করোনা ভাইরাস মোকাবেলায় কুমিল্লায় বিভিন্ন প্রস্তুতি গ্রহণ

মাছুম কামাল | স্টাফ রিপোর্টার: মরণঘাতি করোনা ভাইরাস মোকাবেলায় দেশের বৃহত্তম জেলা কুমিল্লার স্বাস্থ্য বিভাগসহ প্রশাসন বিভিন্ন প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে। কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল (কুমেক), সদর হাসপাতালসহ অন্যান্য মেডিকেল কলেজগুলোর সমন্বয়ে ১৯টি টিম প্রস্তুত আছে।

ইতিমধ্যে অত্যাধুনিক সেবা সম্বলিত প্রাথমিক পর্যায়ে ১০০টি আইসোলেটেড বেড প্রস্তুত করা হয়েছে। তবে করোনা ভাইরাসে রোগী শনাক্ত করার কোন পরীক্ষা বা কীট নেই কুমিল্লায়।

কুমিল্লা ও পাশ্ববর্তী জেলা ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার আখাউড়ায় রয়েছে দুটি স্থলবন্দর। এছাড়া কুমিল্লার চারপাশে ১০৫ কিঃমিঃ এলাকাজুড়ে রয়েছে ভারতের সীমান্ত। প্রতিদিন বৈধ ও অবৈধপথে ভারতের লোকজন বাংলাদেশে প্রবেশ করছে। অপরদিকে দেশের সবচেয়ে বেশী প্রবাসী কুমিল্লা জেলাতে। ঘনবসতিও অনেক। সব মিলিয়ে করোনা ভাইরাস ছড়িয়ে পড়লে তা কিভাবে মোকাবেলা করা হবে এ বিষয়েও রয়েছে অনেক উৎকন্ঠা।

তবে কুমিল্লা জেলা সিভিল সার্জন ডা. নিয়াতুজ্জামান বলেন, কভিক নাইনটিন বা করোনা ভাইরাস মোকাবেলায় আমরা প্রস্তুত রয়েছি। কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশনসহ জেলার প্রতিটি উপজেলায় মেডিকেল রেপিড রেসপন্স টিম গঠন করা হয়েছে। কুমিল্লায় করোনা সৃষ্টি হবে না। তবে বাহির থেকে করোনায় আক্রান্ত হয়ে আসলে এ রোগ ছড়িয়ে পড়তে পারে। কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ, সদর হাসপাতালসহ অন্যান্য মেডিকেল কলেজগুলোর সমন্বয়ে ১৯টি টিম প্রস্তুত আছে। ইতোমধ্যে অত্যাধুনিক সেবা সম্বলিত প্রাথমিক পর্যায়ে ১০০টি আইসোলেটেড বেড রেডি করা আছে। তাছাড়া নির্দিষ্ট কয়েকটি হাসপাতাল ও রিসোর্ট নেয়া আছে। নিরাপত্তা ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়তে পারে সেই আশঙ্কায় আমরা সবকিছু প্রকাশ করছি না। তবে, যে কোন পরিস্থিতি মোকাবেলায় আমরা প্রস্তুত রয়েছি।

তিনি আরো বলেন, যদি কোন ব্যক্তি দেশের বাহির থেকে বাংলাদেশে আসেন সে ক্ষেত্রে তার মধ্যে করোনার লক্ষণ রয়েছে কিনা সেটা নিশ্চিত হতে হবে। পরিবারের পক্ষ থেকে আমাদেরকে জানাতে হবে। আমরা ওই ব্যক্তির বাড়িতে গিয়ে তাকে ১৪ দিন অবজারবেশন করবো। এমনকি পরিস্থিতি খারাপ হলে আমরাই তাকে আইসোলেশন কেন্দ্রে নিয়ে আসবো। তিনি আরো বলেন, প্রতিটি উপজেলায় কমিটি গঠন করে দেয়া হয়েছে। তাছাড়া, করোনা ভাইরাস সম্পর্কিত সচেতনতামূলক প্রচারপত্র জনগণের মাঝে বিলি করা হচ্ছে।

কুমিল্লা মেডিকেল কলেজের পরিচালক ডা. মুজিব রহমান বলেন, চীনে করোনা ভাইরাসের পাদুর্ভাব দেখা দেয়ার পর আমরা ২০ শয্যা বিশিষ্ট আইসোলেশন ইউনিট প্রস্তুত করেছি। সাধারণ মানুষের চলাচল নেই বললেই চলে ঠিক এমন স্থানেই ওই আইসোলেশন ইউনিট স্থাপন করা হয়েছে। যারা চিকিৎসা সেবা দিবেন সে সকল ডাক্তার ও নার্সদের নিরাপত্তার জন্য প্রয়োজনীয় এ্যাপ্রোন ও উপকরণ নিশ্চিত হয়েছে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, চিকিৎসক ও নার্সদের জন্য প্রয়োজনীয় নিরাপত্তামূলক ইকুইপমেন্ট এখনো নিশ্চিত হয়নি। অনেক আগেই আমরা স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে চাহিদাপত্র পাঠিয়েছি। আশা করছি কিছুদিনের মধ্যে পেয়ে যাবো। না পাওয়া পর্যন্ত যদি কোন রোগি আসে তাহলে নিরাপদ দূরত্ব বজায় রেখে চিকিৎসাসেবা দিতে হবে। সে ক্ষেত্রে চিকিৎসকরা ঝুঁকিতে পরবেন বেশি।