তামিল বিদ্রোহীদের প্রশংসা করায় গ্রেফতার শ্রীলংকান এমপি

এক শ্রীলংকান এমপি গ্রেফতার হয়েছেন। যিনি  নিষিদ্ধ ঘোষিত তামিল টাইগার বিদ্রোহী দলকে ফেরানোর আহ্বান করেছিলেন। সোমবার এই সংসদ সদস্যকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

তামিল বিদ্রোহী সংঠন টাইগারের প্রশংসা করে এই সাংসদ বলেছিলেন,

আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় তারা (বিদ্রোহীরা) পুলিশের চেয়েও ভালো ছিল।

বছরের শুরুর দিকে এক ভাষণে এই আইন প্রণেতা বিজয়াকলা মহেশ্বরণ বলেছিলেন,

উত্তর শ্রীলংকার মানুষ টাইগারদের (বিদ্রোহী দল) অধীনে নিরাপদ ছিল, যাদের ৩৭ বছর কেটেছে বেসামরিক লোকেদের উপর আত্মঘাতী বোমা হামলার বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করে।

দেশটির সংখ্যালঘু তামিলদের রাজধানী জাফনার প্রতিনিধি মহেশ্বরণ বলেন, ২০০৯ সালের মে মাসের আগে টাইগারদের দ্বারা নিয়ন্ত্রিত এলাকায় নারী ও শিশুদের বিরুদ্ধে সহিংসতা কম ছিল।

জুলাই মাসে তার  মন্তব্যগুলির জন্য বেশিরভাগ সিংহলী গোষ্ঠীর কাছ থেকে প্রতিবাদ আসে, যা তাকে (মহেশ্বরণ) সন্ত্রাসী কার্যকলাপের জন্য নিষিদ্ধ ঘোষিত একটি সংগঠনকে পুনরুজ্জীবিত করার দায়ে অভিযুক্ত করেছিল।

এমনকি শ্রীলঙ্কার ক্ষমতাসীন দলের এই সদস্যকে শিশু বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী হিসেবে পদত্যাগ করতে বাধ্যও করা হয়েছিল।

পুলিশের এক বিবৃতিতে বলা হয়, “সংগঠিত অপরাধ বিভাগ এমপিকে হেফাজতে নিয়েছে এবং তাকে ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে হাজির করা হবে।”

তাকে অর্ধ মিলিয়ন রুপি (২৯০০ ডলার) জামিনে মুক্তি দেওয়া হয় এবং  ৭ ডিসেম্বর পরবর্তী শুনানির জন্য নির্ধারিত হয়।

সরকারি বাহিনী ২০০৯ সালের মে মাসে সামরিক হস্তক্ষেপে দীর্ঘদিন ধরে চলমান গেরিলা যুদ্ধের পর তামিল টাইগারদের উৎখাত করতে সক্ষম হয়।

গেরিলারা তাদের উচ্চ ক্ষমতাবলে শ্রীলঙ্কার প্রায় এক তৃতীয়াংশ নিয়ন্ত্রণে নিয়েছিলো এবং তাদের নিজস্ব পুলিশ ও আদালতের সমন্বয়ে এক সমান্তারাল রাষ্ট্র পরিচালিত করেছিল।

এদিকে জাতিসংঘ তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করে যে, তারা বেসামরিক নাগরিকদের উপর নির্বিচারে হামলা চালানোর জন্য শিশু সৈন্যদের প্রতিবন্ধকতা এবং আত্মঘাতী বোমা হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে।

দ্বীপের এই বিচ্ছিন্নতাবাদী যুদ্ধে ১০০,০০০-এরও বেশি মানুষ নিহত হয়।