সমাজ প্রগতিকে এগিয়ে নিতে স্বপ্নযাত্রীর ধারাবাহিক ভূমিকা অনন্য: অনুপম সেন

নিজস্ব প্রতিবেদক: হাজারো স্বপ্নে বোনা গল্পের অন্য নাম স্বপ্নযাত্রী। লাল-হলুদ ফুলের পাপড়ি দিয়ে লেখা হয়েছে ‘স্বপ্নযাত্রী’। নামের চারপাশে প্রদীপগুলো যেন জানান দিচ্ছে সংগঠনটি এখনো জ্বলছে আপন আলোয়। এমনই দৃষ্টিনন্দন ও মনোমুগ্ধকর ব্যতিক্রমী নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে সম্পন্ন হলো স্বপ্নযাত্রীর দশবছর পূর্তি অনুষ্ঠান।

‘সুন্দর স্বদেশ নির্মাণের প্রত্যয়ে আমরা স্বপ্ন দেখি, স্বপ্ন দেখাই’- এই স্লোগানকে ধারণ করে তারুণ্যের স্বপ্নে সুন্দরের বুনন করার লক্ষে প্রতিষ্ঠিত ‘স্বপ্নযাত্রী’ সাহিত্য-সংস্কৃতি-সামাজিক-মানবিক নানা কাজের বর্ণাঢ্য দশটি বছর বছর পার করেছে। সংগঠনের এক দশককে স্মরণীয় করে রাখতে গতকাল ২৯ ডিসেম্বর (রবিবার) সন্ধ্যায় জেলা শিল্পকলা একাডেমির গ্যালারি হলে পালিত হলো এ প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী। সংগঠনের সভাপতি আলী প্রয়াসের সভাপতিত্বে উমেসিং মারমা উর্মির সঞ্চালনায় উক্ত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ও সমাজবিজ্ঞানী, প্রিমিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়ে উপাচার্য অধ্যাপক ড. অনুপম সেন।

তিনি বলেন, ‘সুন্দর স্বদেশ নির্মাণের জন্য শিল্পমনস্ক তরুণদের অংশগ্রহণ খুব বেশি প্রয়োজন। শুভবোধ জাগ্রত করতে যত বেশি শিল্প ও নন্দনকলার চর্চা হবে তত বেশি জাতির মননের জায়গা সমৃদ্ধ হবে। স্বপ্নযাত্রী সুসংস্কৃতি চর্চার মাধ্যমে সুনাগরিক তৈরির পাশাপাশি মানবিক পৃথিবী গড়ে তোলার জাতীয় দায়িত্বই পালন করে যাচ্ছে। সমাজ প্রগতিকে এগিয়ে নিতে এ সংগঠনের ধারাবাহিক ভূমিকা অনন্য। আমরাও স্বপ্নযাত্রীর স্বপ্নসারথি হতে চাই।’অনুষ্ঠানের শুরুতেই প্রধান অতিথি অনুষ্ঠান স্মারকের মোড়ক উন্মোচন, কেক কাটা ও প্রদীপ জ্বালিয়ে অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন।

সাধারণ সম্পাদক ফরিদ উদ্দিন মোহাম্মদের স্বাগত কথনে কথামালা পর্ব শুরু হয়।এতে অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য, কবি-কথাসাহিত্যিক অধ্যাপক ড. মোহীত উল আলম, সমাজগবেষক ও সাহিত্যপ্রেমি অধ্যাপক ড. ওবায়দুল করিম দুলাল, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও নৃবিজ্ঞানী অধ্যাপক ড. রাহমান নাসির উদ্দিন, জেলা শিল্পকলা একাডেমির কার্যনির্বাহী পরিষদের সাধারণ সম্পাদক, নাট্যজন সাইফুল আলম বাবু।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে অধ্যাপক মোহীত উল আলম বলেন, ‘স্বপ্নের শেষ নেই। এটি পরম্পরাগত বিষয়। স্বপ্নযাত্রী সুন্দর সমাজ নির্মাণের যে সংগ্রাম করছে, শুভবোধের যে অনুশীলন করছে তা প্রবহমান থাকবে প্রজন্ম থেকে প্রজন্মান্তরে।’

প্রফেসর ওবায়দুল করিম তার বক্তব্যে বলেন, ‘সাংগঠনিক আবৃত্তি চর্চায় স্বপ্নযাত্রী এ শহরের একটি পরিচিত নাম। বাচিক উৎকর্ষতার পাশাপাশি সামাজিক-মানবিক দায়বদ্ধতার কাজও করে যাচ্ছে এটি আমাদেরকে আশান্বিত করে। শিল্পবান্ধব সুন্দর পরিবেশ গঠনে স্বপ্নযাত্রী একদিন মহীরুহ হয়ে ওঠবে, চলতে চলতে একদিন তার কাঙ্ক্ষিত স্বপ্নের সন্ধান পেয়ে যাবে।’

অধ্যাপক ড. রাহমান নাসির উদ্দিন বলেন, ‘গ্রীক সভ্যতার কাছে মানবজাতি বহুলাংশে ঋণি অথচ যে অল্পসংখ্যক মানুষ এ সভ্যতার উদ্বোধক তা ভাবলে বিস্মিত হতে হয়। স্বপ্নযাত্রী সংগঠনের এই কাফেলাও তাই। সংখ্যায় এখানে কতজন যুক্ত আছে এটি বিচার্যের বিষয় নয়। একটি সুন্দর অভিযাত্রা তারা অব্যাহত রেখেছে সমাজবদলের স্বপ্ন নিয়ে।’

নাট্যজন সাইফুল আলম বাবু বলেন, স্বপ্নযাত্রী আমার কাছ থেকে দেখা একটি কমিটেড সংগঠন। নানা সীমাবদ্ধতার ভেতর দিয়েও আবৃত্তি চর্চার মাধ্যমে সংস্কৃতিসংলগ্ন দায়বোধের বড় বড় কাজগুলো তাদের স্বপ্নের মতো করে সাজাচ্ছে। আমি বরাবরই স্বপ্নযাত্রীর স্বপ্ন বাস্তবায়নে পাশে থাকতে চেয়েছি।

দর্শকে পরিপূর্ণ গ্যালারীতে গান, আড্ডা, আবৃত্তি ও স্মৃতিচারণায় মুখর উক্ত অনুষ্ঠানের শুভেচ্ছাপর্বে বিভিন্ন সামাজিক-সাংস্কৃকি ও সাহিত্য সংগঠনের নেতৃবৃন্দ ও বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গরা স্বপ্নযাত্রীকে শুভেচ্ছা জানান। শুভেচ্ছা জানানোর ফাঁকে ফাঁকে ছিল একক, দ্বৈত ও বৃন্দ আবৃত্তির পরিবেশনা। দ্বৈত আবৃত্তিতে অংশ নেন সৌরভ শর্মা, স্নিগ্ধা বড়ুয়া, জীবন বড়ুয়া, লুজাইনা আনোয়ার নোহা, নাজিম উদ্দিন, মুনমুন ভৌমিক। একক কবিতা আবৃত্তি করেন ইনান ইলহাম। স্বরচিত কবিতা পড়েন কবি আলী প্রয়াস ও ফরিদ উদ্দিন মোহাম্মদ। এছাড়া অনুষ্ঠানে গান পরিবেশন করেন দীপ্তম দাশগুপ্ত ও মুনমুন ভৌমিক।