খাশোগী মৃত্যু রহস্য নিয়ে ট্রাম্পের হুমকি, সৌদি শেয়ার মার্কেটে ব্যাপক দরপতন : বিপদে সালমান

সৌদি আরবের জন্য কঠোর  শাস্তির ব্যবস্থা করা হবে, যদি কনস্যুলেটে খাশোগি নিহত হন “-  মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের এমন হুমকি উচ্চারণের পর হইতে সৌদি স্টক মার্কেটে রেকর্ড প্রায় ৭% দরপতন হয়েছে। যা বিগত ২০১৪ সালের তেলের দাম ক্র‍্যাশের ঘটনার পর সর্বনিম্ন। এ দিন সৌদি অঞ্চলের বৃহত্তম পেট্রোকেমিক্যাল প্রযোজক সৌদি বেসিক ইন্ডাস্ট্রিজের শেয়ার ৭.৯ শতাংশ কমিয়েছে।

জামাল খাশোগী; ছবিসূত্র : bbc.com

গ্লোবাল ফান্ড ম্যানেজার ফ্র্যাংকলিন টেম্পলটন ইমার্জিং মার্কেটস ইক্যুইটি অঞ্চলের বিনিয়োগের প্রধান সালাহ শামমা সিএনবিসিকে বলেন, “এটি রাজনৈতিক পরিবেশ। বাজারটি খাশোগি মামলার আশেপাশে সংবেদনশীলতার প্রতি নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখছে এবং  এসব রাজনৈতিক গোলমাল”।

গ্লোবাল ফান্ড ম্যানেজার ফ্র্যাংকলিন টেম্পলটন ইমার্জিং মার্কেটস ইক্যুইটি অঞ্চলের বিনিয়োগের প্রধান সালাহ শামমা সিএনবিসিকে বলেন- “এটি রাজনৈতিক পরিবেশ।  খাশোগি মামলা  বাজারের আশেপাশে সংবেদনশীলতার প্রতি নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখাচ্ছে”।

এই অবস্থায় সৌদি আরবের তেল ব্যবসায়ীদের মধ্যে বড় ধরনের উদ্বেগ বিরাজ করছে।

এদিকে সাংবাদিক জামাল খাশোগির মৃত্যু রহস্য তদন্তে রিয়াদ আঙ্কারাকে সহযোগিতা করছে না বলে অভিযোগ করেছেন তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মেভলুত চাভুসওগ্লু। চলতি মাসের গোড়ার দিকে ইস্তাম্বুলে সৌদি কনস্যুলেটের অভ্যন্তরে খাশোগি নিহত হয়েছেন বলে ব্যাপকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।

চাভুসওগ্লু শনিবার লন্ডন সফরে গিয়ে বলেন, “আমরা এখনো এ বিষয়ে সৌদি আরবের সহযোগিতা পাইনি। তবে আমরা সে সহযোগিতা দেখতে চাই।” তিনি বলেন, তুর্কি কর্মকর্তারা যাতে ইস্তাম্বুলের সৌদি কনস্যুলেটে প্রবেশ করে তদন্ত কাজ চালাতে পারেন সৌদি আরবকে সে ব্যবস্থা করতে হবে।

তুর্কি পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, খাশোগি’র নিখোঁজ হওয়ার বিষয়ে তদন্ত করার জন্য যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপ গঠন করতে নীতিগত ঐক্যমত্যে পৌঁছেছিল তুরস্ক ও রিয়াদ। কিন্তু সৌদি আরব এখন আর সহযোগিতা করছে না বলে তিনি অভিযোগ করেন।
যৌথ তদন্তের লক্ষ্যে সিনিয়র প্রিন্স খালেদ আল-ফয়সালের নেতৃত্বে সৌদি আরবের একটি প্রতিনিধিদল তুরস্ক সফরে যাওয়ার দু’দিন পর চাভুসওগ্লু এসব অভিযোগ করলেন। জামাল খাশোগির নিখোঁজ  হয়ে  যাওয়ার ঘটনায় সৌদি আরব জড়িত নয় বলে বিবৃতি প্রদান করলেও নিজের জড়িত না থাকার পক্ষে সৌদি আরব কোনো প্রমাণ দিতে ব্যর্থ হওয়ায় রিয়াদের ওপর আন্তর্জাতিক চাপ বাড়ছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং তুরস্কের সাথে কুটনৈতিক সম্পর্ক বর্তমানে নাজুক অবস্থায় রয়েছে।

