সাক্ষাৎকার: আমার প্রতি কেয়ারলেস ছিলো সেটাও আমি বলবো – ঐশী

সন্দেশ২৪: সন্দেশ টোয়েন্টিফোর ডটকম থেকে আপনাকে স্বাগতম। মিস ওয়ার্ল্ড বাংলাদেশ প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণে কার বেশি সাপোর্ট ছিল এবং এটা কি সহজ ছিল?

ঐশী: কারও সাপোর্ট পাইনি তা বলা কঠিন হয়ে যাবে। ফ্যামিলি, ফ্রেন্ড, দেশের মানুষ সবাই সাপোর্ট করেছে। আই এম ব্লেসড।

সন্দেশ২৪: অল্প বয়সে মিস ওয়ার্ল্ড বাংলাদেশ। এত বড় অর্জন কীভাবে দেখেন?

ঐশী: আলহামদুলিল্লাহ। সময়ের আগে কেউ কখনো কিছু পায়নি কেউ পাবেও না। বয়স অল্প হোক, এটা আমার জন্য সঠিক সময় ছিল তাই আল্লাহ এ বয়সে আমাকে সুযোগ করে দিলেন।

সন্দেশ২৪: দেশের প্রতিনিধি হয়ে ওয়ার্ল্ডে আপনার অবদান কে কিভাবে মূল্যায়ন করেছেন?

 ঐশী: অনুভূতি মিস ওয়ার্ল্ড বারবার বলেছি যে, ৩০ লক্ষ মানুষের রক্তের বিনিময়ে স্বাধীনতা আনা দেশের প্রতিনিধিত্ব করছি। এখানে আমি অনেক বড় সম্মানের মনে করি। আর অবদান কত রাখতে পেরেছি তা আমি জানিনা, তবে বাংলাদেশের একটা ইতিহাস হয়েছে যা আগে ছিলো না। অপ্রস্তুত ছিলাম। বিভিন্ন অসুবিধার আমি পার্টিসিপেট করেছি এটা আমার জন্য প্রতিযোগিতা না যুদ্ধের মত ছিল কারণ আমি অনেক প্রতিকূলতার মধ্যে গিয়েছি

সন্দেশ২৪: অসুবিধা কোথায়?

ঐশী: আমাদের দেশের আয়োজকেরা আমার প্রতি কেয়ারলেস ছিল, সেটাও আমি বলব।  আমাকে যেভাবে প্রস্তুত করে পাঠানোর জন্য উচিত ছিল তা করেননি। আর (অনভিজ্ঞ) অবস্থায় পাঠানো হয়েছে। চতুর্দিকে ক্যামেরা ফেস করা এখান থেকে শিখেছি আর ওইখানে যাওয়ার সময় খুঁটিনাটি প্রত্যেকটা কিছু যেমন পোশাক-আশাক মেকআপ করা কিছুই জানতাম না। যেমন আমি ঐশী কে মিস ওয়ার্ল্ড এর মিনিমাম ধারণা দেওয়া হয়নি। আমি একেবারেই র অবস্থায় গিয়েছি। বিউটি পারপাসে কাঁচা অবস্থায় গিয়েছি মোটামুটি প্রতিকূলতার সাথে যুদ্ধ করেছি। সেখান থেকে ছোট সাকসেস এসেছে। সবচাইতে বড় আমার স্বার্থকতা যখন কোন মেয়ে বলেন ইউ আর মাই ইন্সপাইরেশন। এখন অনেক ভালো মেয়েরা এসেছে, যাচ্ছে এবং যাবে মিস ওয়াল্ড এ আমি যে তাদের সাহস এর কারণ হতে পেরেছি তারা যে সাহস পেয়েছে এটা আমার জন্য অনেক বড় কিছু।

সন্দেশ২৪: তাহলে আপনি বলেছেন বাংলাদেশ আপনাকে একাবারে র অবস্থায় পাঠিয়েছিলো?

ঐশী: আমি ঐশী একদম রো অবস্থায় গিয়েছি।

সন্দেশ২৪: মিস ওয়ার্ল্ড বাংলাদেশ আপনাকে কী তৈরি করতে পারিনি?

