পিবিজিএসবি-এর সভাপতি ড. আজিজ, সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. আমিনুল

মাহমুদুল হাসান সোহাগ:: গত ২৮ ও ২৯ ডিসেম্বর ২০১৯ ”বাংলাদেশের কৃষির চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় উদ্ভিদ প্রজননের ভূমিকা” এই মূল প্রতিপাদ্য বিষয়ের উপর দেশে ফসলের উচ্চ ফলনশীল জাত উদ্ভাবনকারী বিজ্ঞানীদের (উদ্ভিদ প্রজননবিদ) সংগঠন “বাংলাদেশ উদ্ভিদ প্রজনন ও কৌলিতত্ত্ব সমিতি” তথা “Plant Breeding & Genetics Society Bangladesh” (PBGSB)-এর ১১তম দ্বিবার্ষিক সম্মেলন ঢাকাস্থ এসিআই সেন্টার-এ অনুষ্ঠিত হল। অনুষ্ঠানে দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়, কৃষি গবেষণা প্রতিষ্ঠান, কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগসহ অন্যান্য সরকারী, স্বায়ত্তত্বশাসিত, বেসরকারী প্রতিষ্ঠানের ৫০০ এর বেশী উদ্ভিদ প্রজননবিদ অংশগ্রহণ করেন।

সম্মেলনের শুভ উদ্বোধন ঘোষণা করে চীফ প্যাট্রন স্বাধীনতা পুরস্কার প্রাপ্ত, এমিরেটাস বিজ্ঞানী কৃষিবিদ ড. কাজী এম. বদরুদ্দোজা দেশের খাদ্যে স্বয়ং সম্পূর্ণতা অর্জনে উদ্ভিদ প্রজননবিদের ভূমিকার ভূয়শী প্রশংসা করে ভবিষ্যতের কৃষির চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় কাজ করে যাওয়ার অনুরোধ জানান। উক্ত অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ড. এফ. এইচ. আনসারী, এমডি ও সিইও, এসিআই এগ্রি বিজনেস। সম্মেলনের বিজ্ঞানীদের উৎসাহিত বরার জন্য সিনিয়র উদ্ভিদ প্রজননবিদের মধ্যে দুইজনকে “National Plant Breeding Award” এবং দুইজনকে জুনিয়র বিজ্ঞানীকে “PBGSB Young Scientist Award” প্রদান করা হয়। প্রতিপাদ্য বিষয়ের উপর মূলপ্রবন্ধ উপস্থাপন করেন প্রফেসর ড. মো. শহীদুর রশীদ ভুঁইয়া। তিনি গত ১০ বছরে বিভিন্ন সরকারী ও বেসরকারী প্রতিষ্ঠানে উদ্ভিদ প্রজননবিদের ভূমিকা ও তাদের দ্বারা উদ্ভাবিত জাতসমুহের বর্ননা দেন। ফলনের সীমারেখা অতিক্রম না করা, স্বল্প মেয়াদী অথচ উচ্চফলনশীল জাত উদ্ভাবন করা। প্রতিকূল পরিবেশ সহ্যকারী পুষ্টিমান সম্পন্ন জাত উদ্ভাবন এবং প্ল্যান্ট ভ্যারাইটি এ্যাক্ট ২০১৯ বাস্তবায়ন।

উপরোল্লিখিত সমস্যাসমুহ মোকাবেলা করে সঠিক নীতি বাস্তবায়নের জন্য উদ্ভিদ প্রজননবিদ তথা সরকারের নীতি নির্ধারকদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। একই সাথে সমিতির সভাপতি ও সাধারন সম্পাদক দেশের খাদ্য ঘাটতি পূরণে উদ্ভিদ প্রজননবিদদের অবদানের স্বীকৃতি প্রদানসহ কর্মক্ষেত্রে তাদের মেধারপূর্ণ প্রয়োগের সুযোগ করে দেয়ার আহ্বান জানান।

সম্মেলন শেষে সমিতির বার্ষিক সাধারন সভায় পরবর্তী দুই বছরের (২০২০-২০২১) জন্য ড. মোঃ আজিজ জিলানী চৌধুরী সভাপতি এবং প্রফেসর ড. এ. কে. এম. আমিনুল ইসলামকে সাধারন সম্পাদক করে নতুন কমিটি গঠিত হয়। কমিটিতে এক জন সিনিয়র সহ-সভাপতি – ড. তমাল লতা আদিত্য; দুই জন সহ-সভাপতি – (১) প্রফেসর ড. মোঃ আশরাফুল হক, (২) ড. মোঃ আবুল কালাম আযাদ, ট্রেজারার– প্রফেসর ড. মোঃ জামিলুর রহমান; যুগ্ম-সম্পাদক– (১) ড. পার্থ সারথী বিশ্বাস, (২) ড. মোঃ সেলিম উদ্দিন, সাংগঠনিক সম্পাদক– (১) ড. মোঃ হারুনুর রশীদ, (২) ড. মোঃ কামরুল ইসলাম মতিন; প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক– মোঃ রেজওয়ান মোল্লা; দফতর সম্পাদক– ড. মোঃ আক্কাস আলী এবং তের জন সদস্য প্রফেসর ড. নরেশ চন্দ্র দেব বর্মা, প্রফেসর ড. মোঃ রায়হান আলী, প্রফেসর ড. মুহাম্মদ হাসানুজ্জামান, ড. আব্দুল্লাহ ইউসুফ আকন্দ, প্রফেসর ড. নাসরীন আক্তার আইভী, ড. নার্গিস আক্তার, প্রফেসর ড. মোঃ আনোয়ার হোসেন, ড. মোঃ আনিসুর রহমান, প্রফেসর ড. মোঃ নেসার উদ্দিন, মোঃ মিজানুর রহমান, ড. মোঃ খায়রুল বাশারকে, ড. মোঃ মতিয়ার রহমান, প্রফেসর ড. মোঃ শহীদুর রশীদ ভূইয়াঁ নির্বাচিত হয়েছেন।