কাশ্মীরের সবচেয়ে বড় মসজিদে নামাজ হয় না ৪ মাস ধরে

ভারত নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরের মূল শহর শ্রীনগরে অবস্থিত উপত্যকার সবচেয়ে বড় জামা মসজিদের বাইরের দেয়ালে লেখা আছে, ‘কোনো ছবি তুলবেন না। চলে যান। যদি তারা বুঝতে পারে যে, আপনি সাংবাদিক তাহলে তারা আপনাকে মারধর করবে।’

উপরে উল্লিখিত ‘তারা’ বলতে কাশ্মীরের সবচেয়ে বড় ৬০০ বছরের পুরনো এই মসজিদের চারপাশে মোতায়েন আধাসামরিক বাহিনীর সদস্যদের কথা বলা হয়েছে। গত ৫ আগস্ট যখন বিতর্কিত এই উপত্যকার বিশেষ মর্যাদা খর্ব করে রাজ্যটিকে দিখণ্ডিত করা হয় তখন থেকেই প্রসিদ্ধ এই মসজিদটি তালাবদ্ধ।

গত শুক্রবারও শ্রীনগরের জামা মসজিদের চারপাশে গোটা উপত্যকা থেকে আসা হাজার হাজার মানুষ জমায়েত হন। কিন্তু গত ৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত টানা ১৭ শুক্রবার সেখানে জুমার নামাজ পড়তে পারেনি সেখানকার মুসলিম ধর্মাবলম্বীরা। মানুষের জমায়েত হলেও নিরাপত্তা বাহিনী তা ছত্রভঙ্গ করে দেয়।

মসজিদটির পাশের একটি এলাকা নওহাট্টার বাসিন্দা ২৬ বছর বয়স খালিদ বশির বলেন, ‘কর্তৃপক্ষ কাশ্মীরের ধর্মীয় এই জমায়েতে কাশ্মীরের অংশগ্রহণকে হুমকি হিসেবে বিবেচনা করে। প্রতি মুহূর্তে পরিস্থিতি আরও খারপ হচ্ছে। কয়েক মাস ধরে মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ এই স্থানটির মানুষকে ধর্ম পালনেও বাঁধা দেয়া হচ্ছে।’

উপত্যকার ওই মুসলিম বাসিন্দা আরও বলেন, ‘আমাদের ধর্ম পালনের অধিকার তো সংবিধান কর্তৃক স্বীকৃত। কিন্তু কাশ্মীরের সংবিধানের এমন লঙ্ঘন বারবার হচ্ছে।’ 

সৈয়দ আহমেদ নকশাবন্দি নামের এক ব্যক্তি ১৯৬৩ সাল থেকে জামা মসজিদের ইমাম হিসেবে নিয়োজিত। তিনি বলেন, অবরুদ্ধ করার মাধ্যমে আমাদের এই অঞ্চলে জুলুম চালানো হচ্ছে। গত ৫ আগস্ট থেকে জামা মসজিদ বন্ধ থাকায় সেখান থেকে ৫ কিলোমিটার দূরের এক মসজিদে নামাজ আদায় করতে যেতে হয় ৮০ বছর বয়সী এই ইমামকে।

ইমাম আহমেদ নকশাবন্দি বলেন, ‘জামা মসজিদে নামাজ আদায়ের মধ্যে যে এক ধরনের তৃপ্তি আছে তা অন্য কোথাও পাওয়া অসম্ভব। সেখানে নামাজ আদায় করতে না পেরে আমার খারাপ লাগে।’