জন্মদিনে ভক্ত-সুহৃদের ভালোবাসায় সিক্ত হলেন কবি এজাজ ইউসুফী

বিশেষ প্রতিবেদক:
জন্মদিনে শুভেচ্ছা ও ভালোবাসায় সিক্ত হলেন কবি ও সাংবাদিক এজাজ ইউসুফী। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ, সমাজবিজ্ঞানী উপাচার্য ড. অনুপম সেন। তিনি বলেন, কবি এজাজ ইউসুফী সাহিত্য পত্রিকা সম্পাদনের মাধ্যমে যে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন তা এতদ্বঞ্চলের সাহিত্য চর্চা ও সাহিত্যিক সৃষ্টিতে বড় অবদান রাখছে। পত্রিকায় সাহিত্য পাতা সম্পাদনার গুরুত্ব তুলে ধরে বুদ্ধদেব বসুর উদ্বৃতি দিয়ে তিনি বলেন, এজাজ আখতারুজ্জামান ইলিয়াস সম্পাদনাসহ লিরিক পত্রিকায় যে সংখ্যাগুলোর কাজ করেছেন তা বাংলা সাহিত্যে উজ্জ্বল হয়ে থাকবে। এজাজ কেবল কবিই নন, তিনি একজন শক্তিশালী গদ্য লেখকও। সুসাংবাদিকতার পাশাপাশি সাহিত্যক্ষেত্রে তিনি নীরবে কাজ করে যাচ্ছেন। তাঁর সৃষ্টিকর্মকে মানুষ বহুকাল স্মরণ করবে।

অনুষ্ঠানে অপর অতিথি জাতীয় কবি কাজ নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচর্য ও কবি ও কথাসাহিত্যক মোহীত উল আলম এজাজ ইউসুফীর কবিতার নানাদিক ব্যাখ্যা করে বলেন, এজাজ সময়ের ইতিহাসকে ধারণ করে কবিতা লিখলেও তা আর সময়ের মধ্যে স্থির থাকে না, তাঁর কবিতার ব্যঞ্জনা হয়ে ওঠে সার্বজনীন ও মহাকালীন।

অধ্যাপক ড. ইফতেখার উদ্দিন চৌধুরী বলেন, আশির দশকের মাঝামাঝি চট্টগ্রামে যেকজন মূলধারার সাহিত্য চর্চা শুরু করেছিলেন তার মধ্যে কবি এজাজ ইউসুফী দীপ্তিতে ছড়িয়েছেন তার কাজের ভেতর দিয়ে। বিশেষ করে উত্তর আধুনিক চিন্তার মতো একটি নতুন সাহিত্যতত্বের অবতারণা করে তিনি কাব্য আন্দোলনকে বেগবান করেছিলেন।

ছবি-শিক্ষাবিদ সমাজবিজ্ঞানী ড. অনুপম সেন

গত ১ জানুয়ারি (বুধবার) সন্ধ্যায় চট্টগ্রামের শিল্পকলা একাডেমির আর্ট গ্যালারি হলে কবি এজাজা ইউসুফী ষাটতম জন্মউদযাপন পর্ষদ এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।আহ্বায়ক শ. ম. বখতিয়ারের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত এ সন্ধ্যায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন রাউজান পৌর চেয়ারম্যান দেবাশীষ পালিত। কবির জীবনী পাঠ করেন স্বপন মজুমদার। কবিকে উত্তরীয় পরিয়ে দেন ছোটকাগজ তৃতীয় চোখ সম্পাদক আলী প্রয়াস। এর পর অনুষ্ঠানে উপস্থিত কবির সুহৃদ, ভক্ত ও শুভানুধ্যায়ীদের নিয়ে কবি জন্মদিনের কেক কাটেন।

কেক কাটার ছবি

এর আগে সংগীত পরিবেশনার মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠান শুরু হয়। এর পর হৃদয়ের গভীর আবেগ আর ভালোবাসায় কথা, কবিতা, গানে কবিকে সিক্ত করলেন তাঁর প্রিয়জনরা।কবির প্রতি বিনম্র মমতা এবং আর কবিসত্তাকে সম্মান জানাতে বন্ধু, শুভানুধ্যায়ী, কবি, শিল্পী, সাহিত্যিক, সাংবাদিক, সংস্কৃতি কর্মী মিলিত হন এক মিলন মেলায়। এ পর্বে কবিকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানাতে আসেন চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার, রাউজান পৌরসভার চেয়ারম্যান, নাট্যসংগঠন কালপুরুষ, আবৃত্তি সংগঠন স্বপ্নযাত্রী, বোধন আবৃত্তি পরিষদ, প্রমা আবৃত্তি সংগঠন, কবি ওমর কায়সার, কবি আকতার হোসাইন, একাত্তর পরিবার, চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাব, চট্টগ্রাম সাংবাদিক ইউনিয়ন, দৈনিক পূর্বকোণ পরিবারসহ আরও অসংখ্য সংগঠন ও প্রতিষ্ঠান।

ছবি-কবির কবিতা আবৃত্তি করছে উমেসিং মারমা ঊর্মি

অনুষ্ঠানের ফাঁকে ফাঁকে কবিতা আবৃত্তি করেন আবৃত্তিশিল্পী রাশেদ হাসান, মিলি চৌধুরী, কঙ্কন দাশ, হাসান জাহাঙ্গীর, ফারুক তাহের, প্রণব চৌধুরী, দিলরুবা খানম, মো. মুজাহিদুল ইসলাম, অনিবার্ণ চৌধুরী, জেবুন নাহার শারমিন ও উমেসিং মারমা ঊর্মি, এবং কবির লেখা গান পরিবেশন করেন শিল্পী আলাউদ্দিন তাহের, শ্রেয়সী রায় ও বাউল গান পরিবেশন করেন কুষ্টিয়া থেকে আগত বাউল শিল্পীরা।

উল্লেখ্য, ১৯৬০ সালের ১ জানুয়ারি চট্টগ্রামে জন্ম নেওয়া এই কবির গ্রন্থের সংখ্যা ৭টি। তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো, স্বপ্ন্যাদ্য মাদুলি ১৯৯৬; উত্তর আধুনিকতা : নতুন অন্বয়ের পরিপ্রেক্ষিত (প্রবন্ধ) ২০০১; আখতারুজ্জামান ইলিয়াস সংখ্যা (সম্পাদনা ) ২০১৬; রামচরিত ২০১৭; আখতারুজ্জামান ইলিয়াসের সাক্ষাৎকার ও বিবিধ ২০১৮; গদ্যের গোলাঘর ২০১৯।

কবিতা, প্রবন্ধ লেখার পাশাপাশি নব্বই দশকে ‘লিরিক’ পত্রিকা সম্পাদনার মাধ্যমে উত্তর আধুকিতা নামে নতুন সাহিত্যতত্বের জন্ম দেন। তাঁর কবিতায় মানুষ, রাষ্ট্র, সাম্যবাদসহ সময়ের বিচিত্র রূপ ওঠে এসেছে।উদ্ভাসিত হয়েছে প্রকৃতি, দেশপ্রেম ও যুগযন্ত্রণার নানা দিক ।

কবিতা শিল্পের জন্য অত্যন্ত নিবেদিতপ্রাণ কবি এজাজ ইউসুফী কবিতা চর্চায় অগ্রণী ভূমিকা রাখার জন্য ২০১৬ সালে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন কর্তৃক একুশে পদকসহ অনেক পদক ও সম্মাননা লাভ করেন।