অন্যদিকে জামার্নিতে স্বেচ্ছা নির্বাসনে থাকা যুবরাজ ফারহান ব্রিটেনের ইন্ডিপেন্ডেন্ট পত্রিকাকে দেয়া সাক্ষাতকারে জানান-  ‘জামাল খাশোগীর নিখোঁজের সমালোচনা করায় সৌদি রাজপরিবারের অন্তত: ৫ যুবরাজকে গুম করা হইয়াছে।’

সৌদি সরকার দাবি করছে, খাশোগি কনস্যুলেট থেকে বেরিয়ে যাওয়ার পর হয়ত অপহৃত হয়েছেন। কিন্তু তুর্কি গোয়েন্দা কর্মকর্তারা বলেছেন, খাশোগিকে সৌদি কনস্যুলেটের ভেতরে নির্যাতন করে হত্যা করা হয়েছে। তাদের এ দাবির স্বপক্ষে অডিও এবং ভিডিও প্রমাণ থাকার কথাও জানিয়েছেন তুর্কি তদন্ত কর্মকর্তারা।

সৌদি মিডিয়া  এসব ঘটনাকে চক্রান্ত বলে চালিয়ে দেয়ার চেষ্টা করছে। এসব গণমাধ্যম বলছে, সৌদি আরবকে বিপদে ফেলার জন্য এটা হচ্ছে একটা ‘ষড়যন্ত্র’। আল-আরাবিয়া নিউজ চ্যানেল মুসলিম ব্রাদার হুড ও কাতারের গণমাধ্যমের ষড়যন্ত্র বলে উল্লেখ করেছে। অন্য এক খবরে জামাল খশোগির বাগদত্তার সত্যিকার পরিচয় নিয়েও সন্দেহ প্রকাশ করেছে আল-আরাবিয়া।

সৌদি আরবের দৈনিক ওকায পত্রিকা বলেছে, খাশোগি কাতারের স্বার্থ নিয়ে কাজ করছিলেন। ওকায পত্রিকা আরো দাবি করেছে, যেসব সন্ত্রাসী সৌদি সরকারকে অস্থিতিশীল করে তুলতে চায় তাদের প্রতি খাশোগির সহানভূতি ছিল। সৌদি গেজেট লিখেছে, খাশোগির নিখোঁজের ঘটনায় কাতারকে দায়ী করা হবে, সৌদি আরবকে নয়।

যুবরাজ বিন সালমানকেই দায়ী করছেন বিক্ষোভকারীরা . ছবিসূত্র : রেডিও তেহরান

অন্যদিকে, ওয়াশিংটন পোস্ট চলতি সপ্তাহের প্রথম দিকে লিখেছে, সৌদি যুবরাজ মুহাম্মাদ বিন সালমান ব্যক্তিগতভাবে খাশোগির বিরুদ্ধে অভিযান চালানোর নির্দেশ দিয়েছিলেন। পত্রিকাটি তুর্কি সূত্রের বরাত দিয়ে বলেছে, খাশোগিকে সৌদি কন্স্যুলেটের ভেতরে হত্যা করা হয়েছে এবং এর প্রমাণ রয়েছে।

সৌদি রাজ পরিবারের কঠোর সমালোচক হিসাবে পরিচিত  জামাল খাশোগী ওয়াশিংটন পোস্ট এর একজন সাংবাদিক । খাশোগি গত ২ অক্টোবর তুরস্কের ইস্তাম্বুল শহরে সৌদি কন্স্যুলেটে  বিয়ের জন্য কাগজপত্র আনতে যাওয়ার পর নিখোঁজ হন।

সুতরাং চলতি সপ্তাহে দ্রুত ঘটে যাওয়া এসব ঘটনায় বলা যায়- চারিদিক হতে বিপদ ঘিরে ধরেছে যুবরাজ সালমানকে। এমনিতেই যুবরাজ সালমান একজন দৃঢ়চেতা ও  নিজের উপর প্রচন্ড আত্মবিশ্বাসী হিসাবেই পরিচিত।  তবে  খাশোগী ইস্যু সামনে আসার পর পরিস্থিতি অনেকটাই নিয়ন্ত্রনের বাইরে বলেই মনে করেন বিশ্লেষকেরা। তবে বেপরোয়া সালমান যে কোন কিছুই করতে পারেন বলেই মনে করেন তারা।