন, ভারতের আদালত বাবরি মসজিদ নিয়ে একপেশে রায় দিয়ে মুসলিম উম্মাহর ধর্মীয় অনুভূতিতে চরম আঘাত হেনেছে। এ রায় মুসলিম উম্মাহর কাছে মোটেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। তিনি অনতিবিলম্বে এ রায় প্রত্যাহারের দাবি জানান। 

এদিকে, বাংলাদেশ ইসলামী ঐক্যজোটের চেয়ারম্যান মাওলানা আব্দুর রকিব এডভোকেট এক বিবৃতিতে ভারতের আদালত বাবরি মসজিদ নিয়ে অযৌক্তিক রায় দিয়ে মুসলিম উম্মাহর হৃদয়ে আঘাত হেনেছে। এই রায় উপ-মহাদেশের মুসলমানরা মেনে নিতে পারে না।

ইসলামী ঐক্যজোট চেয়ারম্যান মাওলানা আবদুল লতিফ নেজামী বলেছেন, রাম নামের একটি কাল্পনিক চরিত্রকে বাস্তবে রূপ দেয়ার জন্যই ভারতের সুপ্রিম কোর্ট বাবরি মসজিদ নিয়ে কালো রায় প্রদান করেছে। বাবরি মসজিদের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে প্রয়োজনে ভারত অভিমুখে লংমার্চ করা হবে।