আইসোলেশনে ২ জনের মৃত্যু, করোনা উপসর্গ ছিল আরও এক রোগীর

আজ রোববার সকালে খুলনা মেডিকেল কলেজ (খুমেক) হাসপাতাল ও বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক আইসোলেশন ইউনিটে চিকিৎসাধীন তিন জনকে মৃত ঘোষণা করেন।

খুমেক হাসপাতালের করোনা ইউনিটের ইনচার্জ ডা. শৈলেন্দ্র নাথ বিশ্বাস বলেন, শুক্রবার ৭০ বছর বয়সী এক ব্যক্তিকে হাসপাতালের করোনা আইসোলেশন ইউনিটে ভর্তি করা হয়েছিল। তার বাড়ি নড়াইলের কালিয়া উপজেলায়। করোনা ইউনিটে ভর্তি থাকলেও তিনি যক্ষ্মা রোগে আক্রান্ত ছিলেন। 

বিষয়টি সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানকে (আইইডিসিআর) জানানো হয়েছে। আইইডিসিআর বলেছে ওই ব্যক্তির নমুনা পরীক্ষার প্রয়োজন নেই। তাই মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

করোনার উপসর্গ নিয়ে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের করোনা আইসোলেশন ইউনিটে চিকিৎসাধীন এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। তার বয়স ৪০ বছর। সন্দেহ করা হচ্ছে তিনি করোনায় আক্রান্ত ছিলেন। গতকাল সন্ধ্যায় পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে তাকে বরিশালে নেওয়া হয়।

হাসপাতালের পরিচালক ডা. বাকির হোসেন বলেন, তিনি জ্বর, কাশি ও শ্বাসকষ্টে ভুগছিলেন। শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের করোনা আইসোলেশন ইউনিটে নেওয়া আগে চার দিন তিনি পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নেন।

পটুয়াখালী সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, বাহালগাছিয়া গ্রামে মৃত ব্যক্তির বাড়িসহ সাতটি বাড়ি আজ দুপুর থেকে লকডাউন করা হয়েছে।

ডা. বাকির হোসেন আরও বলেন, আজ সকালে হাসপাতালের করোনা আইসোলেশন ইউনিটে নেওয়ার আগে ৪৫ বছর বয়সী এক নারীর মৃত্যু হয়েছে। ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে তিনি বরিশাল জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন। চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হলে বৃহস্পতিবার তিনি ছাড়পত্র পান। 

এর পরে তিনি জ্বর ও শ্বাসজনিত সমস্যা নিয়ে শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আসেন। জরুরি বিভাগে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে আইসোলেশন ইউনিটে ভর্তির পরামর্শ দেন। আইসোলেশন ইউনিটে নেওয়া সময় তার মৃত্যু হয়।

তিনিসহ মোট ছয় জন রোগীর নমুনা রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানে (আইইডিসিআর) পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে। আইইডিসিআরের প্রতিবেদন হাতে এলে নিশ্চিত হওয়া যাবে তারা করোনায় আক্রান্ত ছিলেন কি না, বলেন ডা. বাকির।