ফেসবুকে সাম্প্রদায়িক উষ্কানি ও প্রধানমন্ত্রীকে কটুক্তি! মামলা করলো ছাত্রলীগ নেতা

সম্প্রতি রাঙামাটি শহরের রিজার্ভ বাজার এলাকা নিবাসী সিরাজ সিরাজুল ইসলাম নামক এক ব্যক্তি তার ফেসবুক আইডিতে বিভিন্ন ধরনের সাম্প্রদায়িক উষ্কানিমূলক ও প্রধানমন্ত্রীকে ব্যঙ্গ করে লেখালেখি করে আসছিলো। ফেসবুক আইডি : Siraj Sirajul Islam ( https://www.facebook.com/siraj.sirajulislam.549)

বিগত ১১/০৩/২০২০ তারিখে সকাল ৯:২৯ ঘটিকায় সিরাজ সিরাজুল ইসলাম ফেসবুকে লিখেছেন, “বাংলাদেশে বসবাসকারী হিন্দুদের(বিধর্মী) ভারতে পাঠিয়ে দেওয়া উচিত। ভারতে যেভাবে মুসলমানদের হত্যা করা হচ্ছে সেভাবে বাংলাদেশের হিন্দুদের ও হত্যা করা উচিত। সেভাবে মন্দির ভাঙ্গা উচিত।নাস্তিক সরকার শেখ হাসিনা উল্টো মোদিকে আমন্ত্রন করছেন। বাংলাদেশে মোদি না আসার জন্যই করোনা ভাইরাস এসেছে। এখনও সময় আছে নাস্তিকতা ছেড়ে সঠিক রাস্তায় আসুন।ক্ষমতা একদিন মাটিতে মিশে যাবে।”

এছাড়া একইদিনে আনুমানিক সন্ধ্যা ৫:০০ ঘটিকার সময় উপরোক্ত ফেসবুক একাউন্টটি থেকে ৩৯ জনকে ট্যাগ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছবিতে ফাঁসির লোগো লাগিয়ে ব্যাঙ্গ করে। ছবিতে লেখা ছিলো ‘যে ফাঁসি দেখতে চান লাইক দিন’ এবং পোস্টটিতে লেখা ছিলো, ‘‘ মোদির দালাল, ভারতের দালাল, নাস্তিক সরকার, হিন্দুদের দালাল, ভারতের মতো বাংলাদেশেও মন্দির পুড়ে দেওয়া হোক “।

এছাড়া তার ফেসবুক আইডিতে হিন্দুধর্মকে কটাক্ষ করে বিভিন্ন পোস্ট শেয়ার করা হয়। পরবর্তীতে কিছু পোস্ট সরিয়ে ফেলা হয়।

এমন ঘটনায় ক্ষুদ্ধ হয়ে পোস্টের স্ক্রিনশটগুলো প্রমাণস্বরূপ ১২/৩/২০২০ তারিখে ‘ ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন ২০১৮’ এর ২৫,২৯,৩১ ধারায় রাঙামাটি কোতোয়ালি থানায় একটি মামলা করেছে রাঙামাটি জেলা ছাত্রলীগের ক্রীড়া সম্পাদক তাজুল ইসলাম রাজু। মামলা নং: ১১।

অভিযোগকারী জেলা ছাত্রলীগের ক্রীড়া সম্পাদক তাজুল ইসলাম রাজু বলেন, “মুজিব বর্ষে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা সংঘটিত করতে একটি কুচক্রী মহল উঠে পড়ে লেগেছে যা একজন ছাত্রলীগ কর্মী হিসাবে আমি কোনো রকম সহ্য করতে পারি না এবং করবো না। যার পরিপ্রেক্ষিতে আমি আইনি পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হলাম।মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নামে এবং হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজনের নামে যে কটুবাক্য উচ্চারণ করেছে তা সারা বিশ্বের কাছে অস্প্রদায়িক মডেল হিসাবে পরিচিত এই বাংলাদেশ এর জনগণ হিসাবে তার কমর্কান্ড মোটেও কাম্য নয়। তাই বাংলাদেশের যে সুনাম সারাবিশ্বে তা অক্ষত রাখতে সর্বপরি জাতির পিতার হাতে গঠিত এই সোনার বাংলাকে ছাত্রলীগ কর্মী হিসাবে কোনো ভাবে কোনো রাজাকারের রক্তের বন্ধনে আবদ্ধ ব্যক্তির হাতে ছেড়ে দিতে পারি না। ”

কোতোয়ালি থানার অফিসার ইনচার্জ জাহেদুল হক রনি জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে কটুক্তিমূলক ছবি ও হিন্দুদের মন্দির নিয়ে কটুক্তি করায় তার বিরুদ্ধে মামলা নিয়ে তাকে আদালতে সপোর্দ করা হয়।

অভিযুক্ত সিরাজুল ইসলাম সিরাজ দাবি করেন তার আইডিটি হ্যাক হয়েছে। কিন্তু কোতোয়ালি থানার অফিসারের ফোনালাপে প্রশ্নের জালে আইডি হ্যাকের কোনো প্রমান তিনি দেখাতে পারেন নি।

এলাকাবাসীর কাছ থেকে জানা যায়, অভিযুক্ত সিরাজুল ইসলাম সিরাজ বাংলাদেশের জঙ্গি সংগঠন হিসাবে পরিচিত রাজনৈতিক দল জামায়াতে ইসলামীর সমর্থক, এবং ইসলামী ছাত্রশিবিরের অর্থ যোগানদাতা হিসাবে তিনি পরিচিত।