মুন রিবাস: ভূমিকম্পের ভবিষ্যদ্বাণী করতে পারা এক যন্ত্রমানবী

এটা ২০১৮ এবং বর্তমান প্রযুক্তির অগ্রযাত্রার ফলে সাইবর্গরা এখন আর শুধু কাল্পনিক চরিত্র নয়। বরং এই যন্ত্র মানবেরা বাস করছে আমাদের সাথে আমাদের মধ্যে। তারা ভীড়ের মধ্যে মিশে আছে। তাদের যান্ত্রিক শরীর আমরা দেখতে পাই না।

মুন রিবাস। ছবি: সংগৃহীত

ক্যাটালিন অ্যাভান গ্রেড আর্টিস্ট ও সাইবর্গ কর্মী মুন রিবাসের পায়ে অনলাইন সিসমোগ্রাফ (এক ধরনের গ্রাহকযন্ত্রে ভূকম্পন নিবেশিত হয় যার নাম সিসমোগ্রাফ। সিসমোগ্রাফ আঁকাবাকা নিদর্শন লিপিবদ্ধ করে যার থেকে যন্ত্রের নীচের ভূকম্পনের পরিধি মাপা সম্ভব হয়) প্রোথিত আছে। পৃথিবীর কোথাও ভূমিকম্প হলে, তার শরীরে কম্পন অনুভূত হয় এবং সেটা অনলাইনে নথিভুক্ত হয়ে যায়। মুন তখন সেই ডেটা স্বতঃস্ফূর্ত ও অপ্রত্যাশিতভাবে নাচ কিংবা গান রূপ দেয়।

‘আমি একজন নৃত্যশিল্পী এবং একজন কোরিওগ্রাফার। সে জন্য যেকোন মৃদু আন্দোলন আমি গভীর ভাবে অনুভব করতে চাই’, তিনি ব্যাখ্যা করেন।

‘যখনই কোথাও ভূমিকম্প হয়, আমি সেই কম্পনের তীক্ষ্ণতানুযায়ী আন্দোলিত হই। এটা যেন আমার এবং পৃথিবীত এক দ্বৈতসত্তার প্রকাশ। এই পুরো ঘটনাতে পৃথিবী ঠিক একজন কোরিওগ্রাফারের ভূমিকায় থাকে এবং আমি কেবল তার দেওয়া নির্দেশনা অনুসরণ করি।’

ছবি: সংগৃহীত

ইতিপূর্বে তিনি কানের দুল পরে ছিলেন যেটাতে মুন তার চারপাশে চলাচল করা মানুষের পদধ্বনিতে এক ধরনের কম্পন অনুভব করেন (বিশেষত লন্ডন ও স্টকহোমে এই কম্পনের দ্রুতি বেশি হতো) এবং ক্যালিডোস্কোপিক গ্লাসেস,  যেটা তার দৃষ্টি ও কোন কিছুর রঙ বিকৃত করে।

তার পার্টনার নীল হারবিসন এবং তাদের সাইবর্গ আর্টস অরগানাইজেশানের সহায়তায় মুন সারা বিশ্বের শিল্পীদের সুবিধা প্রদান করতে চান। যার ফলে তারা তাদের শরীর ও শিল্পে নতুন ধরণ-ধারণ এবং প্রযুক্তির প্রয়োগ ঘটাতে পারে। তার আরও একটি উদ্দেশ্য, ভবিষ্যৎতে ঘটবে এমন কিছুর সাথে একটা যোগাযোগ সৃষ্টির উপায় আবিষ্কার করা যা আমরা সাধারণভাবে উপলব্ধি করতে পারি না।

মুন বলেন, ‘আপনি যদি প্রযুক্তির সঠিক প্রয়োগ করতে পারেন, আপনি এই ঘটনার সত্যতা জানিতে পারবেন এবং একই সাথে আপনার চারপাশের জগতকে আরও গভীরভাবে জানতে পারবেন।’

সূত্র: সিএনএন