হুদাইদা বন্দরে অচলাবস্থা: প্রতি ১০ মিনিটে ইয়েমেনে ৫ বছরের কম বয়সী একজন শিশু’র মৃত্যু

প্রয়োজনীয় সরবরাহ সঠিক সময়ে না পৌঁছানোর কারণে ক্ষুধায় ও বিভিন্ন রোগে ভুগে মারা যাচ্ছে ইয়েমেনের শিশুরা। জাতিসংঘের একজন সিনিয়র কর্মকর্তা জানান, হুদাইদা বন্দরে প্রয়োজনীয় সরবরাহের ট্রাক আটকে থাকায় মানুষের ভোগান্তি চরমে।

A malnourished boy lies on a bed at a malnutrition treatment center in Sanaa, Yemen October 7, 2018. REUTERS/Khaled Abdullah

গ্রিট ক্যাপ্ল্যায়ার, ইউনিসেফের মধ্যপ্রাচ্যের পরিচালক জানান,  প্রধান বন্দরনগরী হুদাইদা ও রাজধানী সানা’র হাসপাতালে এই অপুষ্টিতে ভোগা শিশুদের দেখাটা সত্যিই হৃদয়বিদারক।    

[su_quote]তিনি বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে জানান, আমাদের কাছে থাকা তথ্যানুযায়ী প্রতি ১০ মিনিটে ৫ বছরের কম বয়সী একজন শিশু নিরাময়যোগ্য রোগের কারণে ও ভয়াবহ অপুষ্টিতে ভুগে এখানে মারা যাচ্ছে।[/su_quote]

জাতিসংঘ জানায়, ইয়েমেনের প্রায় ১৪ মিলিয়ন মানুষ অর্থাৎ ইয়েমেনের জনসংখ্যার প্রায় অর্ধেক মানব সৃষ্ট দুর্ভিক্ষের কিনারে দাঁড়িয়ে আছে৷ ইতিমধ্যেই ১.৮ মিলিয়ন ইয়েমেনের শিশু অপুষ্টিতে ভুগছে যাদের মধ্যে ৪ লক্ষের মতো শিশু ভয়াবহ অপুষ্টিজনিত রোগে আক্রান্ত।

কিন্তু এটাই সব নয়। অনেক শিশুই ভ্যাকসিনের অভাবে নিরাময়যোগ্য রোগে মারা যাচ্ছে। বর্তমানে ইয়েমেনে মাত্র ৪০ শতাংশ শিশুর টিকা দেওয়া আছে।

FILE – In this April 13, 2017, file photo, Yemenis present documents in order to receive food rations provided by a local charity, in Sanaa, Yemen (AP Photo/Hani Mohammed, File).

হাম, কলেরা ও ডিপথিরিয়া শিশুদের জন্য হুমকি হয়ে  দাঁড়িয়েছ। বিশেষত যাদের বয়স ৫ এবং অপুষ্টিতে ভুগছে তাদের ক্ষেত্রে এটা বেশি ভয়াবহ

ক্যাপ্ল্যায়ার বলে বর্বরোচিত যুদ্ধের কারণে যে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হয়েছে তার মধ্যে থেকে খুব বেশি কিছু এ অসহায় শিশুদের জন্য করা সম্ভব হচ্ছে না। আমরা এখন দুর্ভিক্ষের মধ্যে নেই তবে আমাদের অবশ্যই দুর্ভিক্ষের জন্য অপেক্ষা করা উচিত নয়। আমাদের উচিত উভয় পক্ষকে চাপ প্রয়োগের মাধ্যমে চলমান পরিস্থিতির উন্নয়ন ঘটানো।

তিনি আরও জানান, সাতটি ট্রাক হুদাইদা বন্দরে আটকে আছে যার সবক’টি ট্রাকেই আছে জীবন রক্ষাকারী ওষুধ, প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি। যদিও ইউনিসেফের একজন মুখপাত্র জানিয়েছেন হুদাইদা বন্দর থেকে ট্রাকগুলোকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।

ক্যাপ্ল্যায়ার বলেন, অসংখ্য শিশুরা ভয়াবহভাবে অপুষ্টিতে ভুগে হাসপাতালে ভর্তি। মায়েরা বলছে, অসুস্থ শিশুদের হাসপাতালে নিয়ে যাবার মতো টাকাও তাদের নেই।

হোদেইদা এ অঞ্চলে খাদ্য ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় সরবরাহের একমাত্র পথ। কিন্তু হুদাইদায় বন্দরে বেশ কিছুকাল ধরেই কোন কার্যবিধি চোখে পড়ছে না। বর্তমানে এটা বন্দরের অধিক একটা কবরস্থান।

সূত্র: রয়টার্স