প্রেসিডেন্টের নির্দেশ অমান্য করলেন বহিষ্কৃত প্রধানমন্ত্রী: গভীর সংকটে শ্রীলঙ্কা

[su_heading size=”22″] শ্রীলংকার প্রেসিডেন্ট মাইথ্রিপালা সিরিসেনা প্রধানমন্ত্রী রণিল বিক্রমাসিংহেকে বরখাস্ত করলেও রণিল বিক্রমাসিংহ ক্ষমতা ছাড়তে এবং সরকারি বাসভবন থেকে চলে যেতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। এর মধ্য দিয়ে শ্রীলংকা এক গভীর রাজনৈতিক সংকটের মধ্যে পড়েছে। বিক্রমাসিংহে আজ (রোববার) প্রেসিডেন্টের নির্দেশ অমান্য করে সরকারি বাসভবনে অবস্থান করেন এবং রাজনৈতিক নেতাদের সঙ্গে তিনি ‘ক্রাইসিস মিটিংয়ে’ বসেন। এ সময় তার বাসভবনের সামনে হাজার হাজার সমর্থক জড়ো হয়। শ্রীলংকার সংবাদমাধ্যম সূত্রে এ খবর জানা যায়।  [/su_heading]

বহিষ্কৃত প্রধানমন্ত্রী রণিল বিক্রমাসিংহে। ছবি- রেডিও তেহরান।

এর আগে গত শুক্রবার প্রেসিডেন্ট সিরিসেনা প্রধানমন্ত্রী বিক্রমাসিংহেকে বরখাস্ত করেন এবং সাবেক প্রেসিডেন্ট মাহিন্দা রাজাপাকসেকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দেন। বহিষ্কৃত প্রধানমন্ত্রী বিক্রমাসিংহ বলেছেন, তার বিরুদ্ধে দেয়া প্রেসিডেন্টের আদেশ অবৈধ এবং তিনি জাতীয় সংসদের জরুরি বৈঠক আহ্বানের দাবি জানাচ্ছেন।

দেশটির সংসদ স্পিকারও আজ (রোববার) বলেছেন, তিনি এখনো রণিল বিক্রমাসিংহেকে দেশের বৈধ প্রধানমন্ত্রী মনে করেন।বিক্রমাসিংহে বলছেন, সংসদে তিনি প্রমাণ করবেন যে, তার পক্ষে এখনো সংখ্যাগরিষ্ঠের সমর্থন রয়েছে।

রণিল বিক্রমাসিংহের দাবি উপেক্ষা করে প্রেসিডেন্ট সিরিসেনা প্রায় তিন সপ্তাহের জন্য জাতীয় সংসদ ভেঙে দিয়েছেন। এ অবস্থাকে দেশটির কোনো কোনো সংবাদমাধ্যম ‘সংবিধানিক ক্যু’ বলে মন্তব্য করেছে। রাজাপাকসের সঙ্গে চীনের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক  থাকায় শ্রীলংকা ইস্যুতে গভীর অস্বস্তিতে রয়েছে ভারত।

ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে এক বিবৃতিতে বলা হয়, দ্রুত পাল্টে যাওয়া শ্রীলঙ্কার রাজনৈতিক পরিস্থিতির দিকে নিবিড় নজর রাখছে ভারত। বন্ধুপ্রতীম দেশ শ্রীলঙ্কার জনগণের প্রতি ভারত তার উন্নয়ন সহযোগিতা ( ডেভেলপমেন্টাল অ্যাসিসট্যান্স) অব্যাহত রাখবে। ভারতের পররাষ্ট্র বিষয়ক মন্ত্রণালয় থেকে এক বিবৃতিতে এ কথা বলা হয়েছে। এতে শ্রীলঙ্কাকে একটি গণতান্ত্রিক ও ঘনিষ্ঠ বন্ধুপ্রতীম প্রতিবেশী হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়। এ খবর দিয়েছে অনলাইন জি নিউজ।

আগামী ১৬ই নভেম্বর পর্যন্ত শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্ট মাইথ্রিপালা সিরিসেনা পার্লামেন্ট স্থগিত করেন। এর কয়েক ঘন্টা পরেই এমন প্রতিক্রিয়া দিয়েছে ভারত।