সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয় প্রমাণ করতে আবারো নির্বাচনে বিএনপি

গতকাল (বুধবার) দুপুরে ছাত্রদলের ৪১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে আয়োজিত ছাত্র সমাবেশে বর্তমান সরকারের অধীনে সুষ্ঠু নির্বাচন হতে পারে না প্রমাণ করতেই বিএনপি সিটি করপোরেশন নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। 

তিনি বলেন, অনেকেই প্রশ্ন করেন আপনারা নির্বাচনে কেনো গেলেন? ২০১৪ সালের নির্বাচনে যাইনি তখন আমাদেরকে বলেছিলেন যে, নির্বাচনে যাইনি ভুল করেছেন। ’১৪ সালের নির্বাচনে না যাওয়াটা প্রমাণ করার জন্যই আমরা ২০১৮ সালে নির্বাচনে গেছি, আওয়ামী লীগের অধীনে যে নির্বাচন সুষ্ঠু হবে না তা প্রমাণ করার জন্য গেছি। 

আজকেও প্রশ্ন এসেছে যে, আপনারা সিটি করপোরেশনের নির্বাচনে গেছেন কেনো? ওই একই কথা বলতে চাই, নির্বাচনে এজন্য যাচ্ছি যে, এই কথা বার বার প্রমাণ করার জন্য যে, আওয়ামী লীগের অধীনে সুষ্ঠু নির্বাচন হতে পারে না।

মির্জা ফখরুল বলেন, এই নির্বাচন কমিশন নিজেরাই বলে যে, আমরা পারিনি, প্রধান নির্বাচন কমিশনারের কথা-আমরা পারিনি। আরেকজন নির্বাচন কমিশনার মাহবুব তালুকদার পরিষ্কারই বলেই দিয়েছেন এই নির্বাচন কমিশন যোগ্য নয়, সুষ্ঠু অবাধ নির্বাচন করার জন্য। আমি বলতে যে, এই নির্বাচন কমিশনকে সরাতে হবে, এই সরকারকে সরাতে হবে এবং একটা নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশনের পরিচালনায় নির্বাচন করতে হবে।

৯০ ভাগ লোক এই সরকারকে চায় না মন্তব্য করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, আজকে উনারা (সরকার) অনেক কথা বলে। ওই বন্দুক দিয়ে, পিস্তল দিয়ে গায়ের জোরে ক্ষমতা দখল করে বসে আছে। জনগণের সরকার তো তারা নয়, জনগণ তাদের ভোট দেয়নি। 

রাস্তার মধ্যে ১০০ জন লোককে জিজ্ঞাসা করুন, ৯০ জনই বলবে এই সরকারকে আমরা চাই না। আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদককে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, ওবায়দুল কাদের সাহেব আসুন আপনার ওই পুলিশ-টুলিশ বাদ দিয়ে দেখুন মানুষ কী বলে? দেখুন দেয়ালের ভাষা কী লেখা আছে।

ছাত্রদলকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের সমস্যা নিয়ে আন্দোলনের পরামর্শ দিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, ছাত্রদলের উচিত ছাত্রদের সমস্যা নিয়ে আন্দোলন করা, প্রত্যেকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ইউনিট গড়ে তোলা, সংগঠন গড়ে তোলা এবং ছাত্রদের সমস্যা নিয়ে সামনে আসা।

তিনি বলেন, আজকে ডাকসুর ভিপি নুরকে (নুরুল হক নূর) যখন মারে, তাকে যখন শুয়ে দেয়, তোমাদেরকে (ছাত্র দলের নেতা-কর্মী) যখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে নিগৃহীত করে, তোমাদেরকে যখন আঘাত করে তখন তোমাদের জেগে উঠতে হবে, প্রতিরোধ করে দাঁড়াতে হবে। প্রতিরোধ ছাড়া বিজয় অর্জন করা সম্ভব হয় না। 

আজকে বিএনপির প্রয়োজনে নয়, শুধু বেগম খালেদা জিয়ার প্রয়োজনে নয়, তারেক রহমান সাহেবের প্রয়োজনে নয়, বাংলাদেশের মানুষের প্রয়োজনে, বাংলাদেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বের প্রয়োজনে উঠে দাঁড়াতে হবে। গোটা বাংলাদেশে মানুষকে জেগে উঠতে হবে বাংলাদেশের রাষ্ট্রকে রক্ষা করার জন্য।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলাম বলেছেন, ‘কে আছো জোয়ান, হও আগুয়ান, হাঁকিয়েছে ভবিষ্যৎ।’ তোমাদের দিকে তাকিয়ে গোটা বাংলাদেশ, দেশের ১৬ কোটি মানুষ, আমাদের নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া ওই জেলখানায় মধ্য থেকে আর দূরে হাজার মাইল দূরে তারেক রহমান।

ভারতের আইনের বিরুদ্ধে ছাত্ররাই বিক্ষোভে নেমেছে মন্তব্য করে তিনি বলেন, ভারত একটা বৈষম্যমূলক আইন করেছে, যে আইনের মধ্যে ধর্মীয় বৈষম্য রয়েছে। সেই আইনের বিরুদ্ধে ভারতে আজকে বিদ্রোহ দেখা দিয়েছে। কারা প্রথম বেরিয়েছে? ছাত্ররা। আজকে গোটা ভারতবর্ষে সমস্ত ছাত্ররা তাদের সেই আইনের বিরুদ্ধে নেমে পড়েছে। আজকে হংকংয়ে গণতান্ত্রিক আন্দোলন হচ্ছে, কারা করছে- ছাত্ররা করছে। 

এদেশে কোনো কিছুই সম্ভব হয়নি ছাত্রদের অগ্রণী ভূমিকা ছাড়া। ১৯৯১ সালে বিএনপি ক্ষমতায় এসেছিলো, নব্বইয়ের আন্দোলনের পর সব ছাত্র নেতারা চলে গিয়েছিলেন গ্রামে-গঞ্জে, গিয়ে সমস্ত মানুষকে সংগঠিত ধানের শীষে ভোট দিয়েছিলো বলেই বিএনপি জিতেছে। সমাবেশে সাংগঠনিক রিপোর্ট পেশ করেন ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক সাইফ মাহমুদ জুয়েল। এছাড়া বেলা সোয়া ১২টার দিকে ইনস্টিটিউটের গেইটের সামনে দুইটি ককটেলও বিস্ফোরণ হয়।