ঐশী: এটা তাদের প্রথম ছিলো তবে এর আগে একজন গিয়েছে তবে খুব বেশি এক্সপেরিয়েন্স তাদের নেই। আমি সেখানে অপ্রস্তুত হয়ে গেলাম। আমাকে দেশে পাঠিয়ে দেওয়া হবে। বিভিন্ন কথা বলছিলো ফাইনালি তা হয়নি।  পার্শ্ববর্তীদেশ তাদেরকে অনেক বেশি ছয় থেকে সাত মাস ধরে সাপোর্ট করেছে। এতো বেশি সাপোর্ট পায় সবাই, সেখানে আমি ৬-৭ দিনও কোনো সাপোর্ট পাইনি। কিভাবে আমাকে যেতে হবে কি করতে হবে সেটাও বলে দেওয়া হয়নি আন্দাজের উপর ম্যানেজ করেছি। আপনাদের চট্টগ্রামের তোরসা কে আমার অভিজ্ঞতার কথা শেয়ার করেছি এবং কি কি  করতে হবে তা বলে দিয়েছি। ওর জন্য আলাপ করেছি এটা যে তোরসার জন্য কত বড় সাপোর্ট। আমি না পেয়ে বুঝেছি। 

সন্দেশ২৪: মিস ওয়ার্ল্ডে আপনার সময় কেমন কেটেছে? 

ঐশী: আলহামদুলিল্লাহ ভালো তবে আরো ভালো হতে পারতো। 

সন্দেশ২৪: বর্তমান সময়ে আপনি কী কী কাজ করছেন?

ঐশী:  বর্তমানে ফিল্মের কাজ করছি রোজার ঈদে আসবে।

সন্দেশ২৪: ফিল্মের জন্য গরুর গোবর এর লাটি বানাতে হয়েছে আদৌ কি কখনো দেখেছেন? আর যখন করেছেন তখন অনুভূতি কেমন ছিলো?

ঐশী: এইরকম তো আমরা সবাই জানি গবরের আটি এই জিনিসটা দেখেছি তবে কখনো নিজে করতে হবে তা ভাবিনি যেহেতু বলেছি ক্যারেক্টার টা করব, সো আই হ্যাভ টু বিলং।

সন্দেশ২৪: দেশের নাটক খুব জনপ্রিয় তবে আপনাকে দেখা যায় না কেন?

ঐশী: নাটক নিয়ে আপাতত প্ল্যানিং নেই। আপাতত নিজেকে বড় পর্দায় দেখার ইচ্ছে আছে।

সন্দেশ২৪: চায়নাতে গিয়ে এক প্রতিযোগী আপনাকে যখন বলে তুমি কি H2o থেকে এসেছো তখন আপনার অনুভূতি কেমন হয়েছে?

ঐশীঃ হাহাহা কিছুক্ষণের জন্য হতবাক হয়ে গিয়েছিলাম তারপর বললাম হ্যাঁ আমি মিস ওয়ার্ল্ড বাংলাদেশ থেকে এসেছি। যেহেতু সে জানে অস্বীকার করার কিছুই নেই হঠাৎ শুনে একটু হতবাক হয়ে গিয়েছিলাম।

সন্দেশ২৪: আপনাকে মিস ওয়ার্ল্ড  বাংলাদেশ এর বিচারকগন আপনাকে আলিয়া বাট বলে সম্বোধন করেছেন প্রশ্ন হল আপনি কি আলিয়া বাটের মত কাজ করবেন?

ঐশী: আই রিআলি লাইক দা পারসন। তাকে খুব ভালো লাগে। বিচারকগণ হয়তো তার সাথে কোন মিল পেয়েছিল আলয়া অনেক ভালো কাজ করেন হ্যাঁ আমার ইচ্ছা আছে ডিফরেন্ট ভালো কাজ করার সেটা আলিয়াবাট কিংবা অন্য কারো মত…

সন্দেশ২৪: গাযয়িক হবার ইচ্ছা আছে কিনা? 

ঐশীঃ আমি অতো ভালো গান করি না তবে যদি শিখতে পারি নিজেকে প্রস্তুত মনে করি সুযোগ পেলে করব। 

সন্দেশ২৪: আপনার ফিউচার প্ল্যান কি?

ঐশী: আই উইল ট্রাই টু ফেস লাইফ ইজ ইট কাম্স। জীবন কখন মোর ফিরে নিবে কিভাবে ধরা যাবে বলা যায় না। আল্লাহর কাছে চাওয়া যেভাবেই লাইফ আমার কাছে আসুক সম্মানের সাথে সফলতা সাথে আসুক।