এক বছর আয়ু নিয়ে পৃথিবীর সব বিখ্যাত রেস্তোরাঁয় ভ্রমণ শুরু ফাতিমা’র

বয়স মাত্র ২৯। কতই না সম্ভাবনা সাজানো ছিল সামনে। কিন্তু আচমকাই থমকে গেল সব। চিকিৎসকেরা জানিয়ে দিলেন, সব লড়াই ব্যর্থ হয়েছে। পাকিস্তানের সেলেব শেফ ফাতিমা আলি জানতে পেরে গিয়েছিলেন, আর মাত্র এক বছরের আয়ু তাঁর জন্য বরাদ্দ। ভেঙে পড়েছিলেন। চোখের সামনে নেমে এসেছিল অন্ধকার। কিন্তু বাকি গল্পটা এবার অন্য ভাবে লিখতে চান তিনি। গোটা বিশ্ব ছড়িয়ে থাকা বিখ্যাত রেস্তোরাঁগুলিতে যেতে চান ফাতিমা।

জনপ্রিয় মার্কিন সাপ্তাহিক ‘পিপল’-এ প্রকাশিত এক প্রতিবেদন থেকে জানা যাচ্ছে, গত শুক্রবার অ্যালেন ডিজেনেরাসের বিশ্বখ্যাত টক শো-তে অতিথি হিসেবে এসেছিলেন ফাতিমা। সেখানেই তিনি জানান, গত মাসে তিনি জানতে পেরেছেন, তার ক্যানসার ফিরে এসেছে। শুধু ফেরাই নয়, এবার মারণ ব্যাধি ফিরেছে আরও মারাত্মক হয়ে। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন আর এক বছরের বেশি আয়ু অবশিষ্ট নেই তার।


ফাতিমা জানিয়েছেন, মৃত্যুর ভয়ঙ্কর ছায়ার সামনে প্রথমে ঘাবড়ে গিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু পরে তিনি বুঝতে পারেন, একমাত্র ইতিবাচক মানসিকতার দ্বারা ও আশপাশের মানুষদের সঙ্গে অবিরাম মেলামেশার মাধ্যমেই মৃত্যুর বিরুদ্ধে লড়াইটা চালিয়ে যাওয়া যাবে।


গত জুলাই মাসেই ফাতিমা জানিয়েছিলেন, কেমোথেরাপির পরে তিনি আপাতত সুস্থ। কিন্তু অসুখ ফিরে আসে আবার। যখন চিকিৎসকেরা তাঁকে জানিয়েছিলেন ক্যানসার ফিরে আসার কথা, তখনই তিনি পরিষ্কার ভাবে জানতে চান, তার আয়ু আর কত দিন? উত্তর আসে, আর এক বছর।

এর পরে নতুন করে লড়াই শুরু হয় ফাতিমার। ক্যানসারের বিরুদ্ধে লড়াই শুরুর পরে পেরিয়ে গিয়েছে ১৪ মাস।


রোগ ধরা পড়ার আগে পর্যন্ত ফাতিমার উত্থান ছিল রূপকথার মতো। বাবা-মা রাজি ছিলেন না। তিনি নিজের জেদে পাকিস্তান থেকে মার্কিন মুলুকে আসেন পড়তে। এর পর ফুড নেটওয়ার্ক টিভি শো-তে তিনি পুরস্কার জেতেন। এর আগে কোনও পাকিস্তানি এই প্রতিযোগিতায় সাফল্য পাননি। ফাতিমার পাকিস্তানি পদ মন জিতেছিল সবার।


সম্ভাবনাময় কেরিয়ারের উজ্জ্বল দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থায় মৃত্যুর পদধ্বনি শোনা গেল। ২০১৭-তে ধরা পড়ল ক্যানসার। সারকোমা নামের হাড়ের এক রকম ক্যানসার হয়েছে ফাতিমার।

জীবনের সীমা চোখের সামনে ফুটে ওটার পরে ফাতিমার লক্ষ্য যত দিন বাঁচবেন ঘুরে দেখবেন পৃথিবী। দুনিয়ার যত ভাল রেস্তোরাঁ আছে, সেখানে যাবেন। কিন্তু এর জন্য চাই বিপুল অর্থ। শুক্রবারের শো-তে অ্যালেন ডিজেনেরাস তাকে শুনিয়েছেন এক দারুণ খবর। তার হাতে তুলে দিয়েছেন ৫০ হাজার মার্কিন ডলার। ফাতিমা যদি ওই বিপুল অর্থের পুরোটা খরচ করতে না পারেন, তাহলে বাকিটা চলে যাবে আমেরিকার সারকোমা ফাউন্ডেশনে।

সূত্র: Ebela