পচা শামুকেই পা কাটলো বাংলাদেশ: ১৭ বছর পর জিতল জিম্বাবুয়ে

[su_heading size=”18″]এ যেন অভিষেকেই লজ্জা। দীর্ঘ ১১ মাস পরে সাদা জার্সিতে লাল বলের ঝলক দেখাল সফরকারী দল। তাও ১৭ বছর পর বিদেশের মাটিতে। অর্থের কারণে টেস্ট খেলতে না চাওয়া জিম্বাবুয়ে দলের কাছে হেরেছে বাংলাদেশ। তাও নিজেদের মাটিতে অভিষেক ভেন্যুতে।[/su_heading]

বাংলাদেশ জিতলে হয়ত অন্যভাবে নাম লিখাত টেস্টে অভিষেক হওয়া সিলেটের এই ভেন্যু। কিন্তু ইতিহাস হয়ে গেল লজ্জার। এ যেন বিসমিল্লায় গলত।

৩২১ রানের লক্ষ্যে খেলতে নেমে শুরুটা বেশ সতর্কভাবেই করেছিল বাংলাদেশ। আগের দিনের ২৬ রান নিয়ে ব্যাট করতে নেমে ভালোই খেলছিলেন দুই ওপেনার। এরপরই হঠাৎ ব্যাটিং ধস। আর এই বিপর্যয় সামলাতে পারেননি কেউই। তাই জিম্বাবুয়ের মতো দুর্বল দলের কাছেও বড় হারের লজ্জা পেতে হয়েছে স্বাগতিকদের। অবশেষে পচা শামুকেই পা কাটলো বাংলাদেশের। বাংলাদেশ হেরেছেন ১৫১ রানের বিশাল ব্যবধানে। এখন সিরিজে ১-০তে পিছিয়ে পড়েছে স্বাগতিক বাংলাদেশ।

এই ম্যাচে বাংলাদেশ দুই ইনিংসেই চরম ব্যাটিং ব্যর্থতা দেখিয়েছে। প্রথম ইনিংসে মাত্র ১৪৩ রান ও দ্বিতীয় ইনিংসে করে ১৬৯ রান।

সিকান্দার রাজা এই মুহূর্তে সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামের উপরে ঘুরপাক খাওয়া এক আতঙ্ক মেঘ। ১৭ ওভার বোলিং করে ৪৩ রানে ৩ উইকেট নিয়েছেন তিনি। বাংলাদেশের ওপেনিং জুটিতে আসে ৫৬ রান। প্রথম উইকেট হারায় লিটস দাসকে (২৩)। বেশিক্ষণ উইকেট থাকতে পারেননি অভিজ্ঞ মুমিনুল হক। তিনি করেন মাত্র ৯ রান। ইমরুল কায়েস ৪৩ রানে ফিরে গেলে দলের ব্যাটিংয়ে ধস নামে। দ্রুত প্যাভিলিয়নের পথ ধরেন অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ (১৬) ও নাজমুল হোসেন শান্ত (১৩)। মধ্যাহ্ন বিরতিতে যাওয়ার আগেই হারায় ৫ উইকেট। 

সে ধারাবাহিকতায় অন্যরা আসা যাওয়ায় ব্যস্ত থাকলেও কিছুটা ব্যতিক্রম ছিলেন অভিষিক্ত অরিফুল হক। দ্বিতীয় ইনিংসে তিনি করেন ৩৮ রান।

এর আগে জিম্বাবুয়ে প্রথম ইনিংসে ২৮২ রান করেছিল। জবাবে বাংলাদেশ মাত্র ১৪৩ রানে প্রথম ইনিংস গুটিয়ে নেয়। দ্বিতীয় ইনিংসে জিম্বাবুয়ে ১৮১ রান করলে স্বাগতিকদের সামনে তিন শতাধিক রানের কঠিন লক্ষ্য দাঁড় করাতে সক্ষম হয় সফরকারী দলটি।

বাংলাদেশ প্রথম ইনিংসে চরম ব্যাটিং ব্যর্থতা দেখায়। দেড় শতক করতে পারেনি। দলীয় আট রানের মাথায় প্রথমে ইমরুল কায়েস (৫) সাজঘরে ফিরেছিলেন। অল্প কিছুক্ষণের মধ্যে আরেক ওপেনার লিটন দাসও (৯) আউট হয়ে যান। তরুণ নাজমুল হোসেন শান্তও বেশিক্ষণ থাকতে পারেননি, পাঁচ রান করেই প্যাভিলিয়নের পথে রওনা হন। শূন্য রানে সাজঘরে ফেরেন অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহও।

জিম্বাবুয়ের সাথে ১ম টেস্টে না অন্যদের ব্যর্থতার দিনে দারুণ কিছু মুহূর্ত উপহার দিয়েছে অভিষিক্ত ব্যাটসম্যান আরিফুল হক ও বাংলাদেশি স্পিনার তাইজুল ইসলাম। আরিফুল হক ৪১ রানের হার না মানা চমৎকার একটি ইনিংস খেলেন। দ্বিতীয় ইনিংসে ৩৮ রান। তাইজুল ইসলামের উজ্জ্বলতা ছিল চোখে পড়ার মতো। তিনি প্রথম ইনিংসে ১০৮ রান খরচায় ছয় উইকেট নিয়েছিলেন। সাড়ে তিন বছর পর, টেস্ট ক্যারিয়ারে চতুর্থবারের মতো পাঁচ বা ততোধিক উইকেট নিলেন তিনি। আর দ্বিতীয় ইনিংসে পাঁচ উইকেট নিয়ে ম্যাচে মোট ১১ উইকেট পান।