পৃথিবী’র অদ্ভুত কিছু ফুড মিউজিয়াম!

প্রায় ভৌতিক পর্যায়ের অবিশ্বাস নিয়ে আপনি ঘুরে আসতে পারেন পৃথিবী জুড়ে থাকা অদ্ভুত কিছু ফুড মিউজিয়াম। ভোজনরসিক হলে তো কথাই নেই। রথ দেখা আর কলা বেচা একসাথেই হতে পারে এক্ষেত্রে।

[su_heading size=”20″]ডাচ চিজ মিউজিয়াম, নেদারল্যান্ডস[/su_heading]

Dutch Cheese Museum

আপনি কি ভাবছেন নেদারল্যান্ডস থেকে সবথেকে বেশি রপ্তানি করা হয় টিউলিপ? আবার ভাবুন— আপনার ভাবনাটা ভুল। কারণ টিউলিপ নয় সবথেকে বেশি রপ্তানি হয় চিজ। আরো নির্দিষ্টভাবে বললে, এডাম ও গাউডো। এই ডাচ চিজ মিউজিয়াম যেখানে চিজের ঠিকুজিকোষ্ঠী নিয়ে আঁটঘাঁট বেঁধে কাজ করা হয় এবং নিত্যনতুন প্রস্তুতপ্রণালী নিয়েও গবেষণা করা হয়।

এই মিউজিয়ামটা আল্কমারের একটা পুরনো দালানের ভিতর নিজেকে গুছিয়ে নিয়েছে। এর উজ্জ্বল হলুদাভ, সুন্দরভাবে সাজানো চিজ আর বিশালাকার গাভীগুলোকে মডেল হিসেবে দেখানো অভিনবত্ব, দর্শনার্থীদের চিজ খাবার প্রতি এক ধরণের লোভ তৈরি না করে ছাড়ে না।

[su_heading size=”20″]কাপ নুডল মিউজিয়াম, জাপান[/su_heading]

Anutr Yossundara/Shutterstock

কাপ নুডল মিউজিয়াম জাপানের অসংখ্য মিউজিয়ামের মধ্যে একটি যেটার পুরোটা জুড়েই আছে নুডলস, যার কিনা র‍্যামেন নামেও বেশ নামডাক আছে। এই মিউজিয়ামের আকারটা দিয়েই আপনি আন্দাজ করতে পারবেন জাতি হিসেবে জাপানিরা কতটা খাদ্য রসিক— এতে আছে দৈত্যের ভূড়ির মতো বেশ কিছু হলঘর। যার একটিতে সেই অতি পুরনো একটা ‘চালা’ আছে যাতে প্রথমবারের মতো নুডলস তৈরি করা হয়েছিল। আর আপনি জেনে অবাক হবেন, সেটা ছিল চিকেন নুডলস। এই মিউজিয়ামের অধিকাংশ দর্শনার্থীই কম বয়সী। যারা নুডল থিমে তৈরি খেলার মাঠে স্লাইডে চড়তে পারে, হুল্লোড় করতে পারে কিংবা পুলে সাঁতার কাটতে পারে যেটা কিনা দেখতে হুবুহু এক কাপ র‍্যামেন স্যুপের মতো।

[su_heading size=”20″]পিজ্জা হাট মিউজিয়াম, কানসাস[/su_heading]

Stopped clock/Shutterstock

গত এপ্রিলেই পৃথিবীর সবচে’ নতুন ফুড মিউজিয়াম, পিজ্জা হাট মিউজিয়াম, কানসাসে তার পথচলা শুরু করে। এটা বিভিন্ন ধরণের পিজ্জার স্মারকে আঁটোসাঁটো হয়ে আছে। যার মধ্যে আছে ১৯৫৮ সালে ব্যবহৃত পিজ্জা প্যানও আছে। আরও কিছু বিরল নিদর্শন আছে যেমন ১৯৫০ সালের পিজ্জা হাটের কর্মচারীদের তালিকা, মেনু এবং বার্বি ডল।

[su_heading size=”20″]দ্যা স্প্যাম মিউজিয়াম, অস্টিন[/su_heading]

Hormel Foods

স্প্যাম মিউজিয়াম ঘুরে এসে আপনি জানতে পারবেন পৃথিবীর সর্ববৃহৎ এবং একই সাথে সর্বাধিক জনপ্রিয় টিনবন্দি রান্না মাংস সম্বন্ধে। জানতে পারবেন এই রান্না মাংস কীভাবে নিজের স্বাদের জাদুতে অবসন্ন করে রেখেছে সমগ্র বিশ্বকে। বিশ্বাস হচ্ছে না? তাহলে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে এর অবদান সম্পর্কে কিছুটা পড়াশুনা করে আসুন, না এমনটা নয় যে টিনভর্তি এই রান্না মাংস দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ থামিয়ে দিয়েছিল! তবে তখনকার চাকুরিজীবি মহিলা ও পুরুষদের প্রধানতম খাদ্য ছিল স্প্যাম।

তখন প্রায় ১৫ রকমের ভিন্নভিন্ন স্বাদের স্প্যাম সারা পৃথিবীময় বিক্রি হয়েছিল। এখনও মিউজিয়ামে আপনি স্বাদ নেওয়ার জন্য পাবেন অসংখ্য স্বাদের স্প্যাম।

[su_heading size=”20″]ফ্রাইট মিউজিমায়, বেলজিয়াম[/su_heading]

Friet Museum

ফ্রাইট মিউজিয়াম সম্ভবত পৃথিবীর একমাত্র মিউজিয়াম যার কারবার ফ্রেঞ্চ ফ্রাই নিয়ে। তবে সারা বিশ্বের কাছে এটা ফ্রেঞ্চ ফ্রাই হলেও বেলজিয়ামবাসীর কাছে তা ‘বেলজিয়াম ফ্রাইট’ নামেই পরিচিত।

এখানে ভ্রমন করে আপনি এই বিনয়ী ও অতিথিপ্রাণ আলু সম্পর্কে অবাক করা সব তথ্য পেতে পারেন। এই যেমন আপনি জানতেন না যে প্রায় ১০ হাজার বছর আগে পেরুতে প্রথমবারের মতো আলু জন্মেছিল। এছাড়া ভোজনরসিক হোন বা না হোন, আপনি চেখে দেখতে পারবেন ফ্রাইটের বিভিন্ন মাস্টারপিস রেসিপি। এই মিউজিয়াম জুড়ে এক অদ্ভুত প্রদর্শনী,  বিশালাকার— তবে অসহ্যরকম সুন্দর এই ফ্রাইট ফ্রায়ার্স।