‘কলেমা পড়ে নে, তোকে এনকাউন্টার দেওয়া হবে’

রবিবার দুপুরে কুড়িগ্রাম জেলা কারাগার থেকে জামিনে মুক্ত হয়ে সরাসরি কুড়িগ্রাম জেনারেল হাসপাতালে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক প্রাথমিক পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। হাসপাতালের বিছানায় শুয়ে লোমহর্ষক বর্ণনা দিয়েছেন। 

সাংবাদিক আরিফুল ইসলাম বলেন, ‘শুক্রবার (১৩ মার্চ) রাত ১২টার পর খেয়ে শুয়ে পড়ার পর একজন তার বাড়ির দরজায় ধাক্কা দেন। পরিচয় জানতে চাইলে কেউ পরিচয় জানায়নি। 

পরে বাইরে থাকা আরডিসি (সিনিয়র সহকারী কমিশনার-রাজস্ব) নাজিম উদ্দিনের নেতৃত্বাধীন লোকজন দরজা ভেঙে বাসায় ঢুকেই মাথায় কিল-ঘুষি মারতে শুরু করেন। আমার টেনে হিঁচড়ে গাড়িতে তুলে চোখ-হাত-পা বেঁধে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে এনকাউন্টার দিতে চায়। বারবার বলে, তুই কলেমা পড়ে ফেল তোকে এনকাউন্টার দেওয়া হবে।’

আরিফুল বলেন, ‘এ সময় তাদের কাছে অনুনয় বিনয় করে প্রাণ ভিক্ষা চাই। তাদের বলি, আমার বাবা-মা নেই, আমাকে মেরে ফেলা হলে দুটি সন্তান এতিম হয়ে যাবে। পরে তারা আমাকে গাড়িতে করে একটি ভবনে নিয়ে চোখের কাপড় একটু খুললে বুঝতে পারি এটা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়। 

আবার নাজিম উদ্দিনের নেতৃত্বে আমাকে একটি কক্ষে নিয়ে অকথ্য ভাষায় গালাগালিসহ বিবস্ত্র করে বেধড়ক মারধর করে এবং বলে তোর ভিডিও করে রাখছি।’

তিনি আরও বলেন, ‘আটকের বিষয়ে বারবার আমার অপরাধের বিষয় জানতে চাইলে নিজাম উদ্দিন বলেন, তুই আমাদের অনেক জ্বালাচ্ছিস। তোকে সাংবাদিকতা শেখাবো। এরপর চোখ বাঁধা অবস্থায় চারটি কাগজে স্বাক্ষর নিয়ে রাতেই আমাকে কারাগারে পাঠিয়ে দেয়। আমাকে কেন কারাগারে পাঠানো হলো এবং কেন ধরে আনা হলো কিছুই বলা হয়নি। আমাকে যে নির্যাতন করা হয়েছে তার আঘাতের চিহ্ন আমার শরীরে আছে।’

এর আগে সকালে অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেনের আবেদনের পর কুড়িগ্রামের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. সুজাউদ্দৌলা তাকে জামিন দেন।

জামিন প্রসঙ্গে আরিফুল ইসলাম জানান, কুড়িগ্রাম জেলা কারাগার কর্তৃপক্ষ তার কাছে একটি ওকালতনামা পাঠায়। পরিবার পাঠিয়েছে বলে স্বাক্ষর নেওয়া হয়। তবে পরিবারের কেউ ওকালতনামায় স্বাক্ষর নেওয়ার জন্য জেল কর্তৃপক্ষের কাছে কোনও কাগজ পাঠায়নি।

এদিকে সাংবাদিক আরিফুল ইসলামের উপর নির্যাতনের প্রতিবাদে কুড়িগ্রাম শহর ও বিভিন্ন উপজেলায় মানববন্ধন-প্রতিবাদ অব্যাহত রয়েছে। 

কুড়িগ্রাম জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার রেদওয়ান ফেরদৌস সজিব জানান, আরিফুল ইসলাম রিগান বর্তমানে ভাল আছে। তার শারীরিক বিভিন্ন পরীক্ষা নিরীক্ষা চলছে। এসব রিপোর্ট হাতে আসলে প্রকৃত অবস্থা জানা যাবে।

উল্লেখ্য, শুক্রবার (১৩ মার্চ) মধ্যরাতে বাড়িতে হানা দিয়ে মারধর করে তুলে নিয়ে যাওয়া হয় আরিফুল ইসলামকে। তার বাসায় আধা বোতল মদ ও দেড়শ গ্রাম গাঁজা পাওয়া গেছে বলে অভিযোগ আনা হয়।

এরপর গভীর রাতে জেলা প্রশাসকের অফিসে ভ্রাম্যমাণ আদালত বসিয়ে এক বছরের কারাদণ্ড ও ৫০ হাজার টাকা জরিমানা দিয়ে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।