মুজিববর্ষের আনুষ্ঠানিকতা

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯২০ সালের ১৭ মার্চ রাত ৮টায় টুঙ্গিপাড়ায় জন্মগ্রহণ করেন। মুজিব শতবর্ষের আনুষ্ঠানিকতা সেই রাত ৮টায় মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) শুরু হবে।

সোমবার (১৬ মার্চ) সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উদযাপন জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটির প্রধান সমন্বয়ক ড. কামাল আবদুল নাসের চৌধুরী।

আতশবাজির মধ্য দিয়ে শুরু হয়ে উদ্বোধনী আনুষ্ঠানিকতা শেষ হবে পিক্সেল ম্যাপিংয়ের মধ্য দিয়ে।

কামাল আবদুল নাসের চৌধুরী বলেন, রাত ৮টায় ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আতশবাজির মধ্য দিয়ে মুজিববর্ষের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হবে। এরপর দুই ঘণ্টাব্যাপী ধারণ করা একটি অনুষ্ঠান বাংলাদেশ টেলিভিশনসহ সব বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলে সম্প্রচারিত হবে। রাত ১০টায় জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় পিক্সেল ম্যাপিং প্রদর্শনের মাধ্যমে মুজিববর্ষের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষ হবে।

তিনি বলেন, আমরা দেশের তৃণমূল পর্যায় থেকে বিশ্বের সব প্রান্তে মুজিববর্ষের অনুষ্ঠানমালা আয়োজন করেছিলাম। কিন্তু করোনা ভাইরাসের কারণে অনুষ্ঠান শেষ মুহূর্তে স্থগিত করতে হয়। সেজন্যই আমরা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশনায় ধারণ করা অনুষ্ঠান প্রচার করবো।

কামাল আবদুল নাসের চৌধুরী বলেন, সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আতশবাজি সরাসরি প্রদর্শনের পর আমরা ধারণ করা অনুষ্ঠানে যাবো। এরপর শুরু হবে শিশুকণ্ঠে জাতীয় সংগীত পরিবেশনার মধ্য দিয়ে। এরপর প্রচারিত হবে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদের বাণী। এরপর জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেবেন বঙ্গবন্ধুকন্যা ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এরপর সম্প্রচারিত হবে মুজিববর্ষের থিম সং। এতে দেশের প্রথিতযশা শিল্পীদের সঙ্গে কণ্ঠ দিয়েছেন বঙ্গবন্ধুর আরেক কন্যা শেখ রেহানা। এ অনুষ্ঠানে পিতাকে নিয়ে শেখ রেহানার লেখা কবিতা আবৃত্তি করবেন শেখ হাসিনা।

‘অনুষ্ঠানে শিল্পকলা একাডেমির ব্যবস্থাপনায় ৪০ মিনিটের একটি সাংস্কৃতিক পরিবেশনা রয়েছে। দেশের শিল্পীদের পরিবেশনায় থাকছে যন্ত্রসংগীত। আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন নৃত্য পরিচালক আকরাম খানের পরিচালনায় থাকছে থিয়েট্রিক্যাল পারফরম্যান্স। শেষে থাকবে পিক্সেল ম্যাপিং। আতশবাজির মতো এটিও সরাসরি অনুষ্ঠিত হবে।’

তিনি বলেন, অনুষ্ঠানে বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবর্ষ উপলক্ষে বিশ্বনেতা ও সংস্থার প্রধানদের বাণী প্রচারিত হবে। তাদের মধ্যে রয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, নেপালের বর্তমান রাষ্ট্রপতি বিদ্যা ভল্ডারী, ভুটানের প্রধানমন্ত্রী লোটে শেরিং, জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস, ওআইসি মহাসচিব ইউসেফ আল-ওথাইমিন প্রমুখ।

মুজিববর্ষ উপলক্ষে স্মারক ডাকটিকিট, স্মারক নোট ও স্মরণিকা প্রকাশ করা হবে বলেও জানান তিনি। কামাল আবদুল নাসের চৌধুরী বলেন, মঙ্গলবার বিকেল পাঁচটায় গণভবনে এগুলো উন্মোচন করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এছাড়া অন্যান্য যেসব আয়োজন ছিল সেগুলো করোনা ভাইরাসের গতি-প্রকৃতির ওপর নির্ভর করে আয়োজন করা হবে। তার আগ পর্যন্ত অধিক জনসমাগমের কোনও আয়োজন থাকছে না।

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উদযাপন জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটির সভাপতি জাতীয় অধ্যাপক ড. রফিকুল ইসলাম, সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ, শিল্পী রেজওয়ানা চৌধুরী বন্যা প্রমুখ।