জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট:খালেদা জিয়ার ৭ বছর কারাদণ্ড

[su_heading size=”20″]জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় খালেদা জিয়াসহ চার জনের ৭ বছর সাজা এবং ১০ লক্ষ টাকা জরিমানা করেছেন আদালত।  সকাল ১১ টা ৩০ মিনিটে দিকে জজ ড. আখতারুজ্জামান রায় পড়া শুরু করেন। রায়ের দিন খালেদা জিয়া এবং তার কোন আইনজীবী আদালতে উপস্থিত ছিলেন না।[/su_heading]

বিএনপি নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া আরো এক মামলায় ৭ বছর সাজা পেলেন। ছবি- সংগৃহিত।

সকাল ১১ টার কিছু আগে বিচারক নাজিম উদ্দিন রোডের অস্থায়ী আদালতে আসেন। ১১টা ৩০ থেকে বিচারক সংক্ষিপ্ত রায় পড়া শুরু করেন। ক্ষমতায় থাকাকালীন সময়ে খালেদা জিয়া ক্ষমতার অপব্যবহার করে টাকা আত্মসাৎ করেছেন বলে রায়ের পর্যবেক্ষণে উঠে আসে। রায়ে খালেদা জিয়াসহ বাকি তিন জনকে ৭ বছরের কারাদণ্ড এবং ১০ লক্ষ টাকা জরিমানা করে। পলাতক থাকা খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক সচিব হারিছ চৌধুরীর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত।

সকালে এক আদেশে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার অনুপস্থিতিতেই জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলার বিচার চলবে বলে জানিয়েছেন আপিল বিভাগ। খালেদা জিয়ার আইনজীবীদের করা আদেশের প্রেক্ষিতে আদালত এ আদেশ দেন। যার ফলে আগে থেকেই নির্ধারিত থাকা জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলার রায় ঘোষণার অনিশ্চিয়তা কেটে যায়।

২০১০ সালের ৮ আগস্ট তেজগাঁও থানায় এ মামলা দায়ের করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।  মামলার এজাহার থেকে জানা যায়, চ্যারিটেবল ট্রাস্টের নামে অবৈধভাবে তিন কোটি ১৫ লাখ ৪০ হাজার টাকা লেনদেন করা হয়েছে। ২০১২ সালের ১৬ জানুয়ারি আদালতে এ মামলার অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়। এ মামলার খালেদা জিয়ার সাথে খালেদা জিয়ার সাবেক রাজনৈতিক সচিব হারিছ চৌধুরী, হারিছ চৌধুরীর তখনকার একান্ত সচিব জিয়াউল ইসলাম মুন্না ও ঢাকার সাবেক মেয়র সাদেক হোসেন খোকার একান্ত সচিব মনিরুল ইসলাম খানকে আসামি করা হয়। মামলার আগে থেকেই হারিছ চৌধুরী পলাতক রয়েছেন।

চলতি বছরের ৪ সেপ্টেম্বর এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে এ আদালতের কার্যক্রম বকশী বাজার থেকে স্থানান্তর করা হয় পুরাতন ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের প্রশাসনিক ভবনের ৭ নম্বর কক্ষে। গত ৫ সেপ্টেম্বর প্রথম সেখানে আদালত বসে।

ওইদিন খালেদা জিয়া আদালতে উপস্থিত হয়ে বিচারককে বলেন, তিনি অসুস্থ। বার বার তিনি এ আদালতে আসতে পারবেন না। যতদিন ইচ্ছা সাজা দিয়ে দিন।

বুধবার (১২ সেপ্টেম্বর) ধার্য তারিখে আবার সেখানে আদালত বসে। কিন্তু সেখানে উপস্থিত হতে অস্বীকৃতি জানান খালেদা জিয়া। ১৯ সেপ্টেম্বর খালেদা জিয়ার দুই আইনজীবী কারাগারে গিয়ে খালেদা জিয়ার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। ২০ সেপ্টেম্বর তাদের বক্তব্য শোনার পর বিচারক সিদ্ধান্ত দেন খালেদা জিয়ার অনুপস্থিতিতেই মামলাটির বিচার কাজ চলবে।

রাজধানীর নাজিমউদ্দিন রোডের পুরাতন কেন্দ্রীয় কারাগারে স্থাপিত অস্থায়ী বিশেষ জজ ৫ এর আদালত আখতারুজ্জামান রায়ের জন্য এদিন ধার্য করেছেন।

এ বছরের ৮ ফেব্রুয়ারি অপর আরেকটি মামলা জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় খালেদা জিয়াকে পাঁচ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেন আদালত। রায়ের পর থেকে খালেদা জিয়াকে রাজধানীর পুরনো ঢাকার নাজিম উদ্দিন রোডের সাবেক ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে রাখা হয়েছে। বর্তমানে তিনি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএসএমএমইউ) চিকিৎসাধীন।

এই মামলা ছাড়াও খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে নাইকো, গ্যাটকো এবং বড় পুকুরিয়া দুর্নীতি মামলা বিচারাধীন রয়েছে।