কেরানীগঞ্জে প্লাস্টিক কারখানায় অগ্নিকান্ডে মৃত বেড়ে ১৩

কেরানীগঞ্জে ভস্মীভূত প্রাইম প্লাস্টিক কারখানা এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। এ পর্যন্ত এই অগ্নিকাণ্ডে ১৩ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গেছে। নিহত আহতদের অধিকাংশই বরিশাল জেলার স্থায়ী বাসিন্দা বলে জানা গেছে। তাদের সঠিক নাম ঠিকানা এখনও জানা যায়নি। 

আহত ও নিহত শ্রমিকদের স্বজনরা কারখানা এলাকায় এসে সকাল থেকে আহাজারি করতে থাকে। এ সময় এলাকায় আবেগময় পরিবেশের সৃষ্টি হয়। কারখানা ধ্বংস স্তুপ দেখার জন্য উৎসুক জনতা ঘটনাস্থলে ভীড় জমায়। নিরাপত্তার স্বার্থে কারখানাটি পুলিশ পাহাড়ায় রাখা হয়েছে।

এদিকে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব কে.এম. আলী গতকাল দুপুর ১২টায় ভস্মীভূত কারখানাটি পরিদর্শন করে বলেন, যারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে তাদের সবাইকে সরকারের পক্ষ থেকে সহযোগিতা করা হবে। এই কারখানাটি ননকমপ্লান্স থাকায় ইতোমধ্যে মালিকের বিরুদ্ধে একটি মামলা করা হয়েছে। 

ঘটনায় একই মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ড. মোল্লা জালালকে প্রধান করে পাঁচ সদস্য বিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। এছাড়াও ফায়ার সার্ভিসের সহকারী পরিচালক (অ্যাম্বুলেন্স) আবুল হোসেনের নেতৃত্বে ৪ সদস্য বিশিষ্ট আরো একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

তদন্ত কমিটির প্রধান শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ড. মোল্লা জালালও দুপুর সাড়ে ১২টায় ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে বলেন, আমি ও কমিটির অন্য সদস্যরা ৭ কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত রিপোর্ট সরকারের কাছে দাখিল করবো।

ফায়ার সার্ভিসের তদন্ত কমিটির প্রধান আবুল হোসেন বলেন, কারখানা যেভাবে ও যে পরিবেশে চলার কথা তার কোন কিছুই এখানে পাওয়া যায়নি। এ ধরনের কারখানা আবাসিক এলাকায় না থাকাই উত্তম।

তদন্ত কমিটি ভস্মীভূত কারখানা পরিদর্শনে আসলেও কারখানাটির মালিক বা শ্রমিকদের কাউকে উপস্থিত পাননি তারা। এছাড়া শুভাড্ড্যা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান হাজী ইকবাল হোসেন সকালে ঘটনাস্থলে আসেন। এ সময় ক্ষতিগ্রস্ত শ্রমিক ও তাদের স্বজনদের ক্ষতিপূরণসহ চিকিৎসার আশ্বাস দেন। 

এছাড়া তিনি সকল ঝুঁকিপূর্ণ কারখানা আবাসিক এলাকা থেকে অন্যত্র সরিয়ে দেয়ার দ্রুত ব্যবস্থা করবেন বলেন জানান। ঘটনাস্থলে আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য বিপুল সংখ্যক পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের মোতায়েন করা হয়েছে।

কারখানার সিকিউরিটি সুপারভাইজার শাকিল জানান, গ্যাস লিকেজ থেকেই আগুনের সূত্রপাত হয়। দ্রুত কারখানায় রাখা গ্যাস সিলিন্ডারগুলো অন্যত্র সরানোর চেষ্টা করা হয়েছিল। কিন্ত দ্রুত গতিতে আগুন কারখানায় ছড়িয়ে পড়ে। এ সময় কারখানায় কর্মরত শ্রমিকরা দৌঁড়াদৌড়ি করে পালানোয় তাদের বেশিরভাগ আগুনে ঝলসে গিয়ে গুরুতরভাবে আহত হয়।