সাইফুদ্দিন: পেস বোলিং অলরাউন্ডার এর সফল প্রত্যাবর্তন

ডেথওভারে মাপা বোলিংয়ে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন সাইফুদ্দিন। প্রথম ম্যাচে লোয়ার মিডল অর্ডারে ব্যাট হাতে নেমে দায়িত্বপূর্ণ অর্ধশতরানে নিজেকে পেস বোলিং অলরাউন্ডার হিসেবে নিজের সামর্থ্যের প্রমাণ দিয়েছেন সাইফুদ্দিন। যদিও প্রায় বছর আগে অভিষেক হয়েছিল ফেনীর এ যুবার।

ছবি: সংগৃহীত

যদিও অভিষেকের বছরটায় নিষ্প্রভ ছিলেন সাইফুদ্দিন। ওয়ানডে-টি-টোয়েন্টি কোনো ফরম্যাটেই নিজেকে প্রমাণ করতে পারেননি। দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে প্রোটিয়া অলরাউন্ডার মিলারের হাতে টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে এক ওভারে পাঁচ ছক্কা হজম করে নিজের ক্যারিয়ারটাই প্রায় বাউন্ডারির ওপাশে পাঠিয়ে দিয়েছিলেন। যদিও বুধবারের ম্যাচে হয়েছেন ম্যাচসেরা। জানিয়েছেন তার অনুভূতি।

‘চেষ্টা ছিল দলের জন্য কিছু একটা করব। দলকে কিছু দিতে পেরেছি, এতেই আমি খুশি। ম্যান অব দ্য ম্যাচ নিয়ে ভাবিইনি। হঠাৎ করে আমাকে যখন বলল, আমিই ম্যান অব দ্য ম্যাচ, কিছুটা অবাক হয়েছি। দল জিতেছে এতেই বেশি খুশি।’

সব মিলিয়ে ক্রিকেটীয় মুদ্রার দু’পাশই দেখা হয়ে গেছে তার। তবে এবার জিম্বাবুয়ে সিরিজে সুযোগ পেয়ে নিজেকেই যেন ছাড়িয়ে যাবার এক নেশায় মেতেছেন সাইফুদ্দিন। ২১ অক্টোবর শেরে বাংলায় সিরিজের প্রথম ম্যাচে ইমরুল কায়েসের সাথে সপ্তম উইকেটে রেকর্ড ১২৭ রানের পার্টনারশিপ গড়েন। প্রথম তিন খেলায় (সর্বোচ্চ ১৬ রানসহ) মাত্র ৩০ রান করেছিলেন সাইফুদ্দিন। ফেরার ম্যাচেই ওয়ানডেতে প্রথম ফিফটি করেন তিনি (৫০ )।

ছবি: সংগৃহীত

আর বুধবার দ্বিতীয় ম্যাচে সেই সাইফুদ্দিন অন্য ভূমিকায়। ডেথওভারে দারুণ নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে ধরাশায়ী করলেন জিম্বাবুয়ের তিন ব্যাটসম্যানকে। শেষ ওভারে মুস্তাফিজুর ক্যাচটা ঠিকঠাক মতো নিতে পারলে শিকারের সংখ্যা হতো চার। ৪৫ রানে তিন উইকেট দখল করে হয়েছেন ম্যাচ সেরা।

মাপা লেংথ, কিছুটা সুইং, সঙ্গে গতি। এ প্রসঙ্গে সাইফ বলেন, ‘আমাকে বোলিং অলরাউন্ডারই ধরা হয়। আমার মূল দক্ষতা বোলিং। আমার নিজের বোলিংয়ে উইকেট পেলে, কম রান দিলে বেশি ভালো লাগে। ব্যাটিংটা হলো এর পাশাপাশি বাড়তি কিছু। চেষ্টা করি দুটোতেই ভালো করার।’

ক্যারিয়ারের শুরুতে অগোছালো সাইফের এই নায়কীয় প্রত্যাবর্তনের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমি আসলে কিছু সময় সাফল্য পেতে গেলে একটু হোঁচট খাই। আমার বাবা বলতেন একটা ছেলে হাঁটা শিখতে গেলে বারবার হোঁচট খায়। তাই বলে কি তার হাঁটা বন্ধ হয়ে যায়? একইরকম আমিও মার খাব। ওখান থেকেই তো শিখব। আমি ছোটবেলা যখন অনূর্ধ-১৫, ১৭ খেলতাম। যখন মিরাজ অধিনায়ক ছিল। তখন থেকেই ডেথওভারে এক্সপেরিয়েন্স। হয়তো আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে প্রথম কয়েকটা ম্যাচ ওইরকমভাবে নিজেকে মেলে ধরতে পারিনি। কিন্তু মিরাজের সঙ্গে আমার কথা হয়, মোস্তাফিজের সঙ্গে কথা হয়। সে খুব অভিজ্ঞ বোলার। কীভাবে কী করলে সাফল্য পাওয়া যায়।’

এখানে থামতে চান না বাংলাদেশের নতুন তুরুপের তাস। চোখে তার আগামী। দেশের আস্থা অর্জনের জার্নিটা তার মাত্র শুরু হল। যোজন দূরত্ব যেতে বাকি। অর্জন করতে হবে সম্ভাব্য  সমস্তকিছু।