স্বাধীনতা খর্ব হল গণমাধ্যমের নাকি রুখে দেওয়া হল দৌরাত্ম্য?

ছবি: সংগৃহীত

বেতার, টেলিভিশন ও অনলাইন সংবাদ মাধ্যমগুলোর জন্য একটি কমিশন গঠনের প্রস্তাব রেখে ‘সম্প্রচার আইন, ২০১৮’ এর খসড়া অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। আজ সোমবার সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে মন্ত্রিসভার নিয়মিত বৈঠকে অনুমোদন দেয়া হয়। এ আইনে গণমাধ্যমের লাইসেন্স বাতিল ও অনধিক ৫ কোটি টাকা জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে।

বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম। তিনি জানান, খসড়া আইনের ২৮ ধারায় বলা হয়েছে, কোনো সম্প্রচারকারী বা অনলাইন গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠান কর্তৃক নিম্ন বর্ণিত কার্যাবলি আইনের অধীনে অপরাধ বলে গণ্য হবে।

‘আলোচনা অনুষ্ঠানে (টকশো) বিভ্রান্তিকর ও অসত্য তথ্য উপস্থাপন বা প্রচার, বিভিন্ন জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ অনুষ্ঠান তথা রাষ্ট্র ও সরকার প্রধানের ভাষণ বা জরুরি আবহাওয়া বার্তা প্রচারের নির্দেশ অমাণ্য করা। মহান মুক্তিযুদ্ধের আদর্শের চেতনায় রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি, রাষ্ট্রীয় আদর্শ ও নীতিমালা পরিপন্থি অনুষ্ঠান বা বিজ্ঞাপন প্রচারসহ মোট ২৪টি অপরাধ করলে উক্ত গণমাধ্যমের লাইসেন্স বাতিল করা যাবে।’

মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, দণ্ডস্বরূপ সম্প্রচারকারীর অনধিক ৩ বছরের কারাদণ্ড অথবা অনধিক ৫ কোটি টাকা অর্থদণ্ড অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত করা যাবে। পরবর্তী সময়ে উক্ত সম্প্রচারকারী যদি একই অপরাধ চলমান রাখে, তাহলে প্রতিদিনের জন্য ১ লাখ টাকা জরিমানা করা যাবে এই আইনে।

তিনি আরও বলেন, সম্প্রচার কমিশন গঠনের জন্য প্রথমে পাঁচ সদস্যের সার্চ কমিটি গঠন করবেন রাষ্ট্রপতি। পরে রাষ্ট্রের উপযুক্ত ব্যক্তিদের মধ্য থেকে সাতজনকে নিয়ে কমিশনটি গঠনের সুপারিশ করবে এই সার্চ কমিটি। গঠিত ওই  কমিশন উপযুক্ততার ভিত্তিতে দেশের রেডিও, টেলিভিশন, অনলাইনসহ সব ইলেকট্রনিক মিডিয়াকে লাইসেন্স দেবে। কোনো কারণে লাইসেন্স বাতিল করতে হলেও, সেটা করতে পারবে কমিশন। সরকারের অনুমোদন নিয়ে কমিশন এই দায়িত্ব পালন করবে। এ ছাড়া গণমাধ্যমগুলোর লাইসেন্স নবায়নও করবে এই কমিশন।’

যে কোনো টেলিভিশন, রেডিও এবং অনলাইন গণমাধ্যমের ক্ষেত্রেও এ আইন প্রযোজ্য হবে বলে উল্লেখ করেন তিনি।