মুসলমানদের মধ্যেও অনেকে উটমূত্র পান করেন: ভারতীয়দের গোমূত্র পানের পক্ষে তসলিমার সাফাই

প্রাণঘাতী করোনা থেকে বাঁচতে গত শনিবার ভারতের দিল্লিতে ‘গোমূত্র পার্টি’র আয়োজন করে হিন্দু মহাসভা। ওই পার্টিতে গরুর মূত্র পানের পাশাপাশি আগত অতিথিরা গোবরের পায়েসের প্রসাদও খেয়েছেন।

বিষয়টি নিয়ে সামাজিকমাধ্যম ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাস দিয়েছেন ভারতে নির্বাসিত বাংলাদেশের বিতর্কিত লেখিকা তসলিমা নাসরিন। রোববার তসলিমার ভেরিফায়েড পেজে দেয়া ওই স্ট্যাটাসটি হুবহু তুলে দেয়া হলো-

‘হিন্দু মহাসভার ২০০ জন লোক গোমূত্র পার্টি করেছেন। সবাই গোমূত্র পান করেছেন এবং বলেছেন– করোনাভাইরাসের প্রতিষেধক গোমূত্র। একজন তো বললেন যে লোকই বিদেশ থেকে দেশের বিমানবন্দরে ল্যান্ড করবে, তার শরীরে গোমূত্র এবং গোবর ছিটিয়ে দিলেই ভাইরাস দূর হবে।

ভিডিওতে দেখলাম একেকজন কী করে পান করছেন গোমূত্র। নিশ্চয়ই খুব আরামদায়ক নয় ওই জিনিস পান করা। এক লোক তো একহাতে নাক ধরে অন্য হাতে গোমূত্রের গ্লাস মুখে ঢাললেন।

বিশ্বাস মানুষকে দিয়ে কিনা করাতে পারে! বিশ্বাসের কারণে মানুষ মানুষকে নির্যাতন করছে, খুন করছে। আর এ তো কেবল গোমূত্র পান!

কারও গোমূত্র পানে অন্যের কোনো ক্ষতি হচ্ছে না অবশ্য। অন্যকে গোমূত্র পানের জন্য জোর না করলেই হলো। কেউ যদি নিজেকে অত্যাচার করে আনন্দ পায়, না হয় পাক।

সৌদি আরবের মুসলমানদের মধ্যেও অনেকে উটমূত্র পান করেন। তারাও বিশ্বাস করেন উটমূত্র রোগ সারায়। সৌদি সরকার কয়েক বছর আগে নাকি উটমূত্র বিক্রির দোকান বন্ধ করে দিয়েছে।

মার্স ভাইরাস যে মধ্যপ্রাচ্যে ছড়িয়েছিল একসময়, ওই ভাইরাস কিন্তু বাদুড় থেকে উটে এসেছিল, উট থেকে মানুষে। কে জানে, উটমূত্রই ওই ভাইরাস ছিল কিনা, উটের দুধেও অবশ্য থাকতে পারে।

বাদুড় থেকে সার্স, মার্স, নিপা, হেন্ড্রা, হালের কোভিড-১৯ কত কিছু এলো। সোজা মানুষের শরীরে আসে না, ঘোড়া, উট, সিভেট, শূকর ইত্যাদি হয়ে আসে।

এই বাদুড়ের ভাইরাসই মনে হয় একদিন মানুষ প্রজাতিকে বিলুপ্ত করবে। বাদুড়গুলো কত হাজারো ভাইরাস শরীরে নিয়ে দিব্যি সুস্থ বেঁচে থাকে। এমন চমৎকার সহাবস্থান কী করে সম্ভব!

কিছু বিজ্ঞানী বলেন, বাদুড়ই একমাত্র স্তন্যপায়ী প্রাণী যে ওড়ে। সম্ভবত স্তন্যপায়ী যখন বিবর্তিত হয়ে ওড়ার ক্ষমতা পেয়েছে, তখনই পেয়ে গেছে ভয়াবহ সব ভাইরাস শরীরে ধারণ করেও অসুস্থ না হওয়ার ক্ষমতা।

মানুষের জীবন যে কী রকম নড়বড়ে, ভঙ্গুর, পলকা- তা চোখ কান খুলে দেখা হলো এবার! একটা ছোট্ট বাদুড়ের শরীর থেকে একটা ছোট্ট ভাইরাস নেমে এসে সাত বিলিয়ন মানুষকে নিশ্চিহ্ন করে দেয়ার হুমকি দিতে পারে।

আমরা কি ইকো সিস্টেমের কথা ভাবব, নাকি সব কটা বাদুড়কে মানুষ প্রজাতির স্বার্থে মেরে ফেলব? শুধু কি বাদুড়? মশারই বা কী দরকার পৃথিবীতে বেঁচে থাকার? মানুষকে কামড়, রোগ, আর মৃত্যু দেয়া ছাড়া এর তো কোনো কাজ নেই